রায় মানতে পারছি না! বাংলার শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করার বাম-বিজেপির ষড়যন্ত্র: তীব্র ক্ষোভ মুখ্যমন্ত্রী

শীর্ষ আদালতের নির্দেশে চাকরি গিয়েছে ২৬ হাজারের। বিচার ব্যবস্থার প্রতি সম্মান জানিয়েই সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) রায় মানতে পারছেন না বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর কথায়, মানবিকতার স্বার্থে এই রায় মানতে পারছি না। এই বিষয় নিয়ে বাম-বিজেপির (Left-BJP) ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। একসঙ্গে নিশানা করেন সিপিএমের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে।

মানবিকতার খাতিরে এই রায় মানতে পারছেন না বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “বিচারব্যবস্থার প্রতি আমাদের পূর্ণ সম্মান আছে। সমস্ত বিচারপতির প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। আমরা প্রত্যেককে সম্মান করি। দয়া করে আমার মন্তব্য বিকৃত করবেন না।” রায় উল্লেখ করেম মমতা বলেন, যাঁরা চাকরি করছেন, তাঁদের টাকা দিতে হবে না।

এর পরেই একসুরে বাম-বিজেপিকে (Left-BJP)  নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়াই বিজেপির লক্ষ্য। মমতা বলেন, “আমি অবাক হয়ে যাই, এখানে কেসটা করেছিলেন কে? বিকাশবাবু। তিনি তো পৃথিবীর সবথেকে বৃহত্তম আইনজীবী। তিনি কেন এখনও নোবেল প্রাইজ় পাচ্ছেন না জানি না। পাওয়া উচিত। ভাবছি একটা রেকমেনডেশন করব।” তীব্র আক্রমণ করে মমতা বলেন, “এডুকেশন সিস্টেমটা কি কোলাপস করতে চাইছে বিজেপি সিপিএম? সিপিএম নিজের আমলে কী করত? চিরকূটে চাকরি দিত। গণশক্তিতে যতজন রিপোর্টার রয়েছে, তাঁদের স্ত্রীকে চাকরি দেওয়া হয়েছে চিরকূটে। তার তদন্ত হয় না?”

ক্ষোভ উগরে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বলেন, “এতগুলো মানুষের চাকরি যাওয়ার পরে বিজেপির (BJP) মন্ত্রী সুকান্তবাবু বলছেন, আমি ফেসবুকে তাঁর উক্তি দেখেছি। অযোগ্যদের জন্য যোগ্যদের চাকরি গিয়েছে, এর জন্য নাকি আমরা দায়ী। আপনারা যখন প্রথমে কেস করলেন, একবারও ভাবলেন না কারা যোগ্য, কারা অযোগ্য? সরকারকেও ভাবতে দিলেন না।” প্রাক্তন বিচারপতি তথা বর্তামন বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ না করে মমতা বলেন, তিনিই হাইকোর্টে থাকাকালীন এই রায় দিয়েছিলেন। আর চাকরি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন।

এক জন দোষীর জন্য কীভাবে সবাইকে বঞ্চিত করা হল? প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় হাই কোর্টের রায়ের উপর স্থগিতাদেশ দিয়ে রেখেছিলেন। তাঁর কথায়, “সুপ্রিম কোর্টের আরেকজন প্রধান বিচারপতির থেকে কি আমরা এটুকু মানবিকতা আশা করতে পারি না? যে একটা আত্মরক্ষার সুযোগ দেওয়া?” এই প্রসঙ্গে বিচারপতির বাড়ি থেকে টাকা পাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে মমতা বলেন, যদি তাঁকে বদলি করে সুযোগ দেওয়া যায়, তাহলে এঁদেরও অন্যভাবে সুযোগ দেওয়া যেত।

মমতার কথায়, “আত্মরক্ষার জন্যেও তো সুযোগ দেওয়া উচিত। এতগুলো শিক্ষকের ভবিষ্যৎ! ভুলে যাবেন না, এরা সবাই স্কুলের শিক্ষক। শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধসিয়ে দেওয়া কি বিজেপির টার্গেট?” তিনি বলেন, “এই মামলায় তো তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীকে জেলে রেখে দেওয়া হয়েছে, অনেক দিন হয়ে গেল! এক জনের অপরাধে কত জনের শাস্তি হয়?”

ক্ষোভ উগরে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই পরিবারগুলি অচল হয়ে গেলে বিজেপি-সিপিএমও সচল থাকবে না। কোনও ঘটনা ঘটলে, দায়িত্ব আপনাদের হবে।”

তিনমাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়ার শুরুর যে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট, তা তাঁরা করবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “ওরা বলেছে তিন মাসের মধ্যে প্রসেস করতে, আমরা তা করে দেব। শিক্ষামন্ত্রীকে ইতিমধ্যে বলেছি, এসএসসিকে আমাদের ভাবনা জানাতে। এসএসসি স্বশাসিত সংস্থা। ওরা যেমন ভাল বুঝবে, নিজেদের মতো করে করবে। তবে আমরা চাই এটা তাড়াতাড়ি হয়ে যাক।”