দুর্যোগ দুর্ঘটনা এসব লেগে থাকে। আমাদের সমবেত উদ্যোগে, সহযোগিতায় এগুলো সব কেটে যাবে। আমি বিশ্বাস করি। শনিবার রবীন্দ্র সদনের (Rabindra Sadan) বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে সাহিত্য উৎসব ও লিটল ম্যাগাজিন মেলার উদ্বোধনে এসে এমনটাই মন্তব্য করলেন রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu)। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ধর্মীয় উস্কানির আবহে মন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন কবি জীবনানন্দ দাসের অমৃত-সূর্যের বার্তা।

বাংলাকে নিয়ে কুৎসা ও অপপ্রচারের যে খেলা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি চালিয়ে যাচ্ছে, সেই পরিস্থিতিতে নিজের কৃষ্টি সংস্কৃতিকেই আঁকড়ে ধরছে বর্তমান বাংলার প্রশাসন। তাই রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উস্কানি ও ষড়যন্ত্রের পরিবেশেও শনিবার উদ্বোধন হল সাহিত্য উৎসব ও লিটল ম্যাগাজিন মেলা ২০২৫। মেলার উদ্বোধন করেছেন সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। ছিলেন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, মন্ত্রী ব্রাত্য বসু, কবি অমিতাভ গুপ্ত, কবি সুবোধ সরকার, সাহিত্যিক আবুল বাশার, সাহিত্যিক প্রচেত গুপ্ত, সাহিত্যিক দীপান্বিতা রায, কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়, কবি প্রসূন ভৌমিক, প্রকাশক সুধাংশুশেখর দে, সংস্কৃতি অধিকর্তা কৌশিক বসাক, বরিষ্ঠ অতিরিক্ত অধিকর্তা কৌস্তভ তরফদার, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির সচিব বাসুদেব ঘোষ প্রমুখ।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সামগ্রিকভাবে যেভাবে বাংলাকে সম্প্রদায়িক উস্কানির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে সেই পরিস্থিতিতে মন্ত্রী ব্রাত্য আশা রাখছেন সাধারণ মানুষের ওপর। এমনকি রাজনৈতিকভাবে রাম-বাম একজোট হয়ে যে চক্রান্ত করছে বাংলার বদনাম গোটা দেশের কাছে করার, তারও জবাব মানুষের আশীর্বাদ দেবে বলেই আশাবাদী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu)।

এবারের পাঁচ দিনব্যাপী সাহিত্য উসব লিটল ম্যাগাজিন মেলা উদ্বোধনে এসে মন্ত্রী বলেন সমভাবে আর সম দৃষ্টিতে সমস্ত স্তরের মানুষকে দেখার, তাঁদের প্রসারণ ঘটানোর কাজই করে চলছে রাজ্য সরকার। উদ্যোগ সর্বোপরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। তিনি বলেন, সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০১১ সালের পর শুধু কলকাতা শহরে নয়, এই সাহিত্য উৎসব ও লিটল ম্যাগাজিন মেলার আয়োজন হয়েছে জেলার সব প্রান্তে। রাজ্যের প্রায় ৩৪৪ টি ব্লকেই পালন করা হয়েছে আলাদা আলাদা করে। এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার প্রায় ৫০০ লিট্ল ম্যাগাজিন এবং কয়েকটি সংস্থা। আলোচনা, গল্প-কবিতাপাঠে অংশ নিচ্ছেন প্রায় ৮০০ কবি ও লেখক। অনুষ্ঠান আয়োজিত হচ্ছে একতারা মুক্তমঞ্চ, বাংলা আকাদেমি সভাঘর, জীবনানন্দ সভাঘর, অবনীন্দ্র সভাঘরে। গগনেন্দ্র প্রদর্শশালায় আয়োজিত হয়েছে কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫তম জন্মবর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিশেষ প্রদর্শনী।


–


–

–

–

–
–

–
