প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির বক্তব্যে আগুনে ঘি। এরপরই উত্তপ্ত হিমালয়ের প্রতিবেশী দেশ নেপাল (Nepal)। শুক্রবার রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলনে মৃত্যু হয় অন্তত দুজনের। পরিস্থিতি সামলাতে কাঠমান্ডু (Kathmandu) শহরে জারি হয় কার্ফু। তবে শনিবার সকাল থেকে কার্ফু প্রত্যাহার করে রাজধানী শহরকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। যদিও রাজবংশধর জ্ঞানেন্দ্র শাহের (Gyanendra Shah) সমর্থকরা ছাড়াও অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টিও (RPP) গণতন্ত্রের বিরোধিতায় আবারও পথে নামার ডাক দিয়ে পরিস্থিতি আরও গুরুতর করার পথে নেমেছে।

চতুর্থবার নেপালের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি-র ( K P Sharma Oli) বিরুদ্ধে সোচ্চার বিরোধীরা। এরই মধ্যে রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবিও জোরালো হতে শুরু করে। সেই দাবির মধ্যেই নিজের দল কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল-এর কর্মীদের রাজতন্ত্র (monarchy) সমর্থকদের দমন করার নির্দেশ দেন ওলি। তাতেই কার্যত আগুনে ঘি পড়ে।

শুক্রবার কয়েক হাজার রাজতন্ত্রের সমর্থক (pro-monarchy) কাঠমান্ডু শহরে (Kathmandu) পার্লামেন্ট ভবন অভিযান শুরু করে। ক্রমশ সেই বিক্ষোভ হিংসাত্মক আকার নেয়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটকালে পাথর ছুঁড়তে শুরু করে তারা। একাধিক গাড়ি ও বাড়িতে আগুন লাগানো হয়। রাজনৈতিক দলের কার্যালয়েও আগুন লাগায় বিক্ষোভকারীরা।

এক চিত্র সাংবাদিক সহ দুজনের মৃত্যু হয়। আহত হয় পুলিশ কর্মী সহ বিক্ষোভকারীরা। প্রশানের দাবি, ৫৩ পুলিশকর্মী, ২২ সেনা ও ৩৫ জন বিক্ষোভকারী গুরুতর আহত হয়। বিকাল থেকে কাঠমান্ডু শহরে (Kathmandu) জারি হয় কার্ফু (curfew)। ১০৫ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতার হন রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টির (RPP) সম্পাদক ধওয়াল সমসের রানা।


শুক্রবারের ধুন্ধুমারের পরে যদিও রাজা জ্ঞানেন্দ্র-পক্ষ (Gyanendra Shah) থেকে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রাজতন্ত্র সমর্থকরা দাবি করেছেন, রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না করা হলেও যেন রাজার সম্মান ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সংবিধানে রাজতন্ত্রকে জায়গা দেওয়ার দাবি জানানো হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি নরম হওয়ার পরে, শনিবার সকাল থেকে কার্ফু প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। যদিও প্রধানমন্ত্রী ওলি বা তাঁর দল কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে শনিবারের পরে কোনও বিবৃতি জারি করা হয়নি।


–

–

–

–
–

–
