Saturday, January 10, 2026

“জন-গণ-মন” নিয়ে রবি ঠাকুরকে অপমান বিজেপি সাংসদের! ক্ষমা চাওয়ার দাবি কুণালদের

Date:

Share post:

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অপমান কর্নাটকের বিজেপি (BJP) সাংসদ বিশ্বেশ্বর কাগেরির। এ প্রসঙ্গে বিজেপিকে ধুয়ে দিল তৃণমূল (TMC)। বিজেপি সাংসদের এই বক্তব্যের প্রতিবাদে সুকিয়া স্ট্রিটে প্রতিবাদ সভা করে বিজেপি সাংসদের ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানালেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তৃণমূলের প্রতিবাদ সভায় ছিলেন তৃণমূল কাউন্সিলর তৃণমূল কাউন্সিলার অয়ন চক্রবর্তী (Ayan Chakraborty), মোনালিসা, তৃণমূল নেতা মৃত্যুঞ্জয় পাল-সহ অন্যান্যরা।

বিজেপিকে নিশানা করে কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) বলেন, “কর্নাটকের (Karnataka) বিজেপির এক সাংসদ রবি ঠাকুরকে অপমান করেছেন। বলেছেন ব্রিটিশদের খুশি করতে রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর জন গণ  মন লিখেছিলেন। বিজেপির ক্রমশ সাহস বাড়ছে। এখনও বাংলার পর্যন্ত ১ লক্ষ ৯৫ হাজার কোটি টাকা বকেয়া। এরপর বিজেপি বাংলা ভাষাকে আক্রমণ করে। আমরা আজ রামমোহন হলের সামনে দাঁড়িয়ে মিটিং করছি। ১৯১৩ সালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore) যখন নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন, সেই সময় কলকাতার বুকে প্রথম নাগরিক সম্বর্ধনা হয়েছিল এই ঐতিহাসিক রামমোহন হলে। ১৯১১ সালে জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে প্রথম জন গন মন গাওয়া হয়। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু (Subhash Bose) প্রস্তাব দিয়েছিলেন জন গন মন-কে জাতীয় সঙ্গীত করার। এই বিজেপি ইতিহাস, ঐতিহ্য জানে না। বাংলাকে অপমান করে। বাঙালিকে সম্মান করতে পারে না বলছে বন্দে মাতরাম পালন করব। আমাদের রক্তে, শিরা, ধমনীতে বন্দে মাতরাম। বিজেপি মেকি দেশপ্রেমী, মেকি হিন্দু। ওরা আসলে দেশবিরোধী। লিখে রেখে দিন ২৫০ আসন নিয়ে চতুর্থবার বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই লড়াই বাংলা লড়াই, অধিকারের লড়াই, অস্তিত্বের লড়াই। যে বিজেপির পূর্বসূরিরা ব্রিটিশকে দাসখত দিয়ে  মুচলেকা দিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে পালিয়ে যেত, সেই বিজেপির লোকেরা বলেছে জন গন মন ব্রিটিশদের খুশি করতে লেখা হয়েছিল। এর জন্য কর্নাটকের বিজেপি সাংসদেকে কড়া শাস্তি দিতে হবে, ক্ষমা চাইতে হবে।”

এদিন তৃণমূলের ভ্রাম্যমাণ SIR সহায়তা ক্যাম্পে  চালু হয়। ছিলেন কুণাল-সহ অন্যান্য তৃণমূল নেতারা। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক জানান, “আমরা আজ থেকে দুয়ারে ক্যাম্প শুরু করছি। আতঙ্কিত হবেন না। যা করার আমাদের প্রতিনিধিরা করবেন।”
আরও খবরSIR কাড়ল আরও ২ প্রাণ, বিজেপির রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের বলি এবার কুলপি- সাঁইথিয়ায়

এসআইআর নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ফের তোপ দেগে কুণাল বলেন, “বাংলা নাকি কোনও ভাষা নয়, বাংলা মানে বাংলাদেশি ভাষা। এসআইআরের নামে এনআরসি-র ছায়া। আমরা বলছি একজন বৈধ ভোটারকে আমরা বাদ দিতে দেব না। একজন অবৈধ ভোটারকে রাখতেও দেব না। মহারাষ্ট্র, দিল্লিতে ভোতার লিস্টে কারচুপি করেছে তো বিজেপি। অন্য রাজ্যের ভোটার বাংলায় ঢুকিয়েছে, কে ধরেছেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুপ্রবেশ রোখার দায়িত্ব কার? অমিত শাহের, বিএসএফের। বলছে রোহিঙ্গা আসছে। কিন্তু মায়ানমারের সঙ্গে তো বাংলার সীমান্তই নেই। যেসব রাজ্যের সঙ্গে মায়ানমারের বর্ডার সেখানে এসআইআর হবে না হচ্ছে বাংলায়। কারণ সামনে ভোট। ২০০২ সালে যখন এসআইআর হয়েছিল তখন দুই থেকে আড়াই বছর সময় লেগেছিল। ২০০১ সালের ভোটের পরে করেছিল। এখন বিধানসভা ভোটের আড়াই মাস সময়,এর মধ্যে সম্ভব? মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। এর জন্য কত মানুষ আত্মহত্যা করলেন। সময় নিয়ে এসআইআর করতে পারতেন এত তাড়াহুড়োর কী ছিল।”

spot_img

Related articles

কঠিন, দুর্ভাগ্যজনক: ইডি তল্লাশিতে প্রতিক্রিয়া IPAC-এর, উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তৃণমূলের

নিজেদের কাজের ধরণ ও রাজনৈতিক সংযোগের উদাহরণ তুলে ধরে বৃহস্পতিবারের ইডি হানাকে কঠিন ও দুর্ভাগ্যজনক বলে দাবি করা...

নতুন করে কাজের চাপে আত্মঘাতী বিএলও! আতঙ্কে মৃত্যু দুই ভোটারেরও

নিজেদের কাজের টার্গেট পূরণের জন্য ক্রমশ চাপ বাড়ানো হচ্ছে রাজ্যে সরকারি কর্মী বিএলওদের উপর। তার জেরে ক্রমশ মৃত্যুর...

তাহেরপুরে অভিষেকের সভা: ভিড়ের ছবি বুঝিয়ে দিল মতুয়ারা কার পক্ষে

কিছুদিন আগে নদিয়ায় রানাঘাটে সভা করার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। আবহাওয়ার কারণে তিনি সেখানে পৌঁছাতে না পেরে...

নেক্সট ডেস্টিনেশন ইলেকশন কমিশন: নির্বাচন কমিশনারের ভোটার বাদের চক্রান্তে হুঙ্কার মমতার

গণতন্ত্রে মানুষ নিজের সরকার নির্বাচন করে। আর বিজেপির চক্রান্তে নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োগ করে এবার বিজেপির স্বৈরাচারী সরকার ভোটার...