প্রায় তিন বছর পর ফের রাজ্যে শুরু হতে চলেছে কেন্দ্রীয় ১০০ দিনের কাজ (এমজিএনআরইজিএ) প্রকল্প। সুপ্রিম কোর্ট কলকাতা হাইকোর্টের রায় বহাল রাখায় আর কোনও আইনি বাধা রইল না প্রকল্প চালুর পথে। ইতিমধ্যেই নবান্ন আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু করেছে। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, খুব শিগগিরিই প্রকল্পের কার্যক্রম চালু করা হবে।
কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যের জব কার্ড হোল্ডারদের ই-কেওয়াইসি যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে কাজটি সম্পূর্ণ হয়নি। রাজ্যের ২ কোটি ৫৬ লক্ষের বেশি জব কার্ড হোল্ডারের মধ্যে অধিকাংশের আধার লিঙ্ক সম্পন্ন হলেও, ই-কেওয়াইসি আপলোডের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সমস্যার মুখে পড়ছেন আধিকারিকরা। বহু জেলা থেকে অভিযোগ, সার্ভার ডাউন হয়ে যাওয়ায় প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। তবে দফতরের দাবি, এটি সাময়িক সমস্যা, ধীরে ধীরে সব তথ্য আপডেট হয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে কেন্দ্রীয় অর্থপ্রবাহ বন্ধ ছিল অনিয়মের অভিযোগে। এর ফলে লক্ষাধিক গ্রামীণ শ্রমিক কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত হন। রাজ্য সরকার আদালতের দ্বারস্থ হলে, গত ১৮ জুন কলকাতা হাইকোর্ট জানায়— *“কোনও সরকারি কর্মসূচি অনির্দিষ্টকাল বন্ধ রাখা যায় না।”* আদালত দ্রুত প্রকল্প চালুর নির্দেশ দেয় কেন্দ্র ও রাজ্যকে।

কেন্দ্র সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলেও, ২৭ অক্টোবর দেশের সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ— “আমরা মনে করি না যে হাইকোর্টের আদেশে হস্তক্ষেপ করার প্রয়োজন রয়েছে।” ফলে ১০০ দিনের কাজ পুনরায় চালুর পথে আর কোনও আইনি বাধা নেই।

নবান্ন সূত্রে খবর, প্রতিটি জেলা প্রশাসনকে ইতিমধ্যেই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে এবং প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য গঠন করা হয়েছে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য, যত দ্রুত সম্ভব আদালতের নির্দেশ মেনে প্রকল্প শুরু করা এবং শ্রমিকদের হাতে ন্যায্য মজুরি পৌঁছে দেওয়া।

রাজনৈতিক দিক থেকেও এই রায় গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্প বন্ধ থাকার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস তীব্র আক্রমণ শানিয়ে এসেছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হাজার হাজার কর্মী নিয়ে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের অফিস অভিযানে গিয়েছিলেন। আদালতের রায়কে তৃণমূল নেতৃত্ব তাই “ন্যায়ের লড়াইয়ের জয়” হিসেবে দেখছে।

আরও পড়ুন – রাত পোহালে প্রথম দফার নির্বাচন বিহারে: হিংসা ঠেকানোই চ্যালেঞ্জ

_

_

_
_

