এক সন্ধ্যায় কণ্ঠসঙ্গীত – হারমোনিয়াম- তবলার ত্রিবেণী সঙ্গম, ঐতিহাসিক পরিবেশনায় আচার্য জয়ন্ত বোস

অনুষ্ঠানের শুরুতে তিনি বলেন, 'কথায় কথায় কথা ভেসে যায়, কথা রয় না। প্রকৃতিতে চেয়ে দেখ কেউ কথা কয় না। আজ সুর বেশি কথা কম, তাতেই এই সুরেলা সন্ধ্যা মনোরম'।

একজন শিল্পী একই সন্ধ্যায় একই মঞ্চে তিনটি বিষয়ের উপর একক পরিবেশনা করবেন, ঐতিহাসিক এই ঘটনার সাক্ষী থাকতে কানায় কানায় পূর্ণ রবীন্দ্রসদন। কণ্ঠে ধ্বনিত হল উপশাস্ত্রীয় বাংলা গান, সরগমের লহরী, তবলার বোলে তালের ঝঙ্কার আর হারমোনিয়ামের ছন্দে সুরের জাদুকরী- চৈত্রের সন্ধ্যায় এক অনন্য পরিবেশ তৈরি হল মহানগরীর বুকে। সৌজন্যে এক এবং অদ্বিতীয় আচার্য জয়ন্ত বোস। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের মূর্ছনায় দেশের মধ্যে এই প্রথমবার একসঙ্গে ভোকাল, হারমোনিয়াম এবং তবলার অনবদ্য পারফরমেন্সের সাক্ষী থাকল শহর কলকাতা। প্রেক্ষাগৃহে আচার্য জয়ন্ত বোসের (Acharya Jayata Bose) কনসার্ট সুরের মূর্ছনায় তিন সোলো অনুষ্ঠানকে একীভূত করে তুললো অনায়াসে। ভারতের বুকে এই প্রথমবার অনুষ্ঠিত হলো ‘আচার্য থ্রিডি’ (Acharya 3D) । তবলায় সঙ্গত করলেন পণ্ডিত দেবজ্যোতি বোস (Pt Debojyoti Bose)। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোনও রেকর্ড নেই যেখানে একই সন্ধ্যায় একজন শিল্পী তিনটি বিষয়ের উপর নিজের সাংগীতিক নিবেদন তুলে ধরেছেন। ভারতবর্ষের ইতিহাসেও এই প্রথম।

আচার্য জয়ন্ত বোসের অগাধ সঙ্গীত পাণ্ডিত্য বরাবরই তাঁর শ্রোতা- দর্শকদের মুগ্ধ করে। দেশের মধ্যে প্রথমবার ‘আচার্য থ্রিডি’র এই পরিকল্পনা এবং রূপায়ন নিঃসন্দেহে অনবদ্য, বলছেন রবীন্দ্র সদনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকরা। অনুষ্ঠানের ছত্রে ছত্রে বয়সের প্রবাহমানতা। আচার্য জয়ন্ত বোসের উদাত্ত কণ্ঠের খেয়াল, লোকসঙ্গীতের সৃজন মন পরিতৃপ্ত করল অনুরাগীদের। ওমনিশৃঙ্গার তৈরি করল মোহময়তা। সংগীত শিল্পী একাধারে কবি, চিত্রশিল্পীও বটে। অনুষ্ঠানের শুরুতে তিনি বলেন, ‘কথায় কথায় কথা ভেসে যায়, কথা রয় না। প্রকৃতিতে চেয়ে দেখ কেউ কথা কয় না। আজ সুর বেশি কথা কম, তাতেই এই সুরেলা সন্ধ্যা মনোরম’। দর্শক শ্রোতাদের বুঝিয়ে দিল সৃজনশীলতার সব অলিন্দেই তাঁর সাবলীল অবগাহন। কণ্ঠ সঙ্গীতে শাস্ত্রীয় উপশাস্ত্রীয় বিচরণ, একক হারমোনিয়াম এবং সবশেষে তবলা বাদনে পরিপূর্ণ সান্ধ্য অনুষ্ঠান ‘আচার্য থ্রিডি’ (Acharya 3D)- কে সত্যিই শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সাধারণ সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করা সম্ভব নয়।