Sunday, April 26, 2026

‘গঙ্গাসাগর সেতু’ করছে রাজ্য, সুযোগ পেলে গঙ্গাসাগরকে জাতীয় মেলার মর্যাদা দেব: মুখ্যমন্ত্রী

Date:

Share post:

কেন্দ্রীয় সরকার কুম্ভমেলায় হাজার-হাজার কোটি টাকা দেয়। অথচ গঙ্গাসাগর মেলায় ১ কোটির বেশি লোক এলেও এতদিনে এই মেলাকে ‘জাতীয় মেলা’ বলে ঘোষণা করা হয়নি। আমরা সবাই ক্ষমতায় এলে এই ঘোষণার ব্যবস্থা করব। সোমবার, গঙ্গাসাগরের (Gangasagr) অনুষ্ঠান থেকে জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে মুড়িগঙ্গায় ‘‌গঙ্গাসাগর সেতু’‌ নির্মাণের কথা ঘোষণা করেন রাজ্যের প্রশানিক প্রধান।
আরও খবর: বাংলাদেশে এপারের মৎস্যজীবীদের অত্যাচার করা হয়! আর্থিক সাহায্য তুলে দিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার

এদিন মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, গঙ্গাসাগর মেলার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার কোনও অনুদান দেয় না। কুম্ভমেলায় কোটি কোটি টাকা খরচ করে মোদি সরকার। অথচ গঙ্গাসাগর এক কোটির মতো দেশের বিভিন্ন প্রান্ত পুণ্যার্থী গঙ্গাসাগরে এলেও কোনও হয় না। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি বারবার কেন্দ্রীয় সরকারকে বলেছিলাম এখানে সাহায্য করতে। যাতে এখানে আসা পুণ্যার্থীরা সহজে পরিষেবা পেতে পারেন। ওদের দিকে তিন–চার বছর তাকিয়ে ছিলাম। কিন্তু ওরা টাকা দেয়নি। মানে আর দেবেও না। তাই আমরাই সব ব্যবস্থা করে দিয়েছি।“

মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) জানান, ‘‌গঙ্গাসাগর সেতু’‌ গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। স্থলভাগের মূল ভুখণ্ডের সঙ্গে জুড়তে চলেছে সাগরদ্বীপ। চার বছরের মধ্যে গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে রাজ্য সরকারের পূর্ত দফতর। ২০২৯ সালের জানুয়ারি মাসে সোজা গাড়ি নিয়ে কপিল মুনির আশ্রম পর্যন্ত পুণ্যার্থীরা গঙ্গাসাগর মেলায় চলে আসতে পারবেন যখন তখন কলকাতা থেকে । মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “এই সেতু কেন্দ্রীয় সরকারের তৈরি করে দেওয়ার কথা। এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আমায় কথা দিয়েছিলেন এই সেতু তৈরি করে দেবেন। কিন্তু কথা রাখেননি। তাই আমরাই গঙ্গাসাগর সেতু তৈরি করে দেবো সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ডিপিআর হয়ে গিয়েছে। টেন্ডারও পেয়ে গিয়েছে।“ কাজ শেষ করতে চার বছর সময় লাগবে এবং সরকারিভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা খরচ হবে জানান মমতা। ৫ কিমি লম্বা এবং চার লেনের ওই সেতুর নাম হবে গঙ্গাসাগর সেতু বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

এতদিনেও গঙ্গাসাগর মেলাকে ‘জাতীয় মেলা’ বলে ঘোষণা করেনি কেন্দ্র। মমতা বলেন, “কোনও দিন যদি সুযোগ আসে গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলা কীভাবে করা যায় দেখব। আমাদের দল যদি সুযোগ পায়, আমি একা নই, আমরা সবাই যে কেউ যদি সুযোগ পাই গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলার মর্যাদা দেব।“ মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “জাতীয় মেলা হিসেবে কোটি কোটি টাকা পাওয়ায় কুম্ভমেলায় সাধারণ মানুষ সড়কপথে হোক কিংবা আকাশপথ, সরাসরি গিয়ে নামতে পারে। কিন্তু গঙ্গাসাগরে যেতে গেলে একেক জনকে জল পার করতে হয়। এটা ভীষণ কষ্টকর।“

Related articles

এলাকায় বাইক বাহিনী! পুলিশ-প্রশাসনকে পদক্ষেপের নির্দেশ কমিশনের, কটাক্ষ তৃণমূলের

বাইক থেকে 'জয় বাংলা' স্লোগান দেওয়া হচ্ছে এই ভিডিও পোস্ট করে পুলিশ-প্রশাসনকে কড়া ব্যবস্থা নিতে বলল নির্বাচন কমিশন...

রবিবার সকালে আকাশের মুখ ভার, দুপুরের পরেই ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস!

প্রবল গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি মিলবে কি, সকালে আকাশের চেহারা দেখে ঠিক এমন প্রশ্নই ঘোরাফেরা করছে দক্ষিণবঙ্গবাসীর মনে।...

পদযাত্রা থেকে জনসভা, আজ নিজের কেন্দ্রে ভোট প্রচারে মমতা 

বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফায় হাইভোল্টেজ ভবানীপুর (Bhawanipur) কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী স্বয়ং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বাংলার...

সোনা পাপ্পু মামলায় রবিবার সকালে শহরে ফের ইডি হানা

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফা শুরুর আগে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতি সক্রিয়তা। একদিকে যখন মহানগরীতে জোরকদমে চলছে প্রচার, ঠিক...