Friday, January 30, 2026

সাড়ম্বরে যোগদান মেলা নয়, ‘বেনোজল’ আটকাতে টিকিটের বিনিময়ে দলে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত বিজেপির

Date:

Share post:

টিকিটের আশায় ভোটের আগে পদ্মমুখী রাজনৈতিক দলবদলুরা। কারও ভাগ্যে শিকে ছেঁড়ে। কেউ কল্কে পান না। তাঁদের মধ্যে আবার পুরনো দলের দরজায় কড়া নাড়েন। আর কেউ পড়ে থাকেন বৃত্তের বাইরে। তবে, রাজনৈতিক লাভের আশায় যাঁরা ভোটের আগে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখান, তাঁদের অনেকেই নির্বাচনের দলের অবস্থা দেখে পিছু হাঁটেন। সেই অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সতর্ক রাজ্য বিজেপি (BJP)। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে অন্য দলের নেতাদের নেওয়ার আগে যাচাই করে নিতে চাইছেন পদ্মনেতারা। যোগাদানের আগে আদর্শগতভাবে তাঁরা বিজেপির মতাদর্শ মেনে চলবেন কি না সেটা দেখে নিতে হবে। টিকিটের বিনিময়ে যোগদান আটকাতে চাইছে পদ্মশিবির।

একুশের ভোটের আগে বাংলায় ক্ষমতায় আসার জন্য ঝাঁপিয়ে ছিল বিজেপি। যোগদান করানোর জন্য রীতিমতো জেলায় জেলায় মেলা করেছিলেন তৎকালীন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষরা। কলকাতা থেকে চাটার্ড প্লেন ভাড়া করে দিল্লি (Delhi) গিয়ে যোগদান করেন অনেকেই। কিন্তু ভোটের পরেই অনেকেই ফিরেছেন পুরনো দলে। সেসময় কৈলাস বিজয়বর্গীয় (Kailash Vijaybargiya) ছিলেন বঙ্গ বিজেপির পর্যবেক্ষক। এখন দলের পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল। এবার দলবদলের ক্ষেত্রে সংযম চাইছে বঙ্গ বিজেপি। এবারে যোগদানে কোনও আড়ম্বর হবে না। যে মাপের নেতা, সেই আকারেই অনাড়ম্বর যোগদান অনুষ্ঠান করা হবে।

সম্প্রতি দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বকে নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন বনসল। সেখানে রাজ্য বিজেপির সংগঠন সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, অগ্নিমিত্রা পালেরাও ছিলেন। বিজেপির অন্দরের খবর, সুনীল বনশল স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দলবদলে আর কোনও আড়ম্বর নয়। বড় নাম নয়, যাঁরা সত্যিই বিজেপির মতাদর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন, সেই নেতাদের দলে নিতে হবে। ২০২১-এর মতো বড় করে ‘যোগদান মেলা’ করা হবে না। যে সব নেতা মণ্ডলস্তরের তাঁদের যোগদান সারা হবে মণ্ডল স্তরেই। কারও কারও ক্ষেত্রে যোগদান জেলাস্তরে হতে পারে। খুব বড় মাপের নামে ছাড়া যোগদান রাজ্য সদর কার্যালয়ে হবে না। আর সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত হল, টিকিটের শর্তে কাউকে যোগদান করানো হবে না। যোগদান করার পরে আগে দলের কাজ করতে হবে। দল যদি যোগ্য মনে করে তবেই টিকিট দেওয়া হবে।

বঙ্গ বিজেপিতে এখন আদি-নব্যর দ্বন্দ্ব তুঙ্গে। দলবদলুদের বাড়বাড়ন্তে কোণঠাসা দিলীপ ঘোষের মতো আদি বিজেপি নেতারা। কয়েকদিন আগেই ডায়মন্ড হারবার যাওয়ার পথে দলীয় কর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়ছিল দলবদলু শুভেন্দু অধিকরীর (Shubhanedu Adhikari) গোষ্ঠীর নেতা প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে (Sukanta Majumder)। ওঠে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) জিন্দাবাদ স্নোগানও। ভোট ম্যানেজাররা মনে করছেন, দলবদলুরা গেরুয়া ভাবধারার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছেন না। সেই সেকারণেই দলের অন্দরে ক্ষোভ বাড়ছে। এবার অন্য দল থেকে বিজেপিতে (BJP) যোগদানের আগে নেতাদের যাচাই করে নেওয়া হবে। অর্থাৎ ‘বেনোজল’ আটকাতে চাইছে বিজেপি।

spot_img

Related articles

ভোটারদের শুনানি নথি আপলোডে ‘ইচ্ছাকৃত ভুল’ বরদাস্ত নয়, শাস্তি দেবে কমিশন!

এসআইআর হিয়ারিং (SIR hearing) সংক্রান্ত তথ্য আপলোডে যদি কোন ভুল হয় তাহলে শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে ERO...

দিনের বেলায় উধাও শীত, এক ধাক্কায় বাড়ল মহানগরীর তাপমাত্রা!

দক্ষিণবঙ্গে ঊর্ধ্বমুখী পারদ। শুক্রবার সকালে মহানগরীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আলিপুর আবহাওয়া দফতর (Alipore Weather Department) জানিয়েছে...

আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার মোমো সংস্থার ২, ‘জতুগৃহ’ থেকে উদ্ধার আরও দেহাংশ

আনন্দপুরের নাজিরাবাদে দুটি গোডাউনে আগুন (Anandapur Fire) লাগার ঘটনায় বাড়ল গ্রেফতারি। ডেকরেটার্স সংস্থার মালিকের পর এবার 'ওয়াও মোমো'র...

গান্ধীজির মৃত্যুবার্ষিকীতে একতা আর গণতন্ত্রের কথা মনে করালেন মুখ্যমন্ত্রী 

আজ জাতির জনকের মৃত্যুবার্ষিকী (Death Anniversary of Mahatma Gandhi)। মহাত্মা গান্ধীর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সমাজ মাধ্যমে...