Tuesday, March 17, 2026

সাংসদ তহবিলের বরাদ্দ পরিবর্তন করা যায় না: শুভেন্দুর জমির নথি যাচাইয়ের দাবি কুণালের

Date:

Share post:

শহিদ স্মরণে হাসপাতাল করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া জমিতে দলবদল করার পরেই মন্দির করার হুঙ্কার বিজেপি (BJP) বিধায়ক তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Shubhendu Adhikari)। আর সেই বিষয় নিয়ে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের (TMC) রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh)। প্রাক্তন সাংসদ স্পষ্ট জানান, সাংসদ তহবিলে বরাদ্দ টাকা বা জমি অন্য খাতে ব্যবহার করা যায় না। বিরোধী দলনেতার জমির সরকারি নথি জেলাশাসক যাচাই করুন-চাইছেন কুণাল।

২৩ জানুয়ারি নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের সোনাচূড়ায় রামমন্দির তৈরির ঘোষণা করেন শুভেন্দু। বলেন, “সোনাচূড়ায় আমার আড়াই বিঘা জমি কেনা আছে। ওই জমিতেই রামমন্দির তৈরি করা হবে। রামনবমীর দিন হবে ভিতপুজো।“ এর পাল্টা অভিযোগ করে তৃণমূলের নেতৃত্ব। তাঁদের কথায়,  তৃণমূল সাংসদ থাকাকালীন ২০০৯ সালে ওই এলাকায় ‘শহিদ স্মৃতি হাসপাতাল’ করবেন বলে প্রায় চার বিঘা জমি কেনেন শুভেন্দু। ‘২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সাংসদ শুভেন্দু অধিকারীর উন্নয়নের খতিয়ান’ নামক পুস্তিকার ১৩৩ নম্বর পৃষ্ঠায় উন্নয়নমূলক কাজের তালিকায় ১৪ লক্ষ টাকায় ওই জমি কেনার উল্লেখও আছে। তৃণমূলের অভিযোগ, হাসপাতাল হবে বলে তৎকালীন বাজারমূল্যের থেকে অনেক কম দামে জমি কেনেন শুভেন্দু। সোনাচূড়া অঞ্চল তৃণমূলের তৎকালীন সভাপতি রাধাকৃষ্ণ মণ্ডলের অভিযোগ, “আমরাই তখন একাধিক জমির মালিককে বুঝিয়ে অনেক কম দামে জমি সংগ্রহ করে দিয়েছিলাম। পরে, উনি নিজের নামে জমি রেজিস্ট্রি করায় প্রতিবাদ হয়। তখন তিনি বলেন, এলাকায় ট্রাস্ট গড়ে ওই জমি দান করে দেবেন। এখন সেখানেই মন্দির করবেন বলছেন।“

এই বিষয়টি লন্ডন থেকে ভিডিও বার্তায় কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) বলেন, সাংসদ থাকাকালীন নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের শহিদদের স্মরণে হাসপাতাল করার প্রতিশ্রুত দিয়েছিলেন শুভেন্দু। সাংসদ হিসেবে তাঁর উন্নয়নমূলক কাজে খতিয়ান দেওয়া পুস্তিকার পাতাতেও সেই কথা লেখা আছে। কুণালের কথায়, নিজের ব্যক্তিগত মালিকাধীন জমিতে যে কেউ যা খুশি করতে পারেন-মন্দির, মসজিদ, চার্চ। কিন্তু এমপি ল্যান্ডের যার জন্য বরাদ্দ জমিতে অন্য কিছু করা যায় না- মত প্রাক্তন সাংসদের। কিন্তু তৃণমূল সাংসদ থাকাকালীন তিনি যে জমিতে হাসপাপাতল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেটা এখন অন্য কাজে ব্যবহার করতে চাইছেন। ওই পুস্তিকার সত্যতা যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে সরকারি নথি দেখা হোক- দাবি জানান কুণাল। জেলাশাসক খতিয়ে দেখুন রেকর্ডে কী আছে – মন্তব্য তৃণমূল নেতার।
আরও খবররবীন্দ্রভারতীতে তিনদিন ধরে বিক্ষোভ চলছে, পুলিশি পাহারায় বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য

spot_img

Related articles

‘বিনা কারণে’ শীর্ষ আধিকারিক বদল: স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকতে জ্ঞানেশকে চিঠি মমতার

দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে নির্বাচন ঘোষণার কয়েক ঘন্টার মধ্যে রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিক বদল জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের।...

বকেয়া ডিএ মেটাতে সরকারি নির্দেশ, দু’দফায় মিলবে প্রাপ্য অর্থ

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার এক দিনের মধ্যেই বকেয়া মহার্ঘভাতা (ডিএ) মেটানো সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশ করল রাজ্য সরকার। সেখানে জানানো...

নির্বাচনী আচরণবিধির জের, থমকাল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ

বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই জারি হয়েছে নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি। তার জেরেই আপাতত থমকে গেল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে...

জরুরি কারণ ছাড়া ছুটি নয়! ভোটের আগে পুলিশে ছুটিতে কড়াকড়ি 

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর প্রেক্ষিতে রাজ্য পুলিশের ক্ষেত্রে ছুটি মঞ্জুরির উপর জারি হল কড়া বিধিনিষেধ। নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ...