Monday, June 22, 2026

পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের কৃতিত্ব, মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে জোড়া খুনের কিনারা

Date:

Share post:

পুলিশ যাওয়ার আগে পর্যন্ত বর্ধমানের মিঠাপুকুরের পূর্ত দফতরের আবাসনের সামন্ত পরিবারের মধ্যে কোনও অস্বাভাবিকতা বুঝতে পারেননি অন্য আবাসিকরা। এমনকী স্থানীয়দের দাবি, ওই পরিবারের চারজন সদস্যই স্বাভাবিকভাবেই রাস্তায় যাতায়াত করেছেন। দোকান-বাজার করেছেন। প্রত্যেকেরই একটাই প্রশ্ন, বৃদ্ধ দম্পতিকে ‘খুন করার’ পরে ওই পরিবার কীভাবে ঠান্ডা মাথায় থেকেছেন? যদিও সামন্ত পরিবারের কর্তা, পূর্ত দফতরের বর্ধমান ডিভিশনের চতুর্থ শ্রেণি কর্মী প্রতাপ সামন্তর দাবি, ওই বৃদ্ধ দম্পতি খুনের বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। বরং তিনিও অন্যদের মতো ধৃতদের শান্ত আচরণে অবাকই হচ্ছেন।

মঙ্গলবার ভাতারের রবীন্দ্রপল্লি থেকে বৃদ্ধ দম্পতি, অভিজিৎ যশ (৭২) ও ছবিরানি যশ (৬৫)-র পচাগলা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশের দাবি, শ্বাসরোধ করে শনিবার সকালে ওই দম্পতিকে খুন করা হয়েছে। ওই খুনে জড়িত থাকার সন্দেহে প্রতাপের স্ত্রী মহুয়া সামন্ত ওরফে কেয়া, তার দুই ছেলে অনিকেত ও অরিত্রকে পুলিশ মঙ্গলবার রাতেই গ্রেফতার করেছে। বর্ধমান আদালতে যাওয়ার পথে মহুয়ার দাবি, এটা একটা অনিচ্ছাকৃত ঘটনা। সে জন্যেই স্বাভাবিক ছিলাম। আমার স্বামীও কিছু জানত না। আবাসিকদের দাবি, বাজারে মহুয়ার কয়েক লক্ষ টাকার দেনা ছিল। ভাতারের নর্জা মোড়ে হোটেল খুলেছিলেন মহুয়া, সেখানেও তার দেনা ছিল। পাওনাদাররা প্রতিদিন বাড়িতে ‘হানা’ দিত।

জানা গিয়েছে, কলকাতা থেকে বছর দশেক আগে বর্ধমান পূর্ত দফতরে বদলি হয়ে আসেন প্রতাপ। সে সময় থেকেই মিঠাপুকুরের পূর্ত দফতরের একটি আবাসনের এক তলায় থাকতেন। সেখানকার আবাসিকদের দাবি, শনিবার সকালে মা ও দুই ছেলেকে তারা বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের দিকে যেতে দেখেছিলেন। আবার সন্ধের সময় আবাসনের মাঠেও তাদের দেখা যায়। তাদের দাবি, অনিকেত মালদার একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সিভিল বিভাগের আর ছোট ছেলে অরিত্র হুগলির আদি সপ্তগ্রামে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ইলেক্ট্রনিক্স বিভাগের ছাত্র। দু’জনেই হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করেন। সে জন্যে তারা ভেবেছিলেন, ছেলেদের পড়ার জন্যেই তারা কোথাও গিয়েছিলেন।

স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত প্রামাণিকের দাবি, তার সঙ্গেও ওই মহিলার রাস্তায় দেখা হয়েছিল। কুশল বিনিময়ও হয়। কিন্তু তাকে দেখে অন্য কিছু মনে হয়নি। এলাকার একাংশের দাবি, অনিকেতকে রাস্তায় ঘুরতে দেখা গিয়েছে। মিঠাপুকুর মোড় থেকে চপও কিনে নিয়ে এসেছেন। মহুয়া ও অরিত্রকে রিকশা করে ঘুরতে দেখা গিয়েছে, সোনার দোকানেও তারা গিয়েছিলেন। আবার গোলাপবাগ মোড়ে নতুন একটি বহুজাতিক সংস্থার দোকানেও দেখা গিয়েছে।

মনোবিদ সপ্তর্ষি অধিকারী বলেন, ওঁরা আসলে মানসিক-বিকারগ্রস্ত ছিলেন। ছোট ছোট ঘটনার মাধ্যমে তাদের চরিত্র ধরা যায়, কিন্তু আমরা সেই সব ঘটনা ধর্তব্যের মধ্যে আনি না। বড় কোনও ঘটনার পরে বোঝা যায়। সে কারণেই বড় ঘটনা ঘটিয়ে দেওয়ার পরেও ওদের মধ্যে তাপউত্তাপ থাকে না। এ ক্ষেত্রেও সেই ঘটনাই ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে।

 

Related articles

তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ-বহিষ্কৃতদের ওয়ার্কিং কমিটির নয়া চেয়ারম্যান অরূপ রায়, পদ পেলেন ফিরহাদ-অরূপও

উদ্দেশ্য ছিল নতুন ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি তথা জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করা। সেই মতো সোমবার বিকেলে নিউ টাউনের হোটেলে...

রোনাল্ডোকে নিয়েই অশান্তি পর্তুগাল শিবিরে? জবাব দিলেন কোচ মার্টিনেজ

বিশ্বকাপে কঙ্গোর বিপক্ষে ড্র করা ম্যাচের পর মঙ্গলবার পর্তুগালের(Portugal)  প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান। প্রথম ম্যাচ ড্র করার পর থেকে কম...

মহানগরে হরিহরণের সঙ্গীত জীবনের ৫০ বছর উদযাপন, গজল সন্ধ্যায় মাতল নজরুল মঞ্চ

গানের শহর কলকাতায় সুরের জাদু ছড়ালেন 'উস্তাদ-এ-গজল' হরিহরণ (Hariharan)। ২০ জুন (২০২৬) কলকাতার নজরুল মঞ্চে বসেছিল তাঁর একক...

লখনউয়ের কোচিং সেন্টারে আগুন, মৃত ১৫ 

ভয়ঙ্কর ঘটনা! এবার লখনউয়ের কোচিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডের (Lucknow Fire) ঘটনায় মৃত ১৫। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, সেখানে এখনও...