‘বন্ধু’ দেশকেও ছাড় নয়, ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে বেসামাল বিশ্ব! পরিস্থিতির দিকে নজর নয়াদিল্লির

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) শুল্ক বোমায় ধরাশায়ী শেয়ার বাজার থেকে শুরু করে স্বর্ণমার্কেট। পূর্ব ঘোষণা মতোই বুধবার আমেরিকার স্থানীয় সময় অনুযায়ী বিকেল ৪টেয় (ভারতীয় সময় অনুসারে মধ্যরাত) ‘পারস্পরিক শুল্ক’ নিয়ে সবিস্তার জানান ট্রাম্প। ভারতের পণ্যের উপর আরোপ ২৬ শতাংশ শুল্ক, চিন থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর ৩৪ শতাংশ শুল্ক চাপালো আমেরিকা। মার্কিন ‘মুক্তি দিবসে’ কানাডা ও মেক্সিকো থেকে আমদানি করা দ্রব্যের ওপরে ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক বোমা আছড়ে পড়ার কিছু সময়ের মধ্যেই বিশ্ববাজারে সোনার দামে (Gold Price) বড় প্রভাব পড়েছে। হলুদ ধাতুর দাম আউন্স প্রতি ৩ হাজার ১৬০ ডলার অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২ লক্ষ ৭১ হাজার ৯৮ টাকা ছাড়াল। ব্রেন্ট ফিউচারের অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬ হাজার ২২৫ টাকায় পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই অস্ট্রেলিয়া, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারের দর পড়তে শুরু করে। ডলারের তুলনায় জাপানের মুদ্রা ইয়েনের দাম সামান্য বেড়েছে।ট্রাম্পের ঘোষণার জেরে টোকিয়োর নিক্কেই প্রাথমিক ভাবে ৩.৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল।হংকং, সাংহাইতেও একই ছবি। কোথাও পতনের হার ১.৫ শতাংশ, আবার কোথাও প্রায় ১.৪ শতাংশ।

নভেম্বরে নির্বাচন জিতে ক্ষমতায় ফিরেই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, যে দেশ আমেরিকার পণ্যে যতটা শুল্ক চাপিয়ে থাকে, ২ এপ্রিল থেকে সেই দেশের পণ্যে পালটা তার উপযুক্ত শুল্ক চাপানো হবে। হোয়াইট হাউস জানায়, বিভিন্ন দেশের অতিরিক্ত শুল্কের কারণে আমেরিকার বাণিজ্য ঘাটতি হচ্ছে। সেই কারণেই জরুরী পদক্ষেপ করা হলো। গোটা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে নয়াদিল্লি। এখনও পর্যন্ত আমেরিকার নয়া শুল্ক নীতি নিয়ে ভারতের তরফে কোন স্পষ্ট বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কোন দেশের উপর কত শুল্ক চাপালো আমেরিকা-

  • ভারত- ২৬ শতাংশ
  • চিন – ৩৪ শতাংশ
  • ইউরোপীয় ইউনিয়ন – ২০ শতাংশ
  • ভিয়েতনাম ৪৬- শতাংশ
  • জাপান – ২৪ শতাংশ
  • দক্ষিণ কোরিয়া – ২৫ শতাংশ
  • থাইল্যান্ড – ৩৬ শতাংশ
  • সুইৎজারল্যান্ড- ৩১ শতাংশ
  • কানাডা – ২৫ শতাংশ