মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের আঁচ এবার এসে পড়ল ভারতীয়দের উপরও। ওমান উপকূল (Oman Coast) সংলগ্ন হরমুজ প্রণালীতে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ জিএফএস গ্যালাক্সিতে (GFS Galaxy) ইরানের (Iran) হামলার পর জাহাজে থাকা ১১ জন ভারতীয় নাবিকের মধ্যে ১০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, এখনও নিখোঁজ রয়েছেন একজন। হামলায় জাহাজটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি তাতে আগুনও ধরে যায় বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভারত জানিয়েছে, নিখোঁজ নাবিকের সন্ধানে ওমান প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরানোর আহ্বানও জানিয়েছে নয়াদিল্লি (New Delhi)।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক (Ministry of External Affairs of India) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, "ওমান উপকূলের কাছে বাণিজ্যিক জাহাজ জিএফএস গ্যালাক্সির উপর হামলার ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। জাহাজে থাকা ১১ জন ভারতীয়ের মধ্যে ১০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। একজন ভারতীয় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। ওমানে ভারতীয় দূতাবাস স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে উদ্ধার অভিযানের অগ্রগতি নজরে রাখছে।" একই সঙ্গে মন্ত্রক জানান, "এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। উত্তেজনা দ্রুত কমিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজে বের করা জরুরি। আন্তর্জাতিক আইন মেনে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক পরিকাঠামোর উপর হামলা বন্ধ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক জলপথে বাধাহীন নৌ-চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক করতে হবে।"
এদিকে ইরানের দাবি, নির্ধারিত পথের বাইরে দিয়ে চলাচল করায় জাহাজটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হামলার পর জাহাজটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেটি আর যেতে পারবে না বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (US Central Command)। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, ঘটনায় এক বেসামরিক নাবিক এখনও নিখোঁজ। এই হামলার পর ইরানের বিরুদ্ধে অন্তত তিন দফায় সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের (Washington) অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ক্ষমতা দুর্বল করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণের জলপথ। সাম্প্রতিক হামলা, ইরানের প্রণালী বন্ধের ঘোষণাকে ঘিরে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। এরই মধ্যে ইরান ও ওমানের বিদেশমন্ত্রীদের মধ্যে ওই জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠক হলেও পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত। আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা, এই সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের উপরও তার বড় প্রভাব পড়তে পারে।
















