Saturday, May 16, 2026

‘গঙ্গাসাগর সেতু’ করছে রাজ্য, সুযোগ পেলে গঙ্গাসাগরকে জাতীয় মেলার মর্যাদা দেব: মুখ্যমন্ত্রী

Date:

Share post:

কেন্দ্রীয় সরকার কুম্ভমেলায় হাজার-হাজার কোটি টাকা দেয়। অথচ গঙ্গাসাগর মেলায় ১ কোটির বেশি লোক এলেও এতদিনে এই মেলাকে ‘জাতীয় মেলা’ বলে ঘোষণা করা হয়নি। আমরা সবাই ক্ষমতায় এলে এই ঘোষণার ব্যবস্থা করব। সোমবার, গঙ্গাসাগরের (Gangasagr) অনুষ্ঠান থেকে জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে মুড়িগঙ্গায় ‘‌গঙ্গাসাগর সেতু’‌ নির্মাণের কথা ঘোষণা করেন রাজ্যের প্রশানিক প্রধান।
আরও খবর: বাংলাদেশে এপারের মৎস্যজীবীদের অত্যাচার করা হয়! আর্থিক সাহায্য তুলে দিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার

এদিন মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, গঙ্গাসাগর মেলার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার কোনও অনুদান দেয় না। কুম্ভমেলায় কোটি কোটি টাকা খরচ করে মোদি সরকার। অথচ গঙ্গাসাগর এক কোটির মতো দেশের বিভিন্ন প্রান্ত পুণ্যার্থী গঙ্গাসাগরে এলেও কোনও হয় না। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি বারবার কেন্দ্রীয় সরকারকে বলেছিলাম এখানে সাহায্য করতে। যাতে এখানে আসা পুণ্যার্থীরা সহজে পরিষেবা পেতে পারেন। ওদের দিকে তিন–চার বছর তাকিয়ে ছিলাম। কিন্তু ওরা টাকা দেয়নি। মানে আর দেবেও না। তাই আমরাই সব ব্যবস্থা করে দিয়েছি।“

মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) জানান, ‘‌গঙ্গাসাগর সেতু’‌ গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। স্থলভাগের মূল ভুখণ্ডের সঙ্গে জুড়তে চলেছে সাগরদ্বীপ। চার বছরের মধ্যে গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে রাজ্য সরকারের পূর্ত দফতর। ২০২৯ সালের জানুয়ারি মাসে সোজা গাড়ি নিয়ে কপিল মুনির আশ্রম পর্যন্ত পুণ্যার্থীরা গঙ্গাসাগর মেলায় চলে আসতে পারবেন যখন তখন কলকাতা থেকে । মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “এই সেতু কেন্দ্রীয় সরকারের তৈরি করে দেওয়ার কথা। এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আমায় কথা দিয়েছিলেন এই সেতু তৈরি করে দেবেন। কিন্তু কথা রাখেননি। তাই আমরাই গঙ্গাসাগর সেতু তৈরি করে দেবো সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ডিপিআর হয়ে গিয়েছে। টেন্ডারও পেয়ে গিয়েছে।“ কাজ শেষ করতে চার বছর সময় লাগবে এবং সরকারিভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা খরচ হবে জানান মমতা। ৫ কিমি লম্বা এবং চার লেনের ওই সেতুর নাম হবে গঙ্গাসাগর সেতু বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

এতদিনেও গঙ্গাসাগর মেলাকে ‘জাতীয় মেলা’ বলে ঘোষণা করেনি কেন্দ্র। মমতা বলেন, “কোনও দিন যদি সুযোগ আসে গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলা কীভাবে করা যায় দেখব। আমাদের দল যদি সুযোগ পায়, আমি একা নই, আমরা সবাই যে কেউ যদি সুযোগ পাই গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলার মর্যাদা দেব।“ মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “জাতীয় মেলা হিসেবে কোটি কোটি টাকা পাওয়ায় কুম্ভমেলায় সাধারণ মানুষ সড়কপথে হোক কিংবা আকাশপথ, সরাসরি গিয়ে নামতে পারে। কিন্তু গঙ্গাসাগরে যেতে গেলে একেক জনকে জল পার করতে হয়। এটা ভীষণ কষ্টকর।“

Related articles

নবম-দশমে বাধ্যতামূলক ৩ ভাষা পড়া: জুলাই থেকে কার্যকর CBSE নির্দেশিকা

নবম ও দশম শ্রেণির ক্ষেত্রে এবার থেকে বাধ্যতামূলকভাবে তিনটি ভাষা পড়তে হবে। নির্দেশিকা জারি করে জানালো সিবিএসই (CBSE)...

দশ লাখে প্রশ্ন কিনে নিটে প্রাপ্তি মোটে ১০৭! পর্দাফাঁস হতেই গা ঢাকা দিল মূল অভিযুক্তের ছেলে

নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার পর বাতিল হয়েছে এই বছরের পরীক্ষা। পরীক্ষার নামে এই ধরণের প্রহসন নিয়ে উত্তাল গোটা...

পুলগাঁওয়ে ফায়ারিং প্র্যাকটিসের মাঝে চরম অশান্তি! জুনিয়রকে লক্ষ্য করে মেজরের গুলি, মৃত সুবেদার মেজর

সেনা ক্যাম্পে ফায়ারিং প্র্যাকটিসের সময়ে জুনিয়র কমিশনড অফিসার সুবেদার মেজর ওম বাহাদুর খণ্ডকে গুলি করে খুন। মেজর মনন...

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার উত্তরবঙ্গে শুভেন্দু, বৃহস্পতিবার বৈঠক দুর্গাপুরেও 

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর প্রশাসনিক কাজকর্মে গতি আনতে এবং জেলাস্তরে সরাসরি নজরদারি চালাতে তৎপর নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী পদে...