Sunday, June 21, 2026

মিঠুনের ‘বাংলাভাষী বিরোধী’ মন্তব্যকে ধুয়ে দিল তৃণমূল, কালো টুপি-জোব্বা নিয়ে সরস খোঁচা কুণালের

Date:

Share post:

আগামী বছরেই বিধানসভা নির্বাচন। তা নিয়ে ইতিমধ্যেই ময়দানে নেমে পড়ছে শাসক-বিরোধীরা। পরিযায়ী ও তৎকাল নেতাদের নিয়ে চলা বিজেপি বৃহস্পতিবার অভিনেতা থেকে নেতা হওয়া মিঠুন চক্রবর্তীকে (Mithun Chakraborty) নিয়ে এসে দলীয় নেতাদের সঙ্গে সভা করে। আর সেখানেই মিঠুন দাবি, অনুপ্রবেশকারীদের সরিয়ে দিলে তৃণমূল এখানে ৭০-এর বেশি আসন পাবেন না। এর জবাবে তীব্র খোঁচা দেন তৃণমূলের (TMC) রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তাঁর কথায়, প্রবল গরমে কালো টুপি আর জোব্বা পরলে একটু মানসিক ভারসাম্যের সমস্যা হয়। এর পরেই ধুয়ে দেন কুণাল। বলেন, বিজেপির প্রতিহিংসার জবাব দেবেন বাংলার মানুষ। ভিনরাজ্যে বাংলাভাষীদের উপর অত্যাচারের অভিযোগেও মানতে চাননি মিঠুন। সেই বিষয় নিয়ে তাঁকে তুলোধনা করেন তৃণমূলের মিডিয়া সেলের প্রধান দেবাংশু ভট্টাচার্য (Debanshu Bhattacharya)।

এদিন, সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিভিন্ন দল ঘুরে বিজেপিতে (BJP) আসা মিঠুন (Mithun Chakraborty) জানান দেশের কোথাও না কি বাংলাভাষীদের উপর কোনও অত্যাচার হয়নি। তাঁর কথায়, “দেশের কোথাও বাঙালিদের ওপর কোনও অত্যাচার হয়নি। আসলে সামনে ভোট, তাই তৃণমূল এটাকে ইস্যু করে কাজে লাগাতে চাইছে।” এমনকী, ভোটার লিস্ট থেকে বেছে বেছে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগও উড়িয়ে দেন বিজেপি নেতা। তিনি বলেন, কোথাও কোনও বাঙালির ওপর অত্যাচার বা কোনও সত্যিকারের নাগরিককে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে না। পাল্টা তৃণমূলকে নিশানা করে মিঠুন বলেন, “বাংলার ভোটার লিস্টে এই অনুপ্রবেশের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ওরাও জানে এদের বেছে বেছে বার করে দিলে এরা ৭০টা সিটও পাবে না। তাই ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ হতেই তা আটকাতে তৃণমূল উঠে পড়ে লেগেছে।”

এর জবাবে মিঠুনকে ধুয়ে দেন কুণাল ঘোষ। প্রথমে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, প্রবল গরমে কালো টুপি আর জোব্বা পরলে একটু মানসিক ভারসাম্যের সমস্যা হয়। এর পরেই তীব্র আক্রমণ করে কুণাল বলেন, বিজেপির প্রতিহিংসার জবাব সামনের নির্বাচনে বাংলার মানুষ দেবেন। তাঁর কথায়, ভোটপাখি মিঠুন ২০২১-এর লোকসভা নির্বাচনের আগেও রাজ্যে এসে বড় বড় ভাষণ দেন। আর তার জেরে কমে বিজেপির ভোট। মিঠুনকে ‘গদ্দার’, ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আক্রমণ করে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বলেন, তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন মিঠুনকে রাজ্য সভায় পাঠান, তখন তিনি বলেছিলেন, মমতা আমার বোন, তার পাশে আজীবন থাকব। এখন মামলা থেকে বাঁচতে মোদি-শাহর পা ধরে বিজেপি করছেন। বাংলা তথা বাঙালি এর জবাব দেবে।

ভিনরাজ্যে বাংলাভাষীদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ ওড়ানোয় মিঠুনকে একহাত নেন তৃণমূলের মিডিয়া সেলের প্রধান দেবাংশু। তিনি বলেন, যে রাজ্যে অত্যাচার হচ্ছে, সেই রাজ্য সরকার মানছে, তারা বাংলার সঙ্গে কথা বলছে, আর মিঠুন চক্রবর্তী মানছেন না। যদি বাংলাভাষীদের হেনস্থা করা না হয়, তাহলে কেন্দ্রীয় সরকার কেন তাঁদের বাংলাদেশে পাঠালো আবার ফিরিয়ে আনলো! এর পরেই দেবাংশু বলেন, মিঠুন বাঙালি। তাঁকে নিয়ে একসময়ে আমাদের গর্ব ছিল। কিন্তু তিনি বাংলার জন্য কী করছেন? তিনি মুম্বইতে থাকেন। আর ভোটের সময় ফ্যায়দা লুঠতে বাংলায় আসেন।
আরও খবরNCERT সিলেবাস থেকে বাদ ওড়িশার পাইকা বিদ্রোহ: সরব নবীন পট্টনায়েক

Related articles

সকাল সকাল আজ শহরে কী কী কর্মসূচি প্রধানমন্ত্রীর

দুদিনের সফরে রাজ্যে এসেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। শনিবার তারকেশ্বরে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। সরকারি...

আজ ভোর ৪টে থেকে মেট্রো পরিষেবা শহরে

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস (International Yoga Day) এবং NEET-UG পরীক্ষার (NEET UG Exam) জন্য রবিবার ভোর চারটে থেকেই মেট্রো...

২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য দিবস কেন?

আজকের দিনে, অর্থাৎ 1947 সালের 20 জুন বঙ্গীয় আইনসভার বৈঠকে অখণ্ড বাংলার বিধায়করা বাংলা ভাগ করে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য...

আয়ুর্বেদ নিয়ে ঢাকঢোল কেন্দ্রের, ১২১ কোটিতে বেসরকারি হাতে রাষ্ট্রায়ত্ত ওষুধ সংস্থা 

একদিকে যখন দেশজুড়ে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যবহার বাড়াতে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার লাগাতার প্রচার চালাচ্ছে, ঠিক তখনই...