১৮ বছরের পথ চলায় এবার যতিচিহ্ন পতৌদি ট্রফির, মন খারাপ শর্মিলার

স্বাভাবিকভাবেই বোর্ডের এই সিদ্ধান্তে মন খারাপ শর্মিলা ঠাকুরের।

গাড়ি দুর্ঘটনায় এক চোখের বেশিরভাগ দৃষ্টিশক্তি হারানোর ছয় মাস পর, মনসুর আলী খান পতৌদি মাদ্রাজে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেন। ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরপরই শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটে ফিরে আসার অনুপ্রেরণা কী ছিল জানতে চাইলে, পতৌদি উত্তর দেন, “ইংলিশ আক্রমণের দৃশ্য।” ইফতিখার আলি খানের যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে মনসুর আলি খান, স্বর্ণাক্ষরে সেই মাইলস্টোন এঁকে দিয়েছিলেন। পিতা-পুত্র উভয়েই ছিলেন জাতীয় দলের অধিনায়ক। যা কিনা ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত আর হয়নি। ভোপালের সেই নবাব পরিবারকে সম্মান জানিয়েই শুরু হয় পতৌদি ট্রফি। যা বর্তমানে অবলুপ্তির পথে। ২০০৭ সালে ভারত-ইংল্যান্ড ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ দিয়ে শুরু। তবে ১৮ বছরের পথ চলায় এবার যতিচিহ্ন। স্বাভাবিকভাবেই বোর্ডের এই সিদ্ধান্তে মন খারাপ শর্মিলা ঠাকুরের।

তিনি জানিয়েছেন, ব্যক্তিগতভাবে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। তবে সইফের কাছে ইসিবি’র তরফে একটি চিঠি দিয়ে পতৌদি ট্রফি বন্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এবার বিসিসিআই যদি টাইগারের উত্তরাধিকার মনে রাখতে চায় বা না চায়, তবে সেটা একান্তই তাদের সিদ্ধান্ত।

উল্লেখ্য, পতৌদি ট্রফি বন্ধ হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড়। অনেকেই এই সিদ্ধান্তকে ভালো মনে নেননি। একাংশ আবার আক্ষেপ প্রকাশও করেছেন পতৌদির ‘স্মৃতিচিহ্ন’ মুছে ফেলার জন্য। দেশের হয়ে ১৯৬১-৭৫ সাল পর্যন্ত ৪৬টি টেস্ট খেলেছেন মনসুর আলি খান পতৌদি।

প্রসঙ্গত, ২০০৭-এ ভারতের সঙ্গে ইংল্যান্ডের টেস্ট অভিষেকের ৭৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে এই ট্রফি প্রথমবার শুরু হয়। সে বছর ইংল্যান্ডে গিয়ে পতৌদি ট্রফি জিতেছিল ভারত। মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের উদ্যোগে ট্রফিটির নামকরণ করা হয়েছিল। ট্রফিটির নামকরণ পতৌদির পরিবারের নামে। একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ইংল্যান্ড ও ভারত- দুই দলের হয়েই ইফতিফার আলি খান পতৌদি তিনবার খেলেছেন। ইফতিখারের ছেলে মনসুর আলি খান পতৌদি। তিনি ভারতীয় দলকে দীর্ঘ সময় নেতৃত্ব দিয়েছেন।