Wednesday, January 14, 2026

কোথায় সেবা: শিক্ষা-স্বাস্থ্যে ‘পুঁজি’র খেলায় ক্ষুব্ধ ভাগবত

Date:

Share post:

নরেন্দ্র মোদির ছবি দিয়ে প্রচার না করলেই বঞ্চনা রাজ্যকে। শিক্ষা হোক, বা স্বাস্থ্য – সর্বত্রই কেন্দ্রের সরকারের প্রচার বাণিজ্য না হলে দেশের মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন মৌলিক অধিকার থেকে। কোথায় সেবা? এবার সেই প্রশ্নই নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) দিকে ছুঁড়লেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। দেশের মানুষের যে কাজকে এতদিন সেবা বলে দেখা হত, সেই সেবার বাণিজ্যিকরণ (commercialisation) নিয়ে এবার প্রকাশ্যে সরব আরএসএস প্রধান।

মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে (Indore) আরএসএস-এর একটি অনুষ্ঠানে মোহন ভাগবত দাবি করেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা। মানুষ ভালো শিক্ষার জন্য নিজের ঘর-বাড়ি বিক্রি করতে পিছপা হন না। আবার সুচিকিৎসার জন্যও জমি-বাড়ি বিক্রি করে থাকেন। কারণ তাঁরা জানেন সুস্বাস্থ্য ছাড়া শিক্ষা বা কোনও কাজ সম্ভব নয়। কিন্তু দুর্ভাগ্য আজকের দিনে সেই শিক্ষা ও স্বাস্থ্য তাদের নাগালের বাইরে। সাধারণ মানুষের আর্থিক সামর্থেরও বাইরে। অর্থাৎ সহজে সুলভও নেই, সস্তাও নেই।

এর কারণও ভাগবত নিজেই ব্য়াখ্যা করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার জন্য স্কুল কী কম? না তা নয়। হাসপাতালের সংখ্যা কী কম? তাও নয়। সুযোগ সুবিধা রয়েছে। জ্ঞানী ব্যক্তিরও সংখ্যা কম নেই। কিন্তু বাস্তব হল, সেগুলি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

আরও পড়ুন: শিয়ালদহ স্টেশনের নাম-রাজনীতি বিজেপির! কেন স্বামীজির নামে নয়, প্রশ্ন তৃণমূলের

কেন্দ্রের বিজেপি সরকার যেভাবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বেসরকারিকরণ শুরু করেছে, তার প্রতিবাদে সরব বিরোধীরা। এমনকি স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে জীবন ও স্বাস্থ্য বিমার উপরও কেন্দ্রের চড়া হারে জিএসটি, যার প্রতিবাদ প্রথম থেকেই তৃণমূল করে এসেছিল। বাধ্য হয়ে সেই জিএসটি প্রত্যাহারের পথ নেয় কেন্দ্রের মোদি সরকার। সেই সরকারের মন্ত্রীর বক্তব্য উল্লেখ করেই মোহন ভাগবত শিক্ষা-স্বাস্থ্যের বাণিজ্যিকরণের বিরোধিতায় সরব হন। তিনি অভিযোগ করেন, আগে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে সেবা-র স্থানে রাখা হত। আজ এগুলিকেও বাণিজ্যিকরণের মধ্যে এনে ফেলা হয়েছে। মানুষের চিন্তাভাবনা এমন বানিয়ে ফেলেছে। কয়েক বছর আগে এক মন্ত্রীর বক্তব্য শুনেছিলাম এই নিয়ে। তিনি বলেছিলেন যে ভারতে শিক্ষা ট্রিলিয়ন (trillion) ডলারের ব্যবসা। এখন ব্যবসা তো সাধারণ নাগরিকের নাগালের বাইরে কারণ এটা করতে তো টাকা লাগে। তাই সাধারণ নাগরিকের নাগালের বাইরে শিক্ষা। যার পুঁজি রয়েছে তিনিই পাবেন।

spot_img

Related articles

অপরিকল্পিত SIR-এর কুশীলব সীমা খান্নাকে আবেদন বাংলার কন্যার! পোস্ট অরূপের

একটি ফেসবুক পোস্ট, একটি আবেদন। বাংলার বহু মানুষের মনের কথা। এসআইআর(SIR) পর্বে যে হয়রানি চলছে বাংলাজুড়ে, সে কথাই...

SIR হিয়ারিং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, শুনানিতে হাজির হয়ে প্রবীণদের ছাড় দেওয়ার দাবি দেবের

লজিকাল ডিস্ক্রিপেন্সির নামে এসআইআর হিয়ারিং-এ কেন ডাকা হচ্ছে, কেন হয়রান করা হচ্ছে সেটা কি কেউ বুঝতে পারছে না,...

উৎসবমুখর দেশবাসী, শুভেচ্ছাবার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

  একদিকে মকর সংক্রান্তি, অন্যদিকে পোঙ্গল, সাথে জুটি বেঁধেছে মাঘ বিহু, সবমিলিয়ে বিবিধের মাঝে যেন মহামিলন! এই উপলক্ষে বাংলার...

অর্ঘ্য সেনের প্রয়াণ অপূরণীয় ক্ষতি, রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পীর মৃত্যুতে সোশ্যালমিডিয়া পোস্ট মুখ্যমন্ত্রীর 

বাংলার সাংস্কৃতিক জগতে নক্ষত্রপতন। বুধের সকালে প্রয়াত কিংবদন্তি শিল্পী অর্ঘ্য সেন (Arghya Sen)। ৯০ বছর বয়সে রবীন্দ্র সংগীত...