একদিন দু'দিন নয়  টানা আট মাস মহাকাশে থাকবেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত অনিল মেনন। তিনি পেশায় মহাকাশচারী, চিকিৎসক আবার মেকানিক্য়াল ইঞ্জিনিয়ারও। আজ অর্থাৎ মঙ্গলবারই মহাকাশে পাড়ি দিচ্ছেন তিনি। ভারতীয় সময় রাত ৮টা ১৭ মিনিটে মহাশূন্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে তাঁর মহাকাশযানটি। উৎক্ষেপণের পর মাত্র তিন ঘণ্টার রোমাঞ্চকর যাত্রা শেষে রাত ১১টা ২৬ মিনিটে সয়ূজ মহাকাশযানটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের প্রিচাল নামক বিশেষ মডিউলের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডকিং করবে।

১৪ জুলাই কাজাখস্তানের বায়কনুর থেকে মহাকাশে পাড়ি দেবে Soyuz MS-29 মহাকাশযানটি। মূলত রুশ নভোশ্চররা সওয়ার থাকবেন। তাঁদের সঙ্গেই মহাকাশে যাচ্ছেন অনিল। রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা Roscosmos-এর দুই নভোশ্চর পিতোর দুবরভ, আনা কিকিনা এবং অনিল একসঙ্গে পাড়ি দেবেন। এই তিনজন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে প্রায় আট মাস দীর্ঘ সময় কাটিয়ে ২০২৭ সালের এপ্রিল মাসে আবারও পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।

আমেরিকার মিনেসোটা প্রদেশে জন্ম ও বেড়ে ওঠা অনিল মেননের শিকড় আদতেই দক্ষিণ ভারতের কেরলে। তাঁর পিতা সলিল মেনন ছিলেন কেরলের বাসিন্দা, অন্যদিকে তাঁর মা ইউক্রেনীয় বংশোদ্ভূত।

আমেরিকান বায়ুসেনায় নিযুক্ত ছিলেন অনিল। আহত সৈনিকদের চিকিৎসা করতেন। ২০১৪ সালে আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA-য় ফ্লাইট সার্জন হিসেবে যোগদেন। দীর্ঘ সময় পর মহাকাশ অভিযান থেকে ফেরা মহাকাশচারীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আসতে সাহায্য় করতেন। রাশিয়াতেও বেশ কিছুটা সময় কাটিয়েছেন তিনি। সেখানে আন্তর্জাতিক মহাকাশচারীদের সঙ্গে কাজ করেছেন সয়ূয (Soyuz) অভিযান নিয়ে। 

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে কী কী পরীক্ষা করবেন অনিল?
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে দীর্ঘ আট মাস অনিল মেনন এক্সপেডিশন ৭৪ এবং ৭৫-এর সদস্য হিসেবে একাধিক জটিল বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা পরিচালনা করবেন। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা হল জিরো গ্র্যাভিটি বা অতি-স্বল্প অভিকর্ষে সেমিকন্ডাক্টর ক্রিস্টাল উৎপাদন পদ্ধতির প্রক্রিয়াকরণ। এই প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হলে ভবিষ্যতে অত্যন্ত জটিল ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার এবং অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালিত ডিভাইস তৈরি করা আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে। পাশাপাশি একজন দক্ষ চিকিৎসক হিসেবে ডঃ অনিল মহাকাশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অগমেন্টেড রিয়ালিটি চালিত আল্ট্রাসাউন্ড ডিভাইস পরীক্ষা করবেন। এই প্রযুক্তির মূল উদ্দেশ্য হল গভীর মহাকাশ অভিযানে পৃথিবী থেকে কোনও যোগাযোগ বা সাহায্য ছাড়াই নভশ্চরদের অভ্যন্তরীণ রোগ নির্ণয় করা। এছাড়াও মাইক্রোগ্রাভিটি পরিবেশে মানুষের থ্রিডি রক্তনালী জৈবিকভাবে প্রিন্ট করার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এবং মাধ্যাকর্ষণহীনতায় মানুষের বয়স বৃদ্ধির জৈবিক পরিবর্তনের ওপর বিশেষ গবেষণা পরিচালনা করবেন তিনি। 


সকলে এখন অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন মঙ্গলবারের এই রোমাঞ্চকর উৎক্ষেপণের ঐতিহাসিক মুহূর্তটির জন্য।