Monday, January 12, 2026

হরচৌধুরী বাড়ির জার্মানির হাজার বাতির লণ্ঠনে কাটত সুন্দরবনের অরণ্যের অন্ধকার

Date:

Share post:

৩৪২ বছরে পড়ল সুন্দরবনের হাড়োয়া ব্লকের গোপালপুর এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের গোপালপুর গ্রামের হরচৌধুরী বাড়ির পুজো। রত্নেশ্বর হরচৌধুরী ও রামজয় হরচৌধুরীর আমলে সূচনা হয় এই দুর্গাপুজোর। কৃষ্ণনগরের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পূর্বপুরুষরা গোপালপুর গ্রামে ধুমধাম করে দুর্গাপুজো (Durga Pujo) চালু করেন। তখন থেকেই স্বমহিমায় চলছে এই দুর্গোৎসব। এখানকার প্রতিমা মূলত ডাকের সাজের। 

সেই জমিদার নেই, জমিদারিও নেই। কিন্তু বংশ পরম্পরা আজও পুজা ধরে রেখেছেন হরচৌধুরী বাড়ির সদস্যরা। জরাজীর্ণ জমিদার বাড়ির দেওয়ালে ভাঙাচোরা প্রাচীন ইটের গায়ে বহু রূপকথার গল্প জড়িয়ে রয়েছে। আর বাড়ির চারিপাশের দেওয়ালে গজিয়ে উঠেছে বটগাছের চারা, পুজো এলেই সেগুলি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়। কিন্তু এখানকার সবচেয়ে প্রাচীন ইতিহাসে লুকিয়ে রয়েছে জার্মানি থেকে আনা হাজার বাতির লণ্ঠন। যা আজও শোভা পায় হরচৌধুরী বাড়ির ঠাকুর দালানে। এক সময় গভীর অরণ্যে পরিপূর্ণ ছিল সুন্দরবনের এই গোপালপুর গ্রাম। উৎসবের সময় গ্রামকে আলোকোজ্জ্বল করতো এই হাজার বাতির লণ্ঠন। 

আগে তেলের হ্যাজাকে দেবীর উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পেত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের দাবি মেনে সুদূর জার্মানি থেকে হরচৌধুরী বাড়িতে এসে পৌঁছায় জার্মান কোম্পানির লণ্ঠন। সুদূর বার্লিন থেকে গোপালপুর গ্রামে নিয়ে এসেছিলেন জমিদার। 

এখানকার পুজোর (Durga Pujo) আরও একটি ঐতিহ্য হল অষ্টমীর দিন বাড়ির পুত্রবধূরা সম্পূর্ণ কাঠের জালে বা কাঠের আগুনে ভোগ রান্না করেন। সম্পূর্ণ নিরামিষ ভোগ যা মাকে উৎসর্গ করা হয়। এখানে অষ্টমীর দিন কল্যাণী পুজো হয়, যেটা এই হরচৌধুরী বাড়ি ব্যতীত একমাত্র দক্ষিণেশ্বরে পালিত হয়। আর সেদিন এই গ্রামের মহিলারা নতুন বস্ত্র এনে মাকে উৎসর্গ করেন। পাশাপাশি তাঁদের নাম ও গোত্র দিয়ে পুজো হয়। 

একটি গল্পকথা প্রচলিত রয়েছে। বলা হয় এই হরচৌধুরীর বাড়ির পাশেই রয়েছে একটি বিশাল দিঘি। যেখান থেকে একসময় মায়ের পুজোর জন্য প্রয়োজনীয় বাসন পুকুর থেকে উঠত। কিন্তু কোনও এক কালে সেই সামগ্রী থেকে একটি বাসন চুরি হয়ে যাওয়াতে তারপর থেকে সেই বাসনপত্রগুলি হরচৌধুরী পরিবারের লোকজন আর ফিরে পাননি। এরকমই একাধিক লোকগাঁথা রয়েছে হরচৌধুরী বাড়িকে ঘিরে। যা কিন্তু বহন করে চলে সুন্দরবনের ঐতিহ্যকে।

spot_img

Related articles

আইন রক্ষায় নিহত বাবা, তাঁরই ছেলে প্রতারণায় জেলে!

দু’দশক আগে এক বর্ষবরণের রাতে তিলোত্তমার বিবেক জাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এক অপরিচিতা তরুণীর সম্মান বাঁচাতে মদ্যপ সহকর্মীদের সামনে...

IND vs NZ: নতুন বছরে বিরাটের ব্যাটিং বিক্রম, জয়ের মধ্যেও থাকল উদ্বেগের ছায়া

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম একদিনের ম্যাচে ৪ উইকেটে জিতল ভারত। ২০২৫ সালেযেখানে শেষ করেছিলেন ২০২৬ সাল সেখান থেকেই শুরু...

সোমে মিলনমেলায় ডিজিটাল যোদ্ধাদের সঙ্গে বৈঠকে অভিষেক

বাংলা বহিরাগত জমিদারদের হাতে অপমানিত, লাঞ্ছিত। সেই বাংলাবিরোধীদের মিথ্যা ও অপপ্রচারের মোকাবিলায় তৃণমূল ময়দানে নামিয়েছে ডিজিটাল যোদ্ধাদের। ডিজিটাল...

অনুপ্রবেশকারী খুঁজবে AI! নির্বাচনে নতুন গ্যাঁড়াকল শিণ্ডে-ফড়নবিশ জোটের

ভোটের আগে ফের মাথা চাড়া দিচ্ছে মানুষের উপর নজরদারি আর হয়রানির রাজনীতি। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নতুন অ্যাপ ব্যবহার...