Saturday, January 10, 2026

তৃণমূলের পক্ষে ছয়ে ছয় বুঝেই হামলা, বিরোধীদের তোপ কুণালের

Date:

Share post:

উপনির্বাচন (By-election) সাধারণভাবে শাসকদলের পক্ষেই যায়। তবে একসঙ্গে ছয় কেন্দ্রের উপনির্বাচনের দিন বুথের ছবিই স্পষ্ট করে দিল বিরোধীদের খড়কুটোর মতো উড়ে যাওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী মিলে যেতে চলেছে। যদিও পরাজয় নিশ্চিত জেনে বেশ কিছু জায়গায় অশান্তি তৈরির চেষ্টা করে বিরোধীরা। তবে শাসকদলের দাবি, আদতে মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে বিরোধী বিশেষত বিজেপিকে। বিজেপির খুন-জখমের রাজনীতির তীব্র নিন্দা করা হয় শাসকদলের পক্ষ থেকে।

উপনির্বাচনেও অশান্ত ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল। তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় বিজেপিকেই (BJP) দায়ী করা হয় শাসকদলের পক্ষ থেকে। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের দাবি, “কিছু জায়গায় নাটক করার চেষ্টা বিরোধীদের। খুন জখমের রাজনীতি এই বিরোধীদের, এই বিজেপির। গো-হারা হারছে তাই আক্রান্ত হচ্ছে তৃণমূলের কর্মীরা। খুন করা হচ্ছে। এগুলো বিজেপির কীর্তি।” সেই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, “বিজেপির লোকজন নেই। তাদের বুথে লোক দিতে পারে না, কোনও সংগঠন নেই।” যদিও নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভাটপাড়ার খুনের সঙ্গে নির্বাচনের যোগ নেই।

হাড়োয়া (Haroa) কেন্দ্রে অশান্তির তৈরির চেষ্টা করেছিলেন বাম সমর্থিত আইএসএফ (ISF) প্রার্থী পিয়ারুল ইসলাম। তাঁকে হাতেনাতে ছাপ্পা ভোট দিতে আটকে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই রাজনীতিতেও বামেদের হালে কোনও পানি আসবে না বলেই দাবি শাসকদলের। কুণাল ঘোষের দাবি, “কোথায় সিপিআইএম (CPIM)? সোশ্য়াল মিডিয়ায় বড় বড় কথা। বামপন্থীদের নানারকম জোট। তাও তারা কোথাও নেই।”

অন্যদিকে মাদারিহাট (Madarihat) এই ছয় কেন্দ্রের মধ্যে একমাত্র কেন্দ্র যা এবার বিজেপির থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার পথে রাজ্যের শাসকদল। তার কারণ হিসাবেও সেই প্রাক্তন বিজেপি বিধায়কের অনুন্নয়নের তত্ত্ব নির্বাচনের দিন উঠে এলো। বিজেপি প্রার্থী রাহুল লোহার মুজনাই এলাকায় গেলে স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। এতদিন বিজেপির নেতা-কর্মীরা কোথায় ছিলেন প্রশ্ন তুলে তাঁরা এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেন বিজেপি প্রার্থীকে। পাথর ছোঁড়া হয় তার গাড়িতে।

কমিশনের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী ছয় কেন্দ্রে ভোটদানের গড় ৬৯.২৯ শতাংশ। সবথেকে বেশি ভোট পড়েছে বাঁকুড়ার তালডাংরায়, ভোটদানের হার ৭৫.২ শতাংশ। সবথেকে কম ভোট নৈহাটিতে পড়েছে, ৬২.১ শতাংশ। কমিশনের দাবি নির্বাচন শান্তিপূর্ণ। এরপরেও বিরোধীদের বিশেষত বিজেপি নেতাদের দাবি কেন্দ্রীয় বাহিনীর অপব্যবহার হয়েছে। পাল্টা কুণাল ঘোষের দাবি, “বিজেপি নেতারা কেন্দ্রীয় বাহিনী বলে হুমকি দেয়। এখন কেন্দ্রীয় বাহিনী কি করল বলে কাঁদছে। লোকজন নেই, বাংলার স্বার্থে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নীতি নেই। নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে অজুহাত দিচ্ছে।”

spot_img

Related articles

বন্ধ হিন্দমোটর কারখানার পরিত্যক্ত আবাসনে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেফতার ১

হুগলির উত্তরপাড়ায় বন্ধ কারখানায় ১৬ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়ালো। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কিশোরী তার বন্ধুর সঙ্গে বন্ধ...

সামান্য কমল পারদ, রাজ্যে জারি শীতের স্পেল!

শনিবার সকালে ভরপুর শীতের (Winter) আমেজ। হাওয়া অফিস (Weather Department) বলছে শুক্রবার কলকাতার তাপমাত্রা বাড়লেও এদিন ফের নিম্নমুখী...

ধুলাগড়ের কাছে রাসায়নিক বোঝাই লরিতে আগুন, পুড়ে ছাই বাস – গাড়ি 

হাওড়ার ধুলাগড় বাসস্ট্যান্ডের (Dhulagar bus stand) কাছে রাসায়নিক বোঝাই লরিতে অগ্নিকাণ্ডের জেরে মুহূর্তে দাউ দাউ জ্বলে উঠল বাস।...

আজ বাঁকুড়ায় অভিষেকের রণসংকল্প যাত্রা ঘিরে উন্মাদনা তুঙ্গে

বারুইপুর, আলিপুরদুয়ার, বীরভূম, মালদহ ঠাকুরনগরের পর এবার রণসংকল্প যাত্রায় শনিবার বাঁকুড়ায় সভা করতে চলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।...