Monday, January 12, 2026

শাক দিয়ে মাছ ঢাকা! নির্বাচন কমিশনের দোষ ঢাকতে তৎপর সুকান্তকে একহাত কুণালের

Date:

Share post:

কেন্দ্রের নির্বাচন কমিশন ভুল করেছে ভোটার তালিকা (voter list) তৈরিতে। সর্বসমক্ষে বিবৃতি দিয়ে তারা সেটা স্বীকারও করেছে। তারপরে কার্যত মুখে কুলুপ দিয়েছেন এরাজ্যের বিজেপি নেতারা। বেগতিক দেখে কমিশনের দোষ ঢাকতে রাজ্যের আধিকারিকদের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumder)। কমিশনের রবিবারের সাফাইকে হাতিয়ার করে পাল্টা জবাব তৃণমূলের। তদন্তে দাবি করে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার ব্যর্থ চেষ্টা বন্ধের দাবি রাজ্যের শাসকদলের।

বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের দাবি, রাজ্যের নির্বাচনী আধিকারিকরা তালিকা তৈরিতে ভুল করেছেন। যেখানে নির্বাচন কমিশনের তরফে বিবৃতি জারির পরে সুকান্তর হাস্যকর দাবিতে কটাক্ষা তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের। তাঁর পাল্টা জবাব, নির্বাচন কমিশনও এত বড় মিথ্যে কথা বলেনি। অনলাইন ভেরিফিকেশন (online verification) ছাড়া তালিকা হচ্ছে। ভেরিফিকেশন যদি না-ই হয় তাহলে পদাধিকারী বা আধিকারিকরা কিভাবে তার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয়। কমিশন বলছে অন্য রাজ্যের ভোটার লিস্ট এরাজ্যে ঢুকে যাচ্ছে। কোন কম্পিউটারে অন্য রাজ্যের ভোটার লিস্টটা (voter list) ফেলে দেওয়া হচ্ছে আমাদের রাজ্যে, সেটারই তদন্ত হওয়া দরকার। শাক দিয়ে এভাবে মাছ ঢাকা যায় না।

নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা নিয়ে দেওয়া সাফাই কতটা মিথ্যা, তৃণমূল নেতৃত্ব সেই তথ্য তুলে দেওয়ার পরে কার্যত ভোটার তালিকা দুর্নীতি নিয়ে দিশাহারা বিজেপি। সেখানে আবার সুকান্ত (Sukanta Majumder) বলার চেষ্টা করেছেন, এই তালিকা অদল-বদলের মতো ঘটনা নজিরবিহীন। এই উক্তিতে তিনি নিজেই যে নিজের কথায় ফেঁসেছেন, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কুণাল বলেন, নজির নেই বলেই তো বলা হচ্ছে নতুন মডেল তৈরি হচ্ছে। যেটা মহারাষ্ট্র, দিল্লিতে হয়েছে, সেটা বাংলায় এসে ধরা পড়ে গিয়েছে। কীভাবে হচ্ছে? অন্য রাজ্যের ভোটার এরাজ্যের ভোটার লিস্টে (voter list)। এরাজ্যের ভোটারদের উপর ভরসা না রেখে অন্য রাজ্য থেকে জল মিশিয়ে কেন্দ্রের নির্বাচন কমিশন আর কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে দিয়ে কোনও ফিজিকাল ভেরিফিকেশন (physical verification) ছাড়া অনলাইনে এই কারচুপি চলছে। নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগে মান্যতাও দিয়েছে, তারা বলেছে হ্যাঁ এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

সেই সঙ্গে পুরোনো কাসুন্দি ঘেঁটে সুকান্ত বলার চেষ্টা করেন, বাংলাদেশ থেকে ভোটার এনে ভরা হয়েছে ভোটার তালিকা। পাল্টা কুণাল ঘোষের জবাব, বাংলাদেশ থেকে কেউ ঢুকছে, এটা বিজেপির মুখ থেকে বেরোনোর আগে বিজেপি যেন মনে রাখে সীমান্ত পাহারা দেওয়া বাংলার পুলিশের কাজ নয়। সম্পূর্ণভাবে বিএসএফ (BSF) ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির কাজ। বাংলাদেশ নিয়ে কোন মন্তব্য করার আগে মনে রাখবেন, থুতু উপরে ছুঁড়লে নিজের মুখে এসে পড়ে।

spot_img

Related articles

আইন রক্ষায় নিহত বাবা, তাঁরই ছেলে প্রতারণায় জেলে!

দু’দশক আগে এক বর্ষবরণের রাতে তিলোত্তমার বিবেক জাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এক অপরিচিতা তরুণীর সম্মান বাঁচাতে মদ্যপ সহকর্মীদের সামনে...

IND vs NZ: নতুন বছরে বিরাটের ব্যাটিং বিক্রম, জয়ের মধ্যেও থাকল উদ্বেগের ছায়া

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম একদিনের ম্যাচে ৪ উইকেটে জিতল ভারত। ২০২৫ সালেযেখানে শেষ করেছিলেন ২০২৬ সাল সেখান থেকেই শুরু...

সোমে মিলনমেলায় ডিজিটাল যোদ্ধাদের সঙ্গে বৈঠকে অভিষেক

বাংলা বহিরাগত জমিদারদের হাতে অপমানিত, লাঞ্ছিত। সেই বাংলাবিরোধীদের মিথ্যা ও অপপ্রচারের মোকাবিলায় তৃণমূল ময়দানে নামিয়েছে ডিজিটাল যোদ্ধাদের। ডিজিটাল...

অনুপ্রবেশকারী খুঁজবে AI! নির্বাচনে নতুন গ্যাঁড়াকল শিণ্ডে-ফড়নবিশ জোটের

ভোটের আগে ফের মাথা চাড়া দিচ্ছে মানুষের উপর নজরদারি আর হয়রানির রাজনীতি। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নতুন অ্যাপ ব্যবহার...