যাঁকে ঘিরে কয়েক সপ্তাহ ধরে আদালতে চলছিল টানটান লড়াই! সিঙ্গল বেঞ্চ থেকে ডিভিশন বেঞ্চ, প্রতিটি শুনানিতেই জট পাকাচ্ছিল পারিবারিক বিরোধ। সেই জটিলতার মধ্যেই হঠাৎ নেমে এল দুঃসংবাদ। শিল্পপতি সঞ্জিত চট্টোপাধ্যায় প্রয়াত। খবরটি পৌঁছতেই এজলাসে নেমে আসে গভীর বিষণ্ণতা; বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী আবেগ চেপে রাখতে না পেরে চোখের জল ফেলেন। একই দৃশ্য দেখা যায় আদালতে উপস্থিত আইনজীবী ও আবেদনকারী পক্ষের মধ্যেও।

গত কয়েকদিন ধরেই কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে ছিলেন সঞ্জিত চট্টোপাধ্যায়। অথচ তাঁর বড় মেয়ে মম গঙ্গোপাধ্যায় চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেন—মা ও বোনের আপত্তির কারণে তিনি বাবার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাচ্ছিলেন না। বহুবার চেষ্টা করেও যখন ব্যর্থ হন, তখনই মুম্বই থেকে কলকাতা ফিরে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।

তাঁর আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ গত সপ্তাহেই নির্দেশ দেন, রোগী সম্মতি দিলে মম বাবার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। কিন্তু সেই নির্দেশ বাস্তবে কার্যকর হয়নি বলেই দাবি আবেদনকারী পক্ষের। মমের আইনজীবী তীর্থঙ্কর দে জানান, হাসপাতালের পক্ষ থেকে একটি কাগজে রোগীর টিপসই দেখিয়ে জানানো হয়, সঞ্জিত চট্টোপাধ্যায় নাকি দেখা করতে চান না। তাঁর প্রশ্ন, একজন শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতি কেন টিপসই দেবেন! প্রয়োজনে তিনি সই করতেও পারতেন। মৃত্যুশয্যায় থাকা কোনও ব্যক্তির এমন সিদ্ধান্ত জানানোর সক্ষমতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সবটাই ছিল পরিকল্পিতভাবে মমকে দূরে রাখার চেষ্টা।

শনিবার জরুরি ভিত্তিতে বসা ডিভিশন বেঞ্চে ভার্চুয়াল শুনানিতে যোগ দেন মমের মা। সেখানেই তিনি স্বীকার করেন, মেয়েকে বাবার সঙ্গে দেখা করতে দেননি তিনিই। ঠিক তখনই আদালতে পৌঁছায় আর একটি খবর, সঞ্জিত চট্টোপাধ্যায় আর নেই। সংবাদটি শুনেই স্তব্ধ হয়ে যায় আদালত। বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী গভীর আক্ষেপে উৎকণ্ঠার স্বরে বলেন, “ওহ মাই গড!” বহু দিনের আইনি লড়াই, আবেদন, শুনানি, সবই বৃথা হয়ে গেল। জীবিত অবস্থায় বাবাকে দেখাই হল না মম গঙ্গোপাধ্যায় চট্টোপাধ্যায়ের। আদালত-চত্বরে উঠছে নতুন প্রশ্ন, শেষকৃত্যে অন্তত কি উপস্থিত থাকতে পারবেন তিনি? নাকি সেই অধিকারটুকুর জন্যও তাঁকে আবার আদালতের শরণাপন্ন হতে হবে?

আরও পড়ুন- রাঁচিতে কোহলির সঙ্গে একই দামে টক্কর দিয়ে বিক্রি ধোনির জার্সির!

_

_

_

_

_
_

