Saturday, May 16, 2026

‘চাকরি খেতে’ ডিভিশন বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতের যাওয়ার ভাবনা সিপিএম-বিজেপির! ধুয়ে দিলেন কুণাল

Date:

Share post:

প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের (Abhijit Ganguli) রায় খারিজ করে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বহাল রেখেছে কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) ডিভিশন বেঞ্চ। চাকরি রয়েছে ৩২ হাজারের। কিন্তু সেই চাকরি থাকাও আবার কারও অপছন্দ। সেই কারণে ডিভিশন বেঞ্চের রায়কে যদি চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) যাওয়া হলে তিনি মামলাকারীদের হয়ে লড়বেন। জানিয়েছেন সিপিএমের রাজ্যসভার সাংসদ তথা আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য। এই বিষয় নিয়ে কিছুটা  বিব্রত তাঁর দল সিপিএমের শীর্ষ নেতৃত্ব। দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের মতে, ‘‘আমরা পার্টিগত ভাবে কোনও নির্দেশ তাঁকে আগেও দিইনি।‘‘ আর এই বিষয়টি কটাক্ষ করে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) বলেন, সিপিএম-বিজেপি (CPIM-BJP) আইনজীবীরা যত বলবেন, তত সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে কারা চাকরি খেতে চায়।

বুধবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, এত শিক্ষকের চাকরি বাতিল করে দেওয়া যাবে না। ৯ বছর ধরে তাঁরা চাকরি করেছেন। চাকরি বাতিল করলে তাঁদের পরিবারের উপরেও প্রভাব পড়বে। মানবিক কারণেই চাকরি বাতিলের নির্দেশ খারিজ করেছে ডিভিশন বেঞ্চ। তদন্তে কোথাও এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি যে, যাঁরা চাকরি পেয়েছেন তাঁরা সবাই দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন- পর্যবেক্ষণ আদালতের। CBI তদন্তে পাওয়া গিয়েছে, মোট ২৬৪ জন প্রার্থীর ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে। আরও ৯৬ জন প্রার্থী যোগ্যতা অর্জনের ন্যূনতম নম্বর পাননি। তবুও তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে কিছু প্রার্থীর সমস্যা রয়েছে বলেই পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়াকে বাতিল করা যায় না।

আগে বিকাশের বক্তব্য ছিল, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি হলে পুরো প্যানেলই বাতিল করা উচিত। ৩২ হাজারের চাকরি বহালের রায়ের পরেও সেই অবস্থানেই অনড় তিনি। সুতরাং এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলাকাররা গেলে তিনি সেই মামলা লড়বেন। এই প্রসঙ্গে  মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘‘আমরা পার্টিগত ভাবে কোনও নির্দেশ তাঁকে আগেও দিইনি। এখনও দেব না। কারণ, পেশাগত ভাবে তিনি কী করবেন, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। সবটাই নির্ভর করে তাঁর বোধের উপর।’’ আলিমুদ্দিন স্ট্রিট সূত্রে খবর, এই প্যানেলে বাম সমর্থকরাও রয়েছেন। তাঁদেরকেও দাগি বলায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সেই কারণে বিকাশের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ অবস্থান নিতে চাইছে দল।

এদিকে বিকাশ ভট্টাচার্য ও বিজেপির আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারির ডিভিশন বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার মানসিকতা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল (Kunal Ghosh) বলেন, যত সিপিএম-বিজেপি আইনজীবীরা এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করার কথা বলবেন, ততই চাকরিপ্রার্থীরা বুঝতে পারবেন, কারা কুৎসার রাজনীতি করে চাকরি খেতে চাইছেন। মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়েছে যাবে বন্ধু কে আর শত্রু কে।

Related articles

ভোট পরবর্তী হিংসার তথ্য অনুসন্ধানে আজই জেলায় জেলায় তৃণমূলের প্রতিনিধি দল

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল (West Bengal assembly election result) ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আক্রান্ত তৃণমূল কংগ্রেসের...

SIR-এ নাম বাদ পড়লে খারিজ হবে জাতি শংসাপত্র! জারি নির্দেশিকা

রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পর একের পর এক আগের প্রশাসনের নিয়ম বদলের পথে বর্তমান রাজ্য সরকার। সেই পথে এবার...

ভোট পরবর্তী হিংসা: ছাড় পেলেন না পদকজয়ী স্বপ্না, পুড়ে ছাই বাড়ি

বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করছেন তাঁদের কেউ সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত থাকলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার পর্যন্ত করা হবে। সেই...

প্রচারে হিংসা ছড়ানোর অভিযোগ: FIR দায়ের অভিষেকের বিরুদ্ধে

বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বাংলায় যেভাবে হিংসায় প্ররোচনার অভিযোগ বারবার উঠেছে, তাতে শাসক ও প্রধান বিরোধী কোনও দলই পিছিয়ে...