অন্তঃসত্ত্বাকে দুবার ফেরালো হাসপাতাল, মধ্যপ্রদেশে পথেই সদ্যোজাতর মৃত্যু!

ভোররাতে প্রবল প্রসব যন্ত্রণায় (labour pain) প্রায় সংজ্ঞা হারানো নিতুকে ঠেলাগাড়িতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন কৃষ্ণ। পথেই সন্তান প্রসব (delivery)

প্রসব যন্ত্রণা শুরু হওয়ায় স্বামীর সঙ্গে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান অন্তঃসত্ত্বা (pregnant lady)। একবার নয়, দুবার ভর্তি না করে ফিরিয়ে দেয় হাসপাতাল। তৃতীয়বার নিয়ে যাওয়ার পথেই মা হওয়ার স্বপ্ন শেষ মধ্যপ্রদেশের (Madhyapradesh) রথলামের বাসিন্দা নিতুর। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে বাংলার দিকে আঙুল তোলা বিজেপি রাজ্যে হাসপাতাল পরিষেবা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল গাফিলতির চূড়ান্ত পর্যায়। ঘটনায় চাপে পড়ে কর্তব্যরত নার্সদের (nurse) উপরই যাবতীয় দায় চাপিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে দুই নার্স ও ব্লক স্বাস্থ্য অধিকর্তার বিরুদ্ধে।

রথলামের শৈলানার বাসিন্দা কৃষ্ণ গোয়ালা ২৩ মার্চ স্ত্রী নিতুকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। স্ত্রীর প্রসব যন্ত্রণা ওঠার উপক্রম হওয়ায় চিকিৎসকের দ্বারস্থ হয় দম্পতি। কিন্তু সেখানে এক নার্স তাঁদের নির্দেশ দেন, প্রসবের দুই থেকে তিনদিন দেরি রয়েছে। তাঁকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। দুপুরে ফের নিতুর প্রসব যন্ত্রণা (labour pain) উঠলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান কৃষ্ণ। কিন্তু তখন অন্য় এক নার্স জানান, প্রসব (delivery) হতে কয়েক ঘণ্টা দেরি রয়েছে। নিতুকে বাড়ি নিয়ে যেতে হবে।

তৃতীয়বার ভোররাতে প্রবল প্রসব যন্ত্রণায় (labour pain) প্রায় সংজ্ঞা হারানো নিতুকে ঠেলাগাড়িতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন কৃষ্ণ। পথেই সন্তান প্রসব (delivery) করে নিতু। সদ্যোজাত ও নিতুকে নিয়ে ফের হাসপাতালে পৌঁছালে সেখানে চিকিৎসকরা জানান, সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। ভোর রাতে পাগলের মতো স্ত্রীকে ঠেলাগাড়িতে নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছানোর চেষ্টা করা কৃষ্ণর ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় (ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা বিশ্ববাংলা সংবাদ যাচাই করেনি)। নেটিজেনরা রীতিমতো সেই ভিডিও দেখে আঁৎকে ওঠেন। কোনও বলিউড চলচ্চিত্র নয়, বাস্তবে ঠেলাগাড়ি করে স্ত্রী ও সন্তানকে বাঁচানোর চেষ্টা চালানো কৃষ্ণ হেরেই যায়।

যদিও এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয় মধ্যপ্রদেশ (Madhyapradesh) স্বাস্থ্য দফতর। স্থানীয় বিএমওএইচ-কে শোকজ করা হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। অভিযুক্ত দুই নার্সের (nurse) মধ্যে একজনকে সাসপেন্ড ও আরেকজনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। মূলত চিকিৎসকের কর্তব্যে গাফিলতির শাস্তি নার্সদের উপর দিয়ে চালিয়ে দায় সেরেছে মধ্যপ্রদেশ সরকার।