Saturday, February 21, 2026

সাড়ম্বরে যোগদান মেলা নয়, ‘বেনোজল’ আটকাতে টিকিটের বিনিময়ে দলে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত বিজেপির

Date:

Share post:

টিকিটের আশায় ভোটের আগে পদ্মমুখী রাজনৈতিক দলবদলুরা। কারও ভাগ্যে শিকে ছেঁড়ে। কেউ কল্কে পান না। তাঁদের মধ্যে আবার পুরনো দলের দরজায় কড়া নাড়েন। আর কেউ পড়ে থাকেন বৃত্তের বাইরে। তবে, রাজনৈতিক লাভের আশায় যাঁরা ভোটের আগে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখান, তাঁদের অনেকেই নির্বাচনের দলের অবস্থা দেখে পিছু হাঁটেন। সেই অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সতর্ক রাজ্য বিজেপি (BJP)। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে অন্য দলের নেতাদের নেওয়ার আগে যাচাই করে নিতে চাইছেন পদ্মনেতারা। যোগাদানের আগে আদর্শগতভাবে তাঁরা বিজেপির মতাদর্শ মেনে চলবেন কি না সেটা দেখে নিতে হবে। টিকিটের বিনিময়ে যোগদান আটকাতে চাইছে পদ্মশিবির।

একুশের ভোটের আগে বাংলায় ক্ষমতায় আসার জন্য ঝাঁপিয়ে ছিল বিজেপি। যোগদান করানোর জন্য রীতিমতো জেলায় জেলায় মেলা করেছিলেন তৎকালীন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষরা। কলকাতা থেকে চাটার্ড প্লেন ভাড়া করে দিল্লি (Delhi) গিয়ে যোগদান করেন অনেকেই। কিন্তু ভোটের পরেই অনেকেই ফিরেছেন পুরনো দলে। সেসময় কৈলাস বিজয়বর্গীয় (Kailash Vijaybargiya) ছিলেন বঙ্গ বিজেপির পর্যবেক্ষক। এখন দলের পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল। এবার দলবদলের ক্ষেত্রে সংযম চাইছে বঙ্গ বিজেপি। এবারে যোগদানে কোনও আড়ম্বর হবে না। যে মাপের নেতা, সেই আকারেই অনাড়ম্বর যোগদান অনুষ্ঠান করা হবে।

সম্প্রতি দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বকে নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন বনসল। সেখানে রাজ্য বিজেপির সংগঠন সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, অগ্নিমিত্রা পালেরাও ছিলেন। বিজেপির অন্দরের খবর, সুনীল বনশল স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দলবদলে আর কোনও আড়ম্বর নয়। বড় নাম নয়, যাঁরা সত্যিই বিজেপির মতাদর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন, সেই নেতাদের দলে নিতে হবে। ২০২১-এর মতো বড় করে ‘যোগদান মেলা’ করা হবে না। যে সব নেতা মণ্ডলস্তরের তাঁদের যোগদান সারা হবে মণ্ডল স্তরেই। কারও কারও ক্ষেত্রে যোগদান জেলাস্তরে হতে পারে। খুব বড় মাপের নামে ছাড়া যোগদান রাজ্য সদর কার্যালয়ে হবে না। আর সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত হল, টিকিটের শর্তে কাউকে যোগদান করানো হবে না। যোগদান করার পরে আগে দলের কাজ করতে হবে। দল যদি যোগ্য মনে করে তবেই টিকিট দেওয়া হবে।

বঙ্গ বিজেপিতে এখন আদি-নব্যর দ্বন্দ্ব তুঙ্গে। দলবদলুদের বাড়বাড়ন্তে কোণঠাসা দিলীপ ঘোষের মতো আদি বিজেপি নেতারা। কয়েকদিন আগেই ডায়মন্ড হারবার যাওয়ার পথে দলীয় কর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়ছিল দলবদলু শুভেন্দু অধিকরীর (Shubhanedu Adhikari) গোষ্ঠীর নেতা প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে (Sukanta Majumder)। ওঠে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) জিন্দাবাদ স্নোগানও। ভোট ম্যানেজাররা মনে করছেন, দলবদলুরা গেরুয়া ভাবধারার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছেন না। সেই সেকারণেই দলের অন্দরে ক্ষোভ বাড়ছে। এবার অন্য দল থেকে বিজেপিতে (BJP) যোগদানের আগে নেতাদের যাচাই করে নেওয়া হবে। অর্থাৎ ‘বেনোজল’ আটকাতে চাইছে বিজেপি।

spot_img

Related articles

পোর্টালে ERO-দের অ্যাক্সেস বন্ধ, বড় নির্দেশ খোদ CEO-র! চ্যাট ফাঁস অভিষেকের

নির্বাচন কমিশনের নিজের তৈরি করা নিয়ম থেকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ। সব নিয়মের তোয়াক্কা না করে এবার কমিশনের পোর্টালে...

বেঙ্গালুরুতে রহস্যমৃত্যু পরিযায়ী শ্রমিকের, পরিবারের পাশে অভিষেক

বিভিন্ন রাজ্যে বাংলার শ্রমিকের মৃত্যু অব্যাহত। কিছুতেই এই মৃত্যু থামানো যাচ্ছে না। দুবেলা দুমুঠো অন্নের জন্যে, একটু বেশি...

বাংলার অস্মিতা রক্ষায় জোট বাঁধুন: ভাষা দিবসের মঞ্চ থেকে দুর্যোধন-দুঃশাসনকে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

বাংলা ভাষার প্রতি অসম্মানের পথে হাঁটা দুর্যোধন-দুঃশাসনদের এবার ভাষা দিবসের মঞ্চ থেকে হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)।...

তৃণমূলে প্রতীক উর: দলের আদর্শ তুলে ধরে বাম-বিজেপিকে ধুয়ে দিলেন অভিষেক

জল্পনার অবসান। শনিবাসরীয় বিকেলে তৃণমূলের (TMC) আমতলার কার্যালয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সঙ্গে বৈঠকের...