হলিউডের (Hollywood) চলচ্চিত্র জগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রয়াত হলিউডের রুপোলি পর্দায় ডাইনোসরের যুগকে জীবন্ত করে তোলা স্যাম নীল (Sam Neill)। 'জুরাসিক পার্ক' এ ড. অ্যালান গ্র্যান্ট (Alan Grant) চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের (Newzealand) এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। সোমবার অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে (Sydney, Australia) মারা যান তিনি। বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। পরিবারের প্রকাশিত বিবৃতিতে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ক্যানসারের (Cancer) বিরুদ্ধে লড়াই করে জয়ী হওয়ার পর তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বার্তায় বলা হয়েছে, "ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আমরা স্যাম নীলের মৃত্যুসংবাদ জানাচ্ছি। সোমবার সিডনিতে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্তে পরিবারের সদস্যরা পাশে ছিলেন। মৃত্যুর সময় তিনি ক্যানসারমুক্ত ছিলেন। এই কঠিন সময়ে আমাদের পরিবারের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান জানালে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব। একই সঙ্গে সেন্ট ভিনসেন্টস প্রাইভেট হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই, যাঁদের যত্ন ও সহযোগিতা আমাদের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।"
অভিনেতার জীবনের শেষ কয়েকটি বছর কেটেছে ক্যানসারের বিরুদ্ধে কঠিন লড়াইয়ের মধ্যে। নন-হজকিন লিম্ফোমায় (Non-Hodgkin lymphoma) আক্রান্ত হওয়ার পর দীর্ঘ চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাঁকে। একসময় প্রচলিত কেমোথেরাপি (Chemotherapy) আর প্রত্যাশিত ফল না দিলেও বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির সাহায্যে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। চলতি বছরের শুরুতেই এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, চিকিৎসার ইতিবাচক ফলেই তিনি ক্যানসারমুক্ত জীবন ফিরে পেয়েছেন।
১৯৭৭ সালে 'স্লিপিং ডগস' ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেকের পর কয়েক দশক ধরে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলেছিলেন স্যাম নীল। 'দ্য পিয়ানো', 'ইভেন্ট হরাইজন', 'ইন দ্য মাউথ অব ম্যাডনেস'সহ একাধিক ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়। তবে স্টিভেন স্পিলবার্গ পরিচালিত 'জুরাসিক পার্ক' (Jurassic Park) এ ড. অ্যালান গ্র্যান্টের ভূমিকাই তাঁকে বিশ্বজোড়া জনপ্রিয়তা এনে দেয়। পরে সেই চরিত্রেই 'জুরাসিক পার্ক ৩' (Jurassic Park 3) এবং 'জুরাসিক ওয়ার্ল্ড: ডমিনিয়ন' (Jurassic World: Dominion) এও ফিরে এসে তিনি দর্শকদের কাছে সমানভাবে প্রিয় হয়ে ওঠেন।
















