স্বামী বিবেকানন্দর বাংলাতে এসে তাঁকে স্মরণ করেও ধর্মীয় ভাষণে দল বাড়ানোর চেষ্টা চালালেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। যে আরএসএস বাংলায় মাধ্যমিক চলাকালীন পড়ুয়াদের তোয়াক্কা না করেই সশব্দে প্রচার কর্মসূচি আয়োজন করে, সেই আরএসএস (RSS) প্রধানের ধর্মীয় বার্তা যে আদৌ বাংলায় প্রভাব ফেলবে না, দাবি রাজ্যের শাসকদলের।

রবিবার পূর্ব বর্ধমানের তালিতে আরএসএসের মধ্যবঙ্গীয় সভায় বক্তব্য রাখতে আসেন মোহন ভাগবত। সেখানে কার্যত বিজেপি নেতাদের অহং-কে আঘাত করেন ভাগবত। তিনি বলেন, নিজে বড় হলে অন্যকে বড় করতে হবে – সেটাই বীরত্ব। ভারতে রাজা-মহারাজাদের শাসন চলেনি। এখানে অনেকে ধনবান আছেন। কিন্তু তাদের কথাই শেষ কথা নয়। কে কত বড় ধনবান, কত কামাই করেন সেটাতে ভারত চলে না। ভারতে এমন ব্যক্তিত্বও রয়েছেন, যিনি নিজে এক টাকাও কামাননি। সেই স্বামী বিবেকানন্দের (Swami Vivekananda) নাম সকলে মানে। এটাই ভারতের স্বভাব। হিন্দু সমাজ এটাই।

তবে মুখে স্বামী বিবেকানন্দের (Swami Vivekananda) কথা বললেও আদতে সেই আরএসএসের ধর্মীয় অ্যাজেন্ডাই বক্তব্যে তুলে ধরেন মোহন ভাগবত। তিনি বলেন, হিন্দু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতেই হবে আর সেই কাজ আরএসএস (RSS) করছে।

এখানেই আরএসএসের মতাদর্শের সমালোচনায় রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল। রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের পাল্টা দাবি, হিন্দুত্বের এজেন্সি বিজেপি আর আরএসএস নিয়ে রাখেনি। হিন্দুরা এটা দেয়নি। ফলে স্বঘোষিত হিন্দুত্বের এজেন্সি নিয়ে দাবি করে থাকলে সেটা তাদের ব্যাপার। আমরা সব ধর্মকে সম্মান করি। বিজেপি যেভাবে ধর্মের নামে ভেদাভেদের রাজনীতি করে আমরা তার আদর্শগতভাবে বিরোধিতা করি। যেহেতু আরএসএস বিজেপির অন্তরাত্মা। সেহেতু আরএসএস ও বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের আদর্শগত লড়াই চলবে।


মোহন ভগবতের এই মন্তব্যের সমালোচনায় রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুও। তিনি বলেন, বিজেপির তাত্ত্বিক অ্যাজেন্ডা হিন্দুত্ব। সকলকে নিয়ে চলা বিজেপির মধ্যে নেই। সবাইকে নিয়ে বিজেপি চলতে চায় না। বহুত্ববাদের বিজেপি বিরোধিতা করে। সেটা আরএসএস প্রসূত। মোহন ভাগবত হিন্দুত্ববাদের মতবাদ প্রচার করবেন তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। আগামী একশো বছরেও তারা এভাবেই পিছন দিকে এগিয়ে যাওয়ার কথাই বলবেন।


–

–

–

–
–

–
