লটারি যে মানুষের ভাগ্য কোন শিখরে পৌঁছে দিতে পারে, তার এক অবিশ্বাস্য দৃষ্টান্ত তৈরি হলো সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে। মাত্র চার বছর ধরে আবুধাবিতে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করা ২৬ বছর বয়সী এক নেপালি যুবক এক ধাক্কায় এখন কোটিপতি। আমিরশাহির বিখ্যাত ‘ইউএই লটারি লাকি ডে’ ড্র-তে মেগা জ্যাকপট জিতে নিয়েছেন তিনি ও তাঁর বন্ধুরা। প্রথম পুরস্কার হিসেবে তাঁরা যৌথ ভাবে জিতেছেন ৩ কোটি দিরহাম, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৭৮ কোটি টাকা।
পাঁচ বন্ধু মিলে যৌথ ভাবে টিকিটটি কেনায় পুরস্কারের টাকা সমান ভাগে ভাগ হয়েছে। ফলে ওই যুবকের একার ভাগ্যেই জুটেছে ৬০ লক্ষ দিরহাম, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকা। বিপুল এই টাকা জেতার পর সিকিউরিটি গার্ডের ইউনিফর্ম চিরতরে তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভাগ্যবদল হওয়া ওই নেপালি যুবক তৈয়ব খান। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, অন্যের অধীনে আর চাকরি নয়, এবার তিনি সরাসরি পা রাখবেন ব্যবসার দুনিয়ায়।
গত ২৭ মে ইদ-উল-আজহার ছুটির দিনে যখন লাকি ড্র-র আসর বসেছিল, তৈয়ব তখন আবুধাবিতে নিজের সিকিউরিটি পোস্টে নাইট শিফটের ডিউটি করছিলেন। হঠাৎই তাঁর ফোনে একটি ইমেল আসে। তৈয়ব জানান, কাজ করতে করতে যখন ইমেলটা খোলেন এবং দেখেন সেখানে ৩ কোটি দিরহাম লেখা রয়েছে, তখন বিস্ময়ে তাঁর হাত-পা কাঁপতে শুরু করেছিল। ২০২৪ সালের শুরুর দিকে ফেসবুকে স্ক্রোল করতে করতে প্রথম এই লটারির খোঁজ পেয়েছিলেন তৈয়ব। এরপর পাঁচ বন্ধু মিলে একটি গ্রুপ তৈরি করে প্রতি সপ্তাহে ৫০ দিরহাম করে দিয়ে লটারির টিকিট কেনা শুরু করেন। কয়েক মাস ধৈর্য ধরার পর অবশেষে মিলল এই মেগা জ্যাকপট।
লটারির টাকা পাওয়ার পর তৈয়বের প্রথম লক্ষ্য হলো নেপালে থাকা তাঁর পরিবারের জন্য একটি বিলাসবহুল বাড়ি তৈরি করা। লটারি জেতার খবর শুনে তাঁর কাকা, যাঁর হাত ধরে কাজের খোঁজে প্রথম দুবাইয়ে আসা, তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিজের ভবিষ্যৎ ব্যবসার পাশাপাশি তৈয়বের ইচ্ছাতালিকায় সবার উপরে রয়েছে একটি মহিন্দ্রা থার জিপ এবং বহুমূল্য রোল্যাক্স ঘড়ি। এ ছাড়াও তিনি দুবাইয়ে একটি নিজস্ব ফ্ল্যাট কেনার এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিজের একটি স্টার্ট-আপ খোলার পরিকল্পনা করছেন।
_
_

_

_

_

_

