Saturday, June 27, 2026

‘গঙ্গাসাগর সেতু’ করছে রাজ্য, সুযোগ পেলে গঙ্গাসাগরকে জাতীয় মেলার মর্যাদা দেব: মুখ্যমন্ত্রী

Date:

Share post:

কেন্দ্রীয় সরকার কুম্ভমেলায় হাজার-হাজার কোটি টাকা দেয়। অথচ গঙ্গাসাগর মেলায় ১ কোটির বেশি লোক এলেও এতদিনে এই মেলাকে ‘জাতীয় মেলা’ বলে ঘোষণা করা হয়নি। আমরা সবাই ক্ষমতায় এলে এই ঘোষণার ব্যবস্থা করব। সোমবার, গঙ্গাসাগরের (Gangasagr) অনুষ্ঠান থেকে জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে মুড়িগঙ্গায় ‘‌গঙ্গাসাগর সেতু’‌ নির্মাণের কথা ঘোষণা করেন রাজ্যের প্রশানিক প্রধান।
আরও খবর: বাংলাদেশে এপারের মৎস্যজীবীদের অত্যাচার করা হয়! আর্থিক সাহায্য তুলে দিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার

এদিন মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, গঙ্গাসাগর মেলার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার কোনও অনুদান দেয় না। কুম্ভমেলায় কোটি কোটি টাকা খরচ করে মোদি সরকার। অথচ গঙ্গাসাগর এক কোটির মতো দেশের বিভিন্ন প্রান্ত পুণ্যার্থী গঙ্গাসাগরে এলেও কোনও হয় না। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি বারবার কেন্দ্রীয় সরকারকে বলেছিলাম এখানে সাহায্য করতে। যাতে এখানে আসা পুণ্যার্থীরা সহজে পরিষেবা পেতে পারেন। ওদের দিকে তিন–চার বছর তাকিয়ে ছিলাম। কিন্তু ওরা টাকা দেয়নি। মানে আর দেবেও না। তাই আমরাই সব ব্যবস্থা করে দিয়েছি।“

মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) জানান, ‘‌গঙ্গাসাগর সেতু’‌ গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। স্থলভাগের মূল ভুখণ্ডের সঙ্গে জুড়তে চলেছে সাগরদ্বীপ। চার বছরের মধ্যে গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে রাজ্য সরকারের পূর্ত দফতর। ২০২৯ সালের জানুয়ারি মাসে সোজা গাড়ি নিয়ে কপিল মুনির আশ্রম পর্যন্ত পুণ্যার্থীরা গঙ্গাসাগর মেলায় চলে আসতে পারবেন যখন তখন কলকাতা থেকে । মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “এই সেতু কেন্দ্রীয় সরকারের তৈরি করে দেওয়ার কথা। এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আমায় কথা দিয়েছিলেন এই সেতু তৈরি করে দেবেন। কিন্তু কথা রাখেননি। তাই আমরাই গঙ্গাসাগর সেতু তৈরি করে দেবো সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ডিপিআর হয়ে গিয়েছে। টেন্ডারও পেয়ে গিয়েছে।“ কাজ শেষ করতে চার বছর সময় লাগবে এবং সরকারিভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা খরচ হবে জানান মমতা। ৫ কিমি লম্বা এবং চার লেনের ওই সেতুর নাম হবে গঙ্গাসাগর সেতু বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

এতদিনেও গঙ্গাসাগর মেলাকে ‘জাতীয় মেলা’ বলে ঘোষণা করেনি কেন্দ্র। মমতা বলেন, “কোনও দিন যদি সুযোগ আসে গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলা কীভাবে করা যায় দেখব। আমাদের দল যদি সুযোগ পায়, আমি একা নই, আমরা সবাই যে কেউ যদি সুযোগ পাই গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলার মর্যাদা দেব।“ মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “জাতীয় মেলা হিসেবে কোটি কোটি টাকা পাওয়ায় কুম্ভমেলায় সাধারণ মানুষ সড়কপথে হোক কিংবা আকাশপথ, সরাসরি গিয়ে নামতে পারে। কিন্তু গঙ্গাসাগরে যেতে গেলে একেক জনকে জল পার করতে হয়। এটা ভীষণ কষ্টকর।“

Related articles

এলন মাস্কের পরই শঙ্খ মিত্র, সিইও-দের আয়ের নিরিখে বিশ্বে ২ নম্বরে যাদবপুরের প্রাক্তনী

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তনীর প্রতিদিনের বেতন ২৮ কোটি টাকা! নিশ্চই অবাক হচ্ছেন। কিন্তু এটাই বাস্তব এলেন মাস্ক হলেন বিশ্বের...

ইন্দিরা-সিদ্ধার্থের জমানা ফিরিয়ে আনতে চাইছে!পুলিশ বিল নিয়ে সরব কল্যাণ

সোমবার বিধানসভার একটি বিশেষ জরুরি অধিবেশনে পেশ হতে চলেছে The West Bengal Public Safety and Control of Anti-social...

৩ মাস ধরে মেয়ে নিখোঁজ, কষ্টের মধ্যেও ভবঘুরে তরুণীর জন্য মানবিক উদ্যোগ অসহায় বাবার

১৩ মার্চ থেকে নিখোঁজ মেয়ে(Missing Daughter), মাঝে আশার আলো দেখেছিলেন বাবা। কিন্তু সেই আশা বিলীন হয়ে গেল। দুর্গাপুরে...

শহিদ দিবসের কর্মসূচি ঘোষণা, কংগ্রেসের নিশানায় মনীশ গুপ্ত

বিগত কয়েক দশকে ২১ জুলাই ধর্মতলায় শহিদ তপর্ণ ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তি প্রর্দশনের মঞ্চ। কংগ্রেস পৃথকভাবে মহাজাতি সদনে...