Friday, June 12, 2026

কেন রাজ্যপাল চলবেন কেন্দ্রের অঙ্গুলি হেলনে: প্রশ্ন প্রাক্তন বিচারপতি নরিম্যানের

Date:

Share post:

রাজ্যের সঙ্গে রাজ্যপালের সংঘাত যেন সাম্প্রতিক ভারতে একটা রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিরোধী রাজ্য হলেই রাজ্য সরকারগুলির উন্নয়নের ধারা আটকাতে রাজ্যপালদের (Governor) ব্যবহার করেছে কেন্দ্রের সরকার (Central Government)। আর তার কারণ রাজ্যপালের নিয়োগ ও অপসারণ পদ্ধতি। দেশের গণতন্ত্রের এই মূল ব্যবস্থা নিয়েই এবার প্রশ্ন তুললেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি আর নরিম্যান (Rohinton Nariman)।

কেরালা থেকে তামিলনাড়ু, বাংলা থেকে মনিপুর। সর্বত্র রাজ্যপালকে দিয়ে রাজ্যের ক্ষমতা খর্ব করা ও উন্নয়নে বাধা দেওয়ার কাজ করছেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। এই বিরোধ ও অচলাবস্থা কাটাতে রাজ্যপাল নিয়োগ ও অপসারণ নিয়ে নরিম্যানের ব্যাখ্যা, সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতি (President) ও রাজ্যপালের (Governor) শপথবাক্য একই।‌ দু’জনেরই কর্তব্য সংবিধান ও জনগনের‌ স্বার্থ রক্ষা করা। অথচ দু’জনের নিয়োগ বা অপসারণের পদ্ধতি ভিন্ন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সাংসদ ও বিধায়কদের দ্বারা। কিন্তু রাজ্যপালকে নিয়োগ করে কেন্দ্রীয় সরকার। রাষ্ট্রপতিকে (President of India) অপসারণের একমাত্র পথ ইমপিচমেন্ট। রাজ্যপালকে (Governor) ইচ্ছে করলেই রাতারাতি সরিয়ে দেওয়া যায়। নরিম্যানের পর্যবেক্ষণ, এই কারণেই রাজ্যপাল কেন্দ্রীয় সরকারের মুখাপেক্ষী থাকেন।

শুক্রবার কলকাতার ওয়েস্ট বেঙ্গল ন্যাশানাল ইউনিভার্সিটি এফ জুরিডিকাল সায়েন্সেস-এ একটি বক্তৃতায় যোগ দেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রোহিন্টন নরিম্যান (R Nariman)। ‘রাজ্যপাল কি কেন্দ্রের প্রহরী না, রাজ্যের প্রকৃত প্রধান’ শীর্ষক  সপ্তম এম কে নাম্বিয়ার স্মারক ভাষণ দিতে এসেছিলেন তিনি। সেখানে অতীতের একের পর এক মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায় ও সাংবিধানিক ধারার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি।

আরও পড়ুন: মোদি-সফরের পাঁচদিনেই অশান্ত মনিপুর: সেনা কনভয়ে হামলায় নিহত ২ জওয়ান

সেখানেই রাজ্যপালের নিয়োগ ও অপসারণ সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি রাজ্যপালের কর্মপদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর ব্যাখ্যা, বিধানসভায় পাশ হওয়া বিল ফেরত পাঠানোর পর ফের পাশ করে অনুমোদনের জন্য আসলে তা কতদিন আটকে রাখা যাবে, তার স্পষ্ট কোনও সময়সীমা নেই। তবে সেই বিল ফেরত পাঠালে রাজ্যপাল অনুমোদন দিতে বা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাতে বাধ্য।‌ এখানেই সমস্যার সূত্রপাত।

Related articles

এক দিকে ‘জনতার বিধানসভা’, অন্য দিকে সাংবাদিকদের পথ রুদ্ধ! অধ্যক্ষের ডিজিটাল দাওয়াই ঘিরে তুঙ্গে দ্বিচারিতার বিতর্ক

এক দিকে বিধানসভাকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও জনমুখী করে তোলার একগুচ্ছ রূপরেখা, অন্য দিকে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের প্রবেশাধিকারে...

মৃত্যুঞ্জয়ের পরে সায়নীর অবস্থান জানতে চেয়ে পোস্ট যুবনেতা শুভ্রজিতের

যুব তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় পালের (Mrityunjay Paul) পরে এবার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের যুব তৃণমূল সভাপতি শুভ্রজিৎ...

ইতিহাসের গৈরিকীকরণের অভিযোগ! প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিতর্কিত ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদ্‌যাপনের তোড়জোড় বিজেপির 

প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আগামী ২০ জুন রাজ্যজুড়ে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বিজেপি সরকার। কিন্তু অনুষ্ঠান ঘোষণার পর...

আদালতের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল! ফলতায় ফের অভিযুক্তকে হাফ প্যান্ট পরিয়ে রাস্তায় হাঁটাল পুলিশ

আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল, পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে পারে, তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিতে পারে, কিন্তু কোনোভাবেই কারও সম্মানহানি করতে...