Saturday, April 25, 2026

বিজেপির দালাল নির্বাচন কমিশন: ঝাঁঝালো আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রীর

Date:

Share post:

বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে হালে পানি পেতে ভোটার লিস্টে কারচুপি শুরু করেছে বিজেপি (BJP)। বুধবার এই ইস্যুতেই বিজেপি-সহ নির্বাচন কমিশনকে (Election Commission) একহাত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। নির্বাচন কমিশনকে বিজেপির দালাল বলে কটাক্ষ করলেন তিনি। এদিনের প্রতিবাদমঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন এলেই নাম বাদ দিয়ে দেবে! আর একটা নির্বাচন কমিশন রয়েছে। অসম্মান করতে চাই না আমি। কিন্তু যদি বিজেপি-র দালালি করে, তা হলে আমরাও ছাড়ব না। বিহারে লক্ষ লক্ষ ভোটারকে তালিকা থেকে বের করে দিয়েছে। এভাবেই মহারাষ্ট্র, দিল্লিতে জিতেছে বিজেপি। বিহারের পর বাংলাতেও সেই পরিকল্পনা চলছে। আমিও বলে দিচ্ছি, ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়াই করব। বিনা যুদ্ধে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়ব না।

ঝাঁঝালো ভাষায় আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) বলেন, অসমে ১২ লক্ষ বাঙালি বাদ দিয়েছেন। রাজবংশীরা হিন্দু না মুসলিম? এই বিজেপি-র দালাল, লজ্জা করে না! নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে ভোটার বাদ দিয়ে দিচ্ছে। বলছে ২০০২ সালের তালিকা দেখবে। কত লোক তো মারা গিয়েছেন! কত নতুন লোক এসেছেন, কত বাচ্চা জন্মেছে। কে কী পরবে, কে কী খাবে, কে কোথায় থাকবে, কে কোন ভাষায় কথা বলবে, তা ওরা ঠিক করবে!

নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) চেয়ারম্যানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, আগে বলেছিল, ইস বার ২০০ পার। এখন বলছে সব নাম বাদ দাও, ভোট দেবে শুধু বিজেপি! আমরা বলছি, বসে থাকো। ওই আশায় বসে থাকো। নির্বাচন কমিশনে তো বিজেপি ভর্তি। যিনি চেয়ারম্যান হয়েছেন, পদমর্যাদার নিরিখে সম্মান করি ওঁকে। কিন্তু উনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রধান সচিব ছিলেন। অমিত শাহের সচিব ছিলেন উনি। আমি জানি এটা। কোনও পক্ষপাতহীন লোক নেই ওখানে। নির্বাচনের আগে বুঝতে পেরেছে। এভাবেই বিজেপি-কে জিতিয়েছিল। নির্বাচনের সময় ১৮-২০ শতাংশ ভোট হঠাৎ বাড়িয়ে দিয়েছিল। বিজেপি কিন্তু জেতেনি।

নতুন ভোটারদের পরামর্শ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন ভোটারদের বলব, অগাস্ট থেকে শুরু হবে। ভোটার তালিকায় নাম তুলবেন। চালাকিটা নজরে রাখবেন। বুক দিয়ে লড়াই করবেন। বাংলা আমাদের আছে, থাকবে। আগামী দিনে দিল্লি দখলও করব আমরা। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে। ২০২৬-এ বাংলা, তার পর দিল্লিতে যে নির্বাচন হবে, তাতে ইন্ডিয়া জিতবে।

এদিকে, ভোটার লিস্টে কারচুপি নিয়েও উষ্মা প্রকাশ করেছেন তিনি। যেভাবে অন্য রাজ্যে বসে এই রাজ্যের ভোটার লিস্টের উপর ছুরি-কাঁচি চালাচ্ছে বিজেপি তাতে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, অন্য রাজ্যে বসে এ-রাজ্যের নাম কাটা হচ্ছে। অনলাইন নাম কেটে দিচ্ছে। আমাদের একটা ভোটার তো, সঙ্গে তিনটে গুজরাতির নাম, দুটো দিল্লিবাসীর নাম, তো তিনটে উত্তরপ্রদেশবাসীর নাম, চারটি রাজস্থানবাসীর নাম। এটা কী হচ্ছে? আমেদাবাদের লোক এখানকার ভোটার হবেন কেন?

Related articles

শনিবারের নির্বাচনী প্রচারে ভবানীপুরের পাশাপাশি উত্তরপাড়া-দমদমেও কর্মসূচি মমতার 

দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের আর মাত্র চার দিন বাকি। প্রচার শেষ হবে আগামী ২৭ এপ্রিল বিকেলে। এই মুহূর্তে নিজের...

শহরের হাসপাতাল থেকে জল জমা সমস্যার সমাধান: ভবানীপুরে বার্তা মমতার

আগামী দুই বছরে শেষ হয়ে যাবে গঙ্গাসাগরের কাজ। শুক্রবার ভবানীপুর থেকে গঙ্গাসাগরের পরিষেবা নিয়ে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়...

লক্ষ্যমাত্রার পথে অনেকটাই এগোল নবান্ন, রাজ্যে সংগৃহীত ৪৮ লক্ষ টনের বেশি ধান

চলতি খরিফ মরসুমে ধান সংগ্রহে বড়সড় সাফল্যের মুখ দেখল রাজ্য সরকার। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, রাজ্যের ক্ষুদ্র...

ভোট শেষে স্বচ্ছতা রাখতে ক্যামেরার ছবি সংরক্ষণে এক গুচ্ছ নির্দেশিকা

নির্বাচন শেষে ইভিএম সিল করা নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক বুথে অভিযোগের তিরে নির্বাচন কমিশন। আবার ওয়েব কাস্টিং পদ্ধতির সুফলও...