Saturday, May 2, 2026

মোদি সরকারের আত্মসমর্পণ! ভারতে মহিলা সাংবাদিকদের উপর ‘তালিবানি শাসনে’ বিতর্ক

Date:

Share post:

দুদিন আগেই ভারতে পা রেখেছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার। তাঁর বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে সাংবাদিক বৈঠক – সর্বত্র দেশী ও বিদেশী সাংবাদিকদের উপস্থিতি যে চোখে পড়ার মতোই থাকবে, তা ছিল বলাই বাহুল্য। সেখানে সাংবাদিকদের কোনও লিঙ্গভেদ ছিল না। আর সেটাও ছিল প্রত্যাশিত। অথচ তার পরেরদিনই সাংবাদিক বৈঠকের ছবিটা সেই ভারতেই বদলে গেল আফগানিস্তানের (Afghanistan) বিদেশ মন্ত্রীর উপস্থিতিতে। তিনি তালিবানি শাসন ছেড়ে ভারতে এসে সাংবাদিক বৈঠক (press conference) করলেও সেই সাংবাদিক বৈঠকে জারি থাকল কড়া তালিবানি (Taliban) শাসন। ঢুকতে পারলেন না কোনও মহিলা সাংবাদিক। মোদির সরকার সেই ফতোয়াই মেনে নিল দেশের রাজধানীতে। স্বাভাবিকভাবেই দিল্লির বিজেপি সরকারের এই মেরুদণ্ডহীনতায় সরব তৃণমূল থেকে সব বিরোধীদলগুলি।

ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের (S Jaishankar) সঙ্গে বৈঠকের পরে শুক্রবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করেন আফগানিস্তানের বিদেশমন্ত্রী (foreign minister) আমির খান মুত্তাকি (Amir Khan Muttaqi)। আশ্চর্যজনকভাবে সেখানে দেশের বা বিদেশের সংবাদ সংস্থাগুলির যে সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের মধ্যে একজনও মহিলা সাংবাদিক ছিলেন না। প্রাথমিকভাবে বর্খা দত্ত-সহ একাধিক ভারতীয় মহিলা সাংবাদিক প্রতিবাদে সরব হন। এই সাংবাদিক বৈঠককে ‘মেল ওনলি’ (male only) বলে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। ভারতের মাটিতে তালিবান প্রোটোকল মেনে কীভাবে আমির মুত্তাকির দাবি মেনে নিল বিদেশ মন্ত্রক বা বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এক ধাপ এগিয়ে কেন্দ্রের মোদি সরকারের এই আচরণকে গ্রহণের অযোগ্য ও কুৎসিত বলে দাবি করেন তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ (Sagarika Ghose)। একে ভারতের মোদি সরকারের বিদেশ নীতির ব্য়র্থতা বলে দাবি করেন তিনি। সেই সঙ্গে দুর্বল মোদির মিলিজুলি সরকারের (coalition government) আত্মসমর্পণ বলেও দাবি করেন তিনি।

দেশের একাধিক মহিলা সাংবাদিক দাবি করেন, শুক্রবারের সাংবাদিক বৈঠকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ রাখা হয়েছিল মহিলা সাংবাদিকদের। সেখানেই বিদেশমন্ত্রককে ভিতু বলে দাবি করেন তৃণমূল সাংসদ সাকেত গোখলে (Saket Gokhale)। তাঁর দাবি, ভারত নিজের মাটিতে তালিবান শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারেনি। যে কোনও সভ্য দেশ এই ধরনের মানহানিকর ঘটনা মেনে নিত না। এই ঘটনার জন্য বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের (S Jaishankar) অন্তত মহিলা সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুন: তালিবান মন্ত্রীর ভারত সফরের সময়ই কাবুলে একাধিক বিস্ফোরণ, নেপথ্যে পাকিস্তান!

এই ঘটায় নিন্দা করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও (Rahul Gandhi)। তাঁর দাবি, নরেন্দ্র মোদি যখন নিজের দেশের মহিলাদের জনসমক্ষে সমর্থন জানাতে পারেন না, তখনই বোঝা যায় তাঁর নারী শক্তির স্লোগান আদতে কতটা ফাঁকা আওয়াজ। যদিও বিরোধীদের সমালোচনার মুখে দেশের গবেষকদের সঙ্গে আফগান বিদেশমন্ত্রীর আলোচনাসভায় মহিলা গবেষকদের উপস্থিত থাকতে দেখা যায় শনিবার। তবে তাতে দেশের মহিলা সাংবাদিকদের সম্মানহানির ঘটনা কোনওভাবেই লঘু হচ্ছে না বলেই দাবি সাংবাদিক ও রাজনৈতিক মহলের।

Related articles

অসহায় শিশুর পাশে পুলিশ, বি নেগেটিভ রক্ত দিয়ে নজির রাজগঞ্জের আইসির

উর্দিধারী পুলিশের কঠোর আবরণের আড়ালে যে এক সংবেদনশীল মন লুকিয়ে থাকে, তার প্রমাণ মিলল শুক্রবার। থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত তিন...

৯ ঘণ্টা পর সিজিও-র বাইরে সুজিত: ‘তদন্তে সহযোগিতা করব, তবে যেন হেনস্থা না হয়’ 

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে শুক্রবার ইডি-র ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেন রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। তবে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি...

কেন ভোট গণনায় শুধু কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা? প্রশ্ন তুলে এবার শীর্ষ আদালতে তৃণমূল, শনিতেই শুনানি

কেন ভোট গণনায় শুধু কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা? প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) পরে এবার সুপ্রিম...

CEO মিথ্যে বলেছেন! স্ট্রং রুম নিয়ে DEO-র বক্তব্য তুলে কটাক্ষ তৃণমূলের

নির্বাচন কমিশনের ওয়েব কাস্টিংয়ে স্পষ্ট ধরা পড়েছে পোস্টাল ব্যালটে কারচুপি। তা নিয়ে পরবর্তীতে স্বচ্ছতার দাবিও করেছেন খোদ স্ট্রং...