Friday, February 27, 2026

সুস্থ না হলে জায়গা ছেড়ে দিক, ফ্রন্টফুটে বুমরাহকে আক্রমণ সন্দীপের 

Date:

Share post:

টেস্টে আইসিসি ক্রমতালিকার (ICC Ranking) এক নম্বর বোলার হয়েও সিনিয়র ক্রিকেটারদের রোষানল থেকে বেরোতে পারছেন না যশপ্রীত বুমরাহ (Jashprit Bumrah)। কারণটা খুব সহজ। ‘ওয়ার্ক লোড’ (Work Load) ইস্যুতে ভারতের তারকা বোলারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিনিয়ররা। এবার তিরাশির বিশ্বকাপ জয়ী দলের অন্যতম প্রাক্তন ক্রিকেটার সন্দীপ পাটিল (Sandip Patil) ফ্রন্টফুটে আক্রমণাত্মক মেজাজে তোপ দাগলেন বুমরাহর বিরুদ্ধে। ইংল্যান্ড সিরিজে ওয়ার্ক লোডের ‘অজুহাত’ দেখিয়ে যেভাবে ভারতের এক নম্বর বোলারকে সব ম্যাচ খেলানো হয়নি তার সমালোচনায় চাঁছাছোলা ভাষায় সুনীল গাভাস্কারের (Sunil Gavaskar) সঙ্গেই সুর মেলালেন সন্দীপ। সওয়াল করলেন ‘ওয়ার্ক লোড ম্যানেজমেন্ট’ ভাবনা তুলে দেওয়ার পক্ষে। তাঁর সাফ কথা, প্লেয়ার ১০০ শতাংশ ফিট না হলে তাঁকে দলে নেওয়াই উচিত নয়। টিমের সঙ্গে থাকবে আর বেছে বেছে ম্যাচ খেলবে এটা চলতে পারে না। তাছাড়া দুটি ম্যাচের মাঝে সময়ের যথেষ্ট ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও ওয়ার্ক লোড কথাটা আসছে কোথা থেকে?

বিষয়টা একটু খোলসা করে বলা যাক।ক্রিকেটারদের উপর যাতে অত্যাধিক চাপ না পরে এবং তাঁদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা কম হয় সেই কথা মাথায় রেখে ‘ওয়ার্ক লোড ম্যানেজমেন্ট’ কনসেপ্টকে গুরুত্ব দিচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। কিছুদিন আগেই শেষ হওয়া ইংল্যান্ড সিরিজে দেখা গেছে বুমরাহকে প্রথম পনেরো জনের দলে রাখা হয়েছিল এই শর্তে যে তিনি তিনটির বেশি ম্যাচ খেলবেন না। ফলে যে সময় ক্রাইসিস তৈরি হয়েছে সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁকে পাওয়া যায়নি। এরপরই বিষয়টা নিয়ে সরব হন প্রাক্তন ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার। তিনি প্লেয়ারদের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছিলেন, “মাথায় রাখতে হবে, প্লেয়াররা দেশের হয়ে মাঠে নামে। এটা দেশের মান-মর্যাদার লড়াই। সেখানে দলে থেকেও কেউ বলতে পারে না, সে কোন ম্যাচ খেলবে আর কোন ম্যাচ খেলবে না।” দেশের জার্সিতে খেলার সুযোগ পাওয়ার অর্থ হল ভারতের প্রতিনিধিত্ব করা। সেখানে থাকে প্রায় ১৪০ কোটির স্বপ্ন বুকে নিয়ে জেতার জন্য মরিয়া চেষ্টা। কিন্তু সাম্প্রতিককালে দেখা যাচ্ছে ক্রিকেট মাঠে নিজেদের জান লড়িয়ে দেওয়ার তাগিদটাই ভারতীয় প্লেয়ারদের মধ্যে মিসিং (দু-একটা ব্যতিক্রম ঘটনা ছাড়া)। ফাস্ট বোলারদের মধ্যে কোমর নামিয়ে ফলো থ্রু-তে বল ধরার চেষ্টা কমেছে। সামান্য সমস্যাতে খেলতে না নামা বা মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। কেন? দল – দেশের প্রতি এতটুকু দায়বদ্ধতা থাকবেনা?

বুমরাহ ভালো বোলার এই নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু তাই বলে তাকে এক্সট্রা প্রিভিলেজ দেওয়ার যৌক্তিকতা আছে কি? সন্দীপের কথায়, “প্লেয়ার যদি একশ শতাংশ ফিট না হয়, তাহলে তাকে দলেই নেয়া উচিত নয়। প্লেয়ার যদি সুস্থ থাকে তাহলেই খেলবে এবং দল যখন মনে করবে তখনই খেলতে হবে। প্লেয়ার কিংবা তাঁর ফিজিওর দেওয়া সূচি মেনে দল চলবে না।” এই প্রসঙ্গে তিনি প্রাক্তন অলরাউন্ডার তথা বিশ্বকাপ জয়ী ক্যাপ্টেন কপিলদেবের উদাহরণ টেনে এনেছেন। কপিল কীভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, নেট প্র্যাকটিস করতেন, মাঠে নিজেকে উজাড় করে দিতেন তা দেখে এখনকার প্লেয়ারদের শিক্ষা নেওয়া উচিত বলে মনে করেন পাটিল। সুস্থ না থাকলে, খেলতে না পারলে দলে জায়গা দখল করে বসে থেকে লাভ নেই। অন্যকে সুযোগ করে দেওয়ার সময় এসেছে। আর এ ব্যাপারে বিসিসিআইকে (BCCI) দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলেই মত বিশ্বকাপজয়ী প্রাক্তন ক্রিকেটারের। ভারতীয় থিংক ট্যাংকের সিদ্ধান্ত ঘিরে ক্ষোভ বাড়ছে বোর্ডের অন্দরে। টিম গড়ার ক্ষেত্রেও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ উঠেছে। স্টোকসদের বিরুদ্ধে কুলদীপকে একটি ম্যাচও না খেলানোর সিদ্ধান্ত যথেষ্ট সমালোচিত হয়েছে। তার সঙ্গে আবার জুড়েছে বুমরাহ বিতর্ক। তাহলে কি ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সেরা বোলারের ক্যারিয়ার প্রশ্নচিহ্নের মুখে? ঘটনার জল কতদূর গড়ায় এখন সেটাই দেখার।

spot_img

Related articles

৯দিন পরে আবিষ্কার! গামিনী জন্ম দিয়েছিল চার শাবকের

তিনটি নয় চারটি শাবকের জন্ম দিয়েছে চিতা গামিনী। ১৮ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব জানিয়েছিলেন মধ্যপ্রদেশের (Madhyapradesh) কুনো...

২৯৪ নয়, ২৫০ বিধানসভা কেন্দ্র ঘুরবে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা: জুড়ল হাই কোর্টের শর্ত

নিছক দলীয় কর্মীদের সংগঠিত করতে যে যাত্রাকে পরিবর্তন যাত্রা নাম দিয়ে গোটা রাজ্য ঘোরানোর দাবি ঘটা করে করছেন...

জয়ের হ্যাটট্রিক অধরাই, জামশেদপুরের বিরুদ্ধে হার ইস্টবেঙ্গলের

দুপুরের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠছিল কলকাতা, সন্ধ্যায় জামশেদপুরের বিরুদ্ধে কেঁপে গেল ইস্টবেঙ্গল। প্রথম দু ম্যাচ জয়ের পরই হারের মুখ...

কলকাতায় ভূমিকম্পের জেরে রাস্তায় ধস, বেহালায় ৪০ ফুট ফাটল ঘিরে আতঙ্ক

ভূমিকম্পের (Kolkata Earthquake) জেরে কলকাতায় রাস্তায় বিরাট ফাটল। বেহালার (behala road crack) পর্ণশ্রী এলাকার ১৩২ নম্বর ওয়ার্ডে সাগর...