রাম-বাম যৌথ উদ্যোগে চাকরিহারা ২৫ হাজার ৭৫৩ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা-শিক্ষাকর্মী। অযোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের পাশে আগেও কখনও দাঁড়ায়নি রাজ্যের প্রশাসন, ভবিষ্যতেও দাঁড়াবে না। কিন্তু তারপরেও সুপ্রিম-রায়ে ঠেকানো গেল না যোগ্য চাকরিপ্রাপকদের অধিকার। যোগ্যদের কেন চাকরি গেল সেই সমাধানের সন্ধানে ইতিমধ্যেই নেমে পড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রায় বেরোনোর পরই বৃহস্পতিবার নবান্নে শিক্ষামন্ত্রী-সহ শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, ধৈর্য হারাবেন না রাজ্য সরকার সর্বতোভাবে যোগ্যদের পাশে রয়েছে, থাকবে। আদালতের নির্দেশ মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হবে দ্রুত। তবে এর পাশাপাশি চাকরিখেকো বিজেপি-সিপিএমের (BJP-CPIM) লাগাতার রাজ্য সরকার ও শাসকদলের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচার ও কুৎসার পাল্টা কড়া জবাবও দিতে ছাড়ছে না তৃণমুল। কুৎসাকারীদের জন্য তৃণমূলের স্পষ্ট বক্তব্য—

১. বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলছেন ২০২৬-এ ক্ষমতায় এলে যোগ্য-অযোগ্য (tainted-untainted) ঠিক করে দেবে। এখানেই প্রশ্ন, তদন্ত সিবিআই-এর (CBI) হাতে আছে। তবে ২০২৬ পর্যন্ত অপেক্ষা করার কী প্রয়োজন? এখনই করলেন না কেন? তার মানে সিবিআই (CBI) ইচ্ছাকৃতভাবে বলছে আদালতে (Supreme Court) যোগ্য-অযোগ্য ফারাক করা যাচ্ছে না! আদালতেরই বা এত তাড়াহুড়োর কী ছিল! এমনিতে কতশত কেস পড়ে আছে।
২. যারা খারাপ কাজ করেছে— অযোগ্য (tainted), তাদের বেতন ফেরাতে বলা হয়েছে। বাকিদের বেতন ফেরাতে হবে না। তার মানে তারা যোগ্য (untainted)। তবে তাদের চাকরি কেন বাতিল হল? এই প্রশ্নের উত্তর কে দেবে?

৩. দলের স্পষ্ট বক্তব্য, যারা অন্যায় কাজ করেছে— খারাপ কাজ করেছে বা যাদের সিবিআই (CBI) গ্রেফতার করেছে জেলে আছে, তাদের বাঁচাতে তৃণমূল কংগ্রেস কিংবা রাজ্য সরকার কখনও কোনও চেষ্টা করেনি। এটা তাদের আইনি লড়াই তারা বুঝবে। সিপিএম-বিজেপি (CPIM-BJP) মিলে বিকৃতভাবে প্রচার করছে যে তৃণমূল তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস বা রাজ্য সরকার কোনওদিন এই কাজ করেনি, করবেও না।

৪. সিবিআই বলেছে যোগ্য-অযোগ্যদের (tainted-untainted) আলাদা করা যায়নি। আমরা বলছি, সুপ্রিম কোর্টে জানানো হয়েছিল। কিন্তু একতরফা রায় দিয়ে সকলকে বিপদে ফেলা হল।

এ-বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দলে রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, একতরফা রায় দিয়ে রাজনৈতিক ইস্যু বানাতে রাম-বাম হাত মিলিয়েছে এখানে। এটা সুস্থ স্বাভাবিক ন্যায়বিচার বলে মনে করছি না আমরা। তৃণমূল কংগ্রেস কখনও কাউকে খারাপ কাজ করলে ডিফেন্ড (defend) করেনি। শিক্ষামন্ত্রী হোক কিংবা যে কোন আধিকারিক হোক না কেন রাজ্য সরকার কাউকে রেয়াত করেনি। কারও পক্ষে দাঁড়ায়নি।

–

–
–
–
–
