ডোনাল্ড ট্রাম্পের গোটা বিশ্বের জন্য শুল্ক নীতি ঘোষণার পরই প্রবল পতন মার্কিন শেয়ার বাজারে (US stock markets)। এশিয়ার বাজারে বাণিজ্যে ব্যাপক ঘাটতির আশঙ্কায় শেয়ার বাজারে রেকর্ড পতনের আশঙ্কা করা হচ্ছে। তারই মধ্যে শুক্রবার গত দু বছরের মধ্যে রেকর্ড পতন দেখল মার্কিন শেয়ারবাজার। সেই সঙ্গে ছয় মাসের মধ্যে রেকর্ড পতন মার্কিন ডলারে।

২ এপ্রিল বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ থেকে ছোটখাটো দেশগুলির উপরও শুল্কের ঘোষণা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। প্রত্যেক দেশকে তার পাল্টা শুল্কের (tariffs) ঘোষণা করেন তিনি। এর পরই গোটা বিশ্বের শেয়ারবাজারে টালমাটাল পরিস্থিতির আশঙ্কা করা হয়েছিল। তারই প্রতিফলন যে মার্কিন বাজারেও ঘটবে এমনটা হয়তো আশা করেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার ২২৩১ পয়েন্ট নামের ডাও (Dow)। সেই সঙ্গে নাসদাক কম্পোজিট (Nasdaq Composite) নামে ৫.৮২ শতাংশ।

মার্কিন অর্থনৈতিবিদদের দাবি, শুল্কের ঘোষণা হওয়ার আগে থেকেই কয়েক সপ্তাহ ধরে মার্কিন বাজার খোলার সময়ে কম পয়েন্টে থাকছিল। তবে শুক্রবার গোটা দিন কমের দিকে ধাওয়া করার পর দিনশেষে নাসদাক (Nasdaq) এত নিচে নামে যা ২০২২ সালের পরে আর হয়নি। এমনকি ডিসেম্বরেও এই ডাও (Dow) ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।

অর্থনীতিবিদদের ধারণা, ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন (EU), চীন (China), জাপান (Japan), ভারতের মতো বাজারের উপর পাল্টা শুল্ক (tariffs) চাপানো ঘোষণা চাপে ফেলবে মার্কিন বাণিজ্যকে। এইসব দেশে ব্যবসা নিম্নগামী হবে এমন আশঙ্কায় শেয়ার বাজারের। সেই কারণেই করোনা পরিস্থিতির সময়ের মতো নিম্নগামী মার্কিন শেয়ার বাজার।


তবে শুধুমাত্র মার্কিন শেয়ার বাজার নয়। শুক্রবার নিম্নগতি দেখেছে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ শেয়ার বাজারগুলি। জাপানের (Japan) নিক্কেই (Nikkei) ইনডেক্স আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পতন দেখেছে। লন্ডনসহ (London) ইউরোপের একাধিক শেয়ার বাজার পতনের সাক্ষী থেকেছে শুক্রবার। তবে অন্যান্য সব বাজারের থেকে অনেক বেশি পতন দেখেছে মার্কিন শেয়ার বাজার। গোটা বিশ্বের উপর শুল্কের বোঝা চাপিয়ে আমেরিকাবাসীকে যে সোনালী দিনের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন ট্রাম্প, তা কার্যত ধসে গিয়েছে। মার্কিন ডলার নেমেছে ৬ শতাংশ। বুধবার ট্রাম্পের ঘোষণার পরই বৃহস্পতিবার বিশ্বের অন্যান্য মুদ্রার তুলনায় ২.২ শতাংশ পতন হয় মার্কিন ডলারের।


–

–

–

–
–

–
