Thursday, June 11, 2026

বিজেপির সংস্কৃতি মন্ত্রীর মুখে বঙ্কিমের ভুল নাম! সংসদে একের পর এক তোপ তৃণমূলের

Date:

Share post:

বাঙালির প্রতি বিজেপির নেতাদের অসম্মানের পাশাপাশি এবার বিজেপির টিকিটে জিতে দেশের মন্ত্রী হয়ে বসা ব্যক্তিদের অজ্ঞতাও প্রকাশ্যে চলে এলো দেশের সংসদে। লোকসভায় (Loksabha) দাঁড়িয়ে খোদ দেশের সংস্কৃতি দফতরের মন্ত্রী ভুল বলছেন দেশের জাতীয় গান (National song) রচয়িতার নাম। একবার প্রধানমন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্য়ায়কে (Bankim Chandra Chattopadhyay) ‘বঙ্কিমদা’ সম্মোধনে বাঙালির প্রতি অবজ্ঞা বুঝিয়ে দিয়েছেন সোমবারের অধিবেশনে। এবার তাঁরই মন্ত্রীর মুখে ভুল নাম ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রের।

সংসদে ‘বন্দেমাতরম’ নিয়ে আলোচনা করতে এসে নরেন্দ্র মোদির ‘বঙ্কিমদা’ সম্মোধনে সরব হন সাংসদ সৌগত রায়। তৃণমূল সাংসদের সংশোধনীতে নিজের ভুল স্বীকার না করে হেসে বিষয়টাকে হাল্কা করে দেওয়ার চেষ্টা করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপরে সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদির সেই ঔদ্ধত্যকে ধুইয়ে দেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar)। নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) বাচনভঙ্গিকে কটাক্ষ করে তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী যেভাবে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বঙ্কিমদা বললেন মনে হল যেন তিনি চায়ের আড্ডায় বসে, তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করছেন। বাংলা ও বাঙালি এটা ভালো ভাবে নিচ্ছেন না। যেমন মেনে নিচ্ছেন না ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মর্মর মূর্তিকে দাঁড়িয়ে থেকে ভেঙে দাও। বা রাজা রামমোহন রায়, যিনি সতীদাহ প্রথা তুলে দিয়েছেন। সেই বিদ্যাসাগর ও রামমোহনের অপমান যেমন মেনে নিচ্ছে না, তেমনই ঋষি বঙ্কিমের অপমানও মেনে নেবে না।

কিন্তু দেশের প্রধানমন্ত্রী লোকসভায় দাঁড়িয়ে চরম ভুল করে চরম অপমানিত হওয়ার পরও যে বিজেপির নেতারা শিক্ষা নেননি তা প্রমাণ করে দিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত। সংসদে আলোচনা ‘বন্দেমাতরম’ নিয়ে। আলোচনার জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রীর নাম। তার পরেও তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নামটুকু জেনে আসার প্রয়োজন বোধ করেননি! যার ফল স্বরূপ লোকসভায় দাঁড়িয়ে দেশের মন্ত্রী দাবি করলেন, বন্দেমাতরম (Vandemataram) যখন মহান কবি বঙ্কিম দাস চ্যাটার্জি লিখেছিলেন তখন তিনি সেটাকে দুই ভাগে আলাদা আলাদা করে লিখেছিলেন।

আরও পড়ুন : সংসদে ‘বঙ্কিমদা’! মোদির ঔদ্ধত্যের প্রতিবাদ সৌগতর, ক্ষমাও চাইলেন না প্রধানমন্ত্রী

আদতে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংসদকেও যে বাংলার নির্বাচনে জেতার তাস হিসাবে ব্যবহার করছে কেন্দ্রের মোদি সরকার, সোমবার তা আরও একবার প্রমাণিত। বাঙালির আবেগকে সংসদে ব্যবহারের চেষ্টায় গোটা মন্ত্রিসভাকে দাঁড় করিয়ে দিলেন মোদি। কিন্তু তাতে বিজেপির বাংলা-বিদ্বেষী চেহারাই আরও প্রকাশ্যে চলে এলো।

Related articles

আনইনস্টল! আপডেট! মদন মিত্রর পোস্ট ঘিরে জল্পনা

বিক্ষুব্ধ তৃণমূলের পক্ষে ৬৪ বিধায়কের সমর্থন পেয়েছেন বলে বুধবার দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ৬৫ তম বিধায়ক...

রাতারাতি বদলে গেল ভাগ্য! লটারি জিতে সিকিউরিটি গার্ড থেকে কোটিপতি নেপালি যুবক

লটারি যে মানুষের ভাগ্য কোন শিখরে পৌঁছে দিতে পারে, তার এক অবিশ্বাস্য দৃষ্টান্ত তৈরি হলো সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে।...

সৌজন্য! মন্ত্রী হওয়ার পর তাপসকে ফোন শশীর

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বাংলার রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে। তৃণমূল বিধায়কদের একটা বড় অংশ যখন দলের বিরোধিতা করে...

বৈধ নথি থাকলেও ‘বাংলাদেশি’ তকমা বিজেপি-রাজ্যে! শিশু-সহ তিন বাঙালি মহিলাকে থানের থানায় আটকে রাখার অভিযোগ

বৈধ নাগরিকত্বের নথি থাকা সত্ত্বেও সেঁটে দেওয়া হল বাংলাদেশি তকমা। ফের বাংলার তিন মহিলা ও এক শিশু হেনস্থার...