Sunday, January 11, 2026

অক্সিটোসিনের অতিরিক্ত ব্যবহার! সিজার করেননি কর্তব্যরত সিনিয়র ডক্টর: বিস্ফোরক অভিযোগ রিপোর্টে

Date:

Share post:

অক্সিটোসিনের অতিরিক্ত ব্যবহার। ফলে মেদিনীপুর হাসপাতালে (Medinipur Medical College And Hospital) এক প্রসূতির মৃত্যু এবং ৩ জনের অবস্থা সঙ্কটজনক। স্বাস্থ্য ভবনে জমা পড়া তদন্ত বোর্ডের সাড়ে পাঁচ পাতার রিপোর্টে এমনটাই অভিযোগ। রিপোর্টে লেখা হয়েছে, “অক্সিটোসিনের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলেই প্রসূতিদের শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হয়। রীতি না মেনে ৫ রোগীকে হাই ডোজে অক্সিটোসিন (Oxytocin) দেওয়া হয়। নির্ধারিত ১০ ইউনিটের বদলে ১৫-২৫ ইউনিট অক্সিটোসিন দেওয়া হয় ওই প্রসূতিদের।“ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, “অক্সিটোসিনের ডোজ বেশি হওয়ায় প্রসূতিদের রক্তচাপ নেমে যায়।“ একই সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, ডিউটিতে থাকলেও প্রসূতিদের সিজার করেননি সিনিয়র ডাক্তার।

সোমবারই তৃণমূলের (TMC) তরফ থেকে অফিযোগ করা হয়, এই স্যালাইন কাণ্ডের আড়ালে কী আছে সেটা খুঁজে দেখতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্তরা নিজেরা ডিউটিতে ছিলেন কি না, এখন নজর ঘোরাতে অন্য ইস্যু আনা হচ্ছে কি না-প্রশ্ন তোলে শাসকদল। তদন্তকমিটির সম্পূর্ণ রিপোর্ট জমা পড়তে দেখে গেল, সেখানে উল্লেখ রয়েছে যে, সেই রাতে ডিউটিতে আরএমও ছিলেন। তিনিই সিনিয়র চিকিৎসক। তাঁরই অস্ত্রোপচার করার কথা ছিল। কিন্তু যে সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, তিনি ওটিতে গিয়েও ছিলেন। কিন্তু তিনি সিজার করেননি! PGT-দের দিয়ে অপারেশন করানো হয়েছে- বলে রিপোর্টে উল্লেখ।

স্বাস্থ্য ভবনের গড়া তদন্ত দলের সাড়ে পাঁচ পাতার ফাইনাল রিপোর্টে (Final Report) উল্লেখ, কোনও প্রোটোকল না মেনেই নাকি পাঁচ প্রসূতিকে অক্সিটোসিনের (Oxytocin) হাই ডোজ দেওয়া হয়েছিল। ১০ ইউনিটের বদলে সবাইকে ১৫ থেকে ২৫ ইউনিট অক্সিটোসিন দেওয়া হয়। অতিরিক্ত রক্তপাত রুখতে এই অক্সিটোসিন ব্যবহার করা হয়। কিন্তু একজন ছাড়া আর কোনও রোগীর রক্তপাত বেশি হয়েছে বলে টিকিটে লেখা ছিল না। অতিরিক্ত অক্সিটোসিনের কারণে প্রসূতিদের রক্তচাপ দ্রুত কমে যায় বলে রিপোর্টে উল্লেখ।

অন্যদিকে তদন্ত কমিটি রিপোর্টে এও বলছে, ওই রাতে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের প্রসূতি বিভাগের ওটিতে কর্তব্যরত ছিলেন একজন আরএমও। কিন্তু তিনি ওটিতে ছিলেন না বলেই মনে করা হচ্ছে। তাহলে তিনি ছিলেন কোথায়? সেই বিষয়টা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানা যাচ্ছে।

মেদিনীপুর কলেজে সন্তান প্রসবের পরেই মৃত্য়ু হয় এক প্রসূতির। তিনজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, সংক্রমণের কারণে তাঁদের শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া নষ্ট হয়ে গেছে। রবিবার রাতে মেদিনীপুর থেকে গ্রিন করিডর করে নিয়ে এসে তাঁদের থেকে SSKM-এ ITU-তে ভর্তি করা হয়। ৩ জনের চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল বোর্ড গঠন হয়েছে। নাসরিন খাতুন ও মাম্পি সিংহকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। তাঁদের ডায়ালিসিস চলছে।

spot_img

Related articles

নিম্নচাপের মেঘে পথ হারালো শীত, একধাক্কায় ১৫ ডিগ্রির ঘরে কলকাতার তাপমাত্রা!

রবিবাসরীয় সকালে কনকনে শীতের (Winter ) ভাব উধাও। একদিনে প্রায় সাড়ে তিন ডিগ্রি পারদ বেড়ে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা...

রবিবার সকালে সুখবর দিলেন অদিতি, গায়িকার কোল আলো করে এল পুত্র সন্তান

রবিবার সকালে মিলল সুখবর, মা হলেন গায়িকা অদিতি মুন্সী (Aditi Munshi)। কীর্তন শিল্পী ও দেবরাজ চক্রবর্তীর (Debraj Chakraborty)...

ভেনেজুয়েলার পর সিরিয়া, আকাশপথে হামলা আমেরিকার!

সিরিয়া (Syria) জুড়ে আইএসকে (IS) লক্ষ্য করে মার্কিন সেনার হামলা। মুহুর্মুহু গোলাবর্ষণ অন্তত ৩৫টি নিশানায়। মার্কিন সেন্টার কমান্ডোর...

‘আত্মহত্যার নাটক’ করেছিলেন দেবলীনা! নেটপাড়ার রোষানলে পড়তেই হাসপাতাল থেকে জবাব গায়িকার

৭৮টি ঘুমের ওষুধ খাওয়ার খবর থেকে, শ্বশুরবাড়ি আর বাপের বাড়ির মধ্যে যেকোনও একটাকে বেছে নিতে না পারার জন্য...