Thursday, April 23, 2026

ওড়িশার বাঘ নিজেরা ফেরাক, রাখতে না পরলে চিরকালের মতো পাঠাক: বার্তা অসন্তুষ্ট মমতা

Date:

Share post:

বাংলার বন দফতর বাঘিনী জিনাতকে (tigress zeenat) ফেরৎ পাঠাতে যে পথ অবলম্বন করেছে তা একটি মডেল। সেই স্বীকৃতি বিজেপি শাসিত ওড়িশা (Odisha) থেকে পাওয়া যায়নি। উপরন্তু জিনাতকে সুস্থভাবে ফেরৎ পাঠানোর এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই ফের বাংলার সীমানায় বাঘের আতঙ্ক। বাংলার জনজীবনকে বারবার যেভাবে ওড়িশার বন্যপ্রাণীর কারণে ব্যাহত হতে হচ্ছে, এবার তাতেই ওড়িশা প্রশাসনের উপর তোপ দাগলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। ওড়িশা সরকারের বাঘের মতো বন্যপ্রাণকে রক্ষা করার ক্ষমতা নেই, অভিযোগ করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।

ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) সরাইকেলা জেলায় ফের গবাদি পশু বন্যপ্রাণীর হাতে মারা যাওয়ার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ায়। ঝাড়খণ্ডের বন দফতর ট্র্যাপ ক্যামেরা (trap camera) বসিয়ে নজরদারি শুরু করে। সম্প্রতি তিন বছরের জিনাতের অত্যাচারে বাংলার পাঁচ জেলার মানুষের জনজীবন ব্যাহত হওয়ার পরে নতুন করে বাঘের আতঙ্ক ছড়ানোয় স্বভাবতই ক্ষুব্ধ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, ওড়িশা সরকার বাঘ পাঠালে চিরকালের জন্য পাঠাক। আমরা রেখে দিচ্ছি। ওদের জায়গা না থাকলে আমাদের টাইগার রেসকিউ সেন্টার (tiger rescue center) আছে, আমাদের গভীর জঙ্গল আছে আমরা রেখে দিচ্ছি। ওদের রাখবার জায়গা নেই।

সম্প্রতি বাংলার বন দফতর যেভাবে জিনাতকে উদ্ধার করে ওড়িশা (Odisha) সরকারের হাতে তুলে দেয় ফের একবার তার ভূয়সী প্রশংসা করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, যে কায়দায় ধরেছে সেটা একটা মডেল (model)। কোনওভাবে বাঘটিতে আহত না করে ধরা হয়েছে। সেই সঙ্গে অভিযোগ করেন, বাঘটাকে নিয়ে গিয়ে জলের মধ্যে ছেড়ে দিলে। জল পেরোতে কতক্ষণ। আবার একটা চলে এসেছে।

রাজ্যের বন কর্মীদের হয়রানির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বাঘের কারণে অসহায়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। তিনি তুলে ধরেন, আমাদের লোকেরা পাঁচদিন ধরে পাঁচ রাত না ঘুমিয়ে। পাঁচটি জেলা (five districts) বন্ধ রেখে, মানুষ ঘর থেকে বেরোতে পারেনি। স্কুল বন্ধ রাখতে হয়েছে। সবসময় আমাদের দোষ দেবেন না।

তবে এবার ওড়িশা প্রশাসনকেই তাঁদের বাঘ উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, নিজেদের বন দফতরের (forest department) দল পাঠান। আর নিজেদের বাঘ উদ্ধার করুন। যাতে আমাদের মানুষ অসুবিধায় না পড়েন। কারণ আমাদের পাঁচ জেলার মানুষ খুব দুর্ভোগে পড়েছেন। বন্যজন্তুদের আমরা ভালোবাসি, তাদের নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের কাজ। তেমনই একটা মানুষের জীবনেরও দাম আছে। মানুষের জীবনও রক্ষা করতে হবে।

Related articles

৭২ ঘণ্টা বাইক বন্ধ কেন? ক্ষমতার অপব্যবহার! কমিশনকে ভর্ৎসনা হাই কোর্টের

সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) অতিসক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ আদালত। বৃহস্পতিবার, ভোটগ্রহণের তিনদিন আগে থেকে মোটরবাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞাকে...

ভারত নরক, ভারতীয়রা গ্যাংস্টার! ‘বন্ধু’ ট্রাম্পের নতুন ‘উপহার’

নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে চরম বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও ভারতীয়দের বিঁধতে ছাড়লেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। একটি পডকাস্টে গিয়ে সরাসরি...

সুপ্রিম আদালতে ইডি বনাম আইপ্যাক মামলায় সিবিআই তদন্তের আর্জি কেন্দ্রীয় এজেন্সির

তৃণমূলের ভোট পরিচালন সংস্থা আইপ্যাকের কলকাতা অফিসে ও প্রতীক জৈনের বাড়িতে ED অভিযান সংক্রান্ত মামলায় এবার সিবিআই হস্তক্ষেপের...

কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতি সক্রিয়তা! বৈধ নথি সত্ত্বেও তৃণমূল এজেন্টকে ঢুকতে বাধা

অশান্তি ঠেকাতে দেখা মিলছে না কেন্দ্রীয় বাহিনী। আক্রান্ত হচ্ছেন প্রার্থীরাও। সেখানে যেন একমাত্র বুথ আগলানোই কাজ কেন্দ্রীয় বাহিনীর...