Wednesday, June 3, 2026

স্ত্রীর উপর যৌন নির্যাতনের প্রতিশোধেই হজরত-কে খুন জলিলের, দাবি পুলিশ সুপারের

Date:

Share post:

স্ত্রী সুফিয়ার উপর হওয়া যৌন নির্যাতনের প্রতিশোধ নিতে স্ত্রীকেই টোপ হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। তাকে দিয়েই ফোন করিয়ে  মদের পার্টি করার প্রলোভন দেখানো হয় হজরতকে। তারপর তাকে ডেকে এনে খুন করে জলিল। পূর্বপরিকল্পনা মতোই মহম্মদ জলিল গাজি ও তার স্ত্রী সুফিয়া বিবি মিলে হজরত লসকর কে খুন করেছিল। খুনের আগে অস্ত্রে ধার দিয়ে, কেরোসিন কিনে বাড়িতে মজুত করেছিল জলিল। শুধু তাই নয় দেহ যাতে শনাক্ত না করা যায়, সেই জন্যই মুন্ডু কেটে অন্যত্র ফেলে দিয়েছিল তারা।

তবে হজরত বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে স্ত্রীকে জলিলের বাড়ি যাচ্ছি বলে আসে। তার হাতের ট্যাটুই দেহ শনাক্ত ও খুনিদের ধরতে সাহায্য করেছ তদন্তকারী পুলিশকে। বৃহস্পতিবার বারাসাত পুলিশ জেলার সুপার পতিক্ষা ঝারখরিয়া বারাসাতের ময়নায় সাংবাদিক বৈঠক করে এমনই জানান। দত্তপুকুর থানার বাজিতপুরের হজরত লসকর খুনের ঘটনার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, খুনে ব্যবহৃত হাতুড়ি ও হাসুয়া পুলিশ উদ্ধার করেছে। তবে হজরতের মোবাইল ফোন পুলিশ এখনও উদ্ধার করতে পারেনি।

জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন অর্থাৎ ২ ফেব্রুয়ারি দুপুর তিনটে নাগাদ হজরত তার গাইঘাটার বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। স্ত্রীকে বলেছিলো বামনগাছিতে জলিলের বাড়ি যাচ্ছি, সকালেই ফিরে আসব। গাইঘাটা  থেকে বাসে করে এসে বারাসাতের গেঞ্জি মিলের কাছ থেকে মদ, চিপস কিনে বামনগাছি স্টেশন সংলগ্ন জলিলের ভাড়া বাড়িতে এসেছিল হজরত। সেখান থেকে সন্ধ্যা নাগাদ মদের পার্টি করতে বাজিতপুরের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় সকলে মিলে। আনুমানিক রাত সাড়ে সাতটা থেকে আটটার মধ্যে হজরতকে খুন করে জলিল ও তার স্ত্রী সুফিয়া। প্রথমে পেছন থেকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে সুফিয়া। পরে হজরতের মুন্ডু কেটে ফেলে। পরের দিন তিন তারিখ ভোরে মুন্ডুহীন দেহ উদ্ধার হয়। ওই দিন দুপুরে ঘটনা স্থলে জনতার ভীড়ের মধ্যে থেকেই পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে থাকে জলিল ও তার স্ত্রী। পরের দিন অর্থাৎ ৪ তারিখ আটটা থেকে সাড়ে আটটা নাগাদ বামনগাছি স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে জম্বুর যাওয়ার জন্য রওনা দেয় জলিল। সুফিয়া এলাকাতেই থেকে যায়। ১২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে জম্বুর শাম্বা এলাকা থেকে পুলিশ জলিলকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ সুপার খুনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, জলিল ও হজরত দুজনই মুলত অপরাধ জগতের লোক। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে। তাদের চুরির মালের ভাগবটরা নিয়ে গন্ডগোল ছিল। হজরত পুলিশকে খবর দিয়ে কয়েকবার দলের লোকেদের ধরিয়ে দিয়েছিল। ফলে আগে থেকেই হজরতের উপর রাগ ছিল জলিলের। তবে খুনের মূল কারণ জলিলের স্ত্রী সুফিয়ার উপর হজরতের বারংবার যৌন নির্যাতন। এই বিষয়টি মেনে নিতে না পারায় স্বামী স্ত্রী দুজনে মিলেই পরিকল্পনা করে হজরতকে খুন করে। তাদের অতিরিক্ত বিশ্বাস ছিল যে মুন্ডু লুকিয়ে ফেললে আর দেহ শনাক্ত করতে পারবে না পুলিশ। আর তাদেরও খোঁজ পাবেনা পুলিশ। তাই মুন্ডু কেটে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে বামনগাছি স্টেশন সংলগ্ন কচু বনের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল।

Related articles

সরকারি কর্মচারীদের অফিস টাইমিং নিয়ে কড়া নির্দেশিকা নবান্নের

সরকারি কর্মচারীদের অফিসে ঢোকা - বেরোনোর সময় নিয়ে কড়া রাজ্য (State Government instruction regarding Office Arrival and Departure)।...

BSF-কে আরও প্রায় ৩২ একর জমি হস্তান্তর! অনুমোদন রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে

ভারত-বাংলাদেশ (India- Bangladesh Border Security) সীমান্তে নজরদারি ও পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীকে আরও প্রায় ৩২...

২০ জুনই পশ্চিমবঙ্গ দিবস: জানালেন দিলীপ, বছরভর শ্যামাপ্রসাদের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী পালন

২০ জুন সরকারিভাবে পালিত হবে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’। সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য মন্ত্রিসভা। বুধবার নবান্নে বৈঠকের পরে এই কথা জানালেন...

দক্ষিণবঙ্গের আজও হাঁসফাঁস করা গরম, বর্ষার কী আপডেট

বুধবার দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে ঊর্ধ্বমুখী উষ্ণতা (South Bengal Weather)। কলকাতাসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে অস্বস্তিকর আবহাওয়ায় রীতিমতো নাজেহাল হতে হচ্ছে অফিসযাত্রী...