Friday, April 3, 2026

বাংলাদেশে পাঠানো সোনালি একজন ভারতীয়: এবার প্রমাণ করল নির্বাচন কমিশনের নথি

Date:

Share post:

বাংলাদেশী বলে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া সোনালি খাতুন আদতে ভারতেরই নাগরিক। এবার সেটা প্রমাণ করল খোদ নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা। কমিশনের যে মাপকাঠিতে ভোটার তালিকায় একজন নাগরিকের নাম থাকা সম্ভব, সেই মাপকাঠি পূরণ করেছেন সোনালি। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশে (Bangladesh) জোর করে পাঠিয়ে দেওয়া সোনালি ও তার পাঁচজন সঙ্গীকে ভারতে ফেরানোর তৎপরতা শুরু করল না কেন্দ্রের বাংলা-বিরোধী সরকার।

বীরভূমের অন্তঃসত্ত্বা সোনালি খাতুনকে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ (illegal immigrant) বলে জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। অথচ সোনালির (Sunali Khatun) বাবা ও মা, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় (voter list) বৈধ ভারতীয় নাগরিক (Indian citizen) হিসেবে নথিভুক্ত! যা প্রমাণ করে সোনালি খাতুন ভারতেরই একজন বৈধ নাগরিক। এই ঘটনায় বিজেপিকে তোপ দাগল তৃণমূল কংগ্রেস।

সিইও ওয়েস্ট বেঙ্গল পোর্টাল থেকে পাওয়া ভোটার তালিকায় বীরভূমের মুরারাই বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার হিসেবে ভোদু শেখ এবং জ্যোৎস্না বিবিকে দেখানো হয়েছে। দম্পতির ভোটকেন্দ্র ছিল পাইকর প্রাথমিক বিদ্যালয়, রুম নং ৩। তালিকায় ভোদুর বাবার নাম হাতিম তাই শেখ উল্লেখ করা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশ ২১ জুন সোনালি, তাঁর স্বামী দানিশ শেখ এবং তাদের ৮ বছর বয়সী ছেলেকে কেএন কাটজু মার্গ থেকে গ্রেফতার করে, আধার কার্ড এবং অন্যান্য নথি থাকা সত্ত্বেও তাদের অবৈধ বলে ঘোষণা করে। ২৬ বছর বয়সী সোনালিকে জন্মসূত্রে ভারতীয় হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হলে, নাগরিকত্ব আইন অনুসারে, বাবা-মায়ের মধ্যে অন্তত একজনকে সেই সময়ে ভারতীয় নাগরিক হতে হবে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ২০০২ সালের তালিকাতেই সেই নাগরিকত্ব প্রমাণিত হল সোনালি খাতুনের।

বিজেপিকে আরও একবার তোপ দেগে এ বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে,”প্রমাণ স্পষ্ট, বাংলার মানুষকে অপমান করতে ও আতঙ্কে রাখতেই বিজেপির এই SIR অভিযান। অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে অনুপ্রবেশকারী বলে অন্য দেশে নির্বাসিত করার ঘটনা আবারও স্পষ্ট করল – বিজেপি আসলেই বাংলা-বিরোধী।”

আরও পড়ুন: বিডিও-র টেবিল চাপড়ে ‘সানি দেওল’ বিজেপি সাংসদ! হুমকি সংস্কৃতিকে কটাক্ষ তৃণমূলের

গত ২৬ সেপ্টেম্বর, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও অন্তঃসত্ত্বা সোনালি খাতুন-সহ ছ-জনকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিল বিএসএফ। এই নিয়ে মামলা হওয়ায় উচ্চ আদালত পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, ওঁরা ভারতীয়। চার সপ্তাহের মধ্যে ওঁদের দেশে ফেরাতে হবে কেন্দ্রের সরকারকে। অন্যদিকে বাংলাদেশের আদালতও প্রমাণ করেছে সোনালি ও তাঁর পাঁচ সঙ্গী ভারতীয়। তাঁদের দ্রুত ভারতে ফেরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সময়সীমা ইতিমধ্যেই শেষ। তার পরেও তাঁদের ভারতে ফেরানো হয়নি। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনকে ফেরত আনার দায়িত্ব দেওয়া হলেও কেন্দ্রীয় সরকার কোনও মানবিক তৎপরতা দেখায়নি।

Related articles

নির্বাচনী পদযাত্রায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: শনিবার হাঁটবেন ইংরেজবাজারের পথে

রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে নির্বাচনী প্রচারে ঝড় তুলেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিটি এলাকার ইস্যু ধরে মানুষকে সচেতন...

নিরাপত্তা প্রত্যাহার: ‘অভিযুক্ত’দের জন্য নতুন নির্দেশিকা কমিশনের

রাজ্যের পুলিশে রদবদল ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়োগের পরও বাহিনী যেন কম পড়ছে নির্বাচন কমিশনের। যে সব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত...

হিম্মত থাকলে এক মঞ্চে আসুন: এবার সরাসরি মোদিকে চ্যালেঞ্জ মমতার

মণীশ কীর্তনিয়া এবার মোদিকে এক মঞ্চে বিতর্কে আহ্বান জানালেন  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার মালদহের হবিবপুরের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রীকে (Prime Minister)...

হারের ভয়ে নন্দীগ্রামে অত্যাচার শুভেন্দুর অনুগামীদের: ভিডিও দেখিয়ে গ্রেফতারির দাবি তৃণমূলের

বিরোধী দলনেতার নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর বিজেপির কাছে কার্যত প্রেস্টিজ ফাইট। এবার সেই নন্দীগ্রামে জিততে পারবেন না শুভেন্দু অধিকারী,...