Tuesday, February 10, 2026

দার্জিলিং-এ কেন্দ্রের ‘হস্তক্ষেপ’: তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ফের প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর

Date:

Share post:

রাজ্যকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে পাহাড়ে গোর্খাল্যান্ড নিয়ে আলোচনার জন্য  ‘ইন্টারলোকিউটর’ বা মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করা নিয়ে সংঘাত চরমে উঠল। কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘অসাংবিধানিক’, ‘বেআইনি’ এবং ‘যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর উপর নির্লজ্জ আঘাত’ বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (Nerendra Modi) ফের কড়া ভাষায় চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সোমবার, নবান্ন থেকে পাঠানো এই চিঠিতে, অবিলম্বে এই ‘স্বৈরাচারী’ ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

দার্জিলিং (Darjeeling), কালিম্পং ও তরাই-ডুয়ার্সের পাহাড়ি অঞ্চলের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ ঘিরে বহুদিন ধরেই কেন্দ্র রাজ্য বিরোধ চলছে। গত অক্টোবর মাসে  প্রাক্তন উপ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার পঙ্কজ কুমার সিং-কে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগ করায় এই বিরোধ চরমে ওঠে।  এই নিয়োগ নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে আগেই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লেখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তার পরেও অবস্থানে অনড় থাকে কেন্দ্র। ১০ নভেম্বর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বিজ্ঞপ্তি জারি করে মধ্যস্ততাকারীর কাজ শুরু করার কথা জানিয়েছে। তারপর এদিন ফের প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

নবান্ন (Nabanna) সূত্রে খবর, চিঠির শুরুতেই মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করা নিয়ে আগের চিঠির উল্লেখ করে  মুখ্যমন্ত্রী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, “এটা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় যে আমার চিঠির জবাবে আর কোনও যোগাযোগ ছাড়াই এবং আপনার সদয় হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ মধ্যস্থতাকারীর কার্যালয়, ১০ নভেম্বর স্মারকলিপির মাধ্যমে জানিয়েছে যে মধ্যস্থতাকারীর কার্যালয় ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। এটি সত্যিই মর্মান্তিক।“

মুখ্যমন্ত্রীর Mamata Banerjee) অভিযোগ, এই নিয়োগের আগে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনওরকম আলোচনা বা পরামর্শ করা হয়নি। তিনি নিজে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করার পরেও বিষয়টিকে উপেক্ষা করেছে কেন্দ্র। এই পদক্ষেপকে “সম্পূর্ণ একতরফা এবং স্বৈরাচারী” বলে নিন্দা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

চিঠিতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী সাংবিধানিক এবং আইনি যুক্তি তুলে ধরেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, “দার্জিলিং অঞ্চল পশ্চিমবঙ্গের একটি অবিচ্ছেদ্য এবং অবিচ্ছেদ্য অংশ।” এই অঞ্চলটি ‘গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ) অ্যাক্ট, ২০১১’ দ্বারা পরিচালিত হয়, যেটি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পাশ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ করেছিল। মুখ্যমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন, উক্ত আইনে “সরকার” বলতে স্পষ্টতই পশ্চিমবঙ্গ সরকারকেই বোঝানো হয়েছে। তাঁর জোরালো অভিযোগ, এই পরিস্থিতিতে দার্জিলিং-এর মতো একটি রাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করার কোনও সাংবিধানিক এক্তিয়ার বা এক্তিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের নেই। তিনি ১০ নভেম্বরের এই আদেশকে ক্ষমতার অপব্যবহার  এবং সংবিধানের সরাসরি লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ সংবিধানের ষষ্ঠ, সপ্তম এবং একাদশ তফসিলে বর্ণিত কেন্দ্র-রাজ্য ক্ষমতা বিভাজনের  নীতির সম্পূর্ণ বিরোধী।শুধুমাত্র আইনি নয়, রাজনৈতিকভাবেও কেন্দ্রকে বিঁধেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি এই পদক্ষেপকে “যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর উপর নির্লজ্জ হানা”এবং “সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো”-এর চেতনার উপর আক্রমণ বলে বর্ণনা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে, ২০১১ সাল থেকে রাজ্য সরকারের নিরন্তর প্রচেষ্টায় দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কার্শিয়াং-এর অশান্ত পাহাড়ে শান্তি ফিরে এসেছে এবং ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। তাঁর আশঙ্কা, কেন্দ্রের এই নতুন পদক্ষেপ আসলে পাহাড়ের “শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”। প্রধানমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করে এই “স্বৈরাচারী” আদেশটি অবিলম্বে প্রত্যাহার করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

spot_img

Related articles

হাসপাতালে কড়া নজরদারি! স্বাস্থ্য ভবনে খুলল ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল রুম 

রাজ্যের সরকারি চিকিৎসা পরিষেবার মানোন্নয়ন এবং পরিকাঠামোর ওপর নজরদারি আরও কড়া করতে বড় পদক্ষেপ নিল স্বাস্থ্য দফতর। এবার...

সংস্কৃতি ও ভাষা সংরক্ষণে AI ব্যবহারে জোর ভারতের

সংস্কৃতি ও ভাষা সংরক্ষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (Artificial Intelligence in India) প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহার জোরদার করছে ভারত সরকার। এই উদ্যোগের...

উচ্চ মাধ্যমিকে আর নেওয়া যাবে না অতিরিক্ত পাতা! নিয়ম বদল শিক্ষা সংসদের

বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা (Higher Secondary Exam)। এই বছর প্রথম সেমিস্টারে পরীক্ষা দেবে...

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ভোট টানতে মৃত দীপু দাসের পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ইউনূসের

মাঝে কেবল একটা দিন, তারপরেই বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন (Bangladesh Election)। তার আগে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু ভোট টানতে দীপু দাসের...