প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে তৈরি বিস্কুট? শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। পৃথিবী ক্রমশ প্লাস্টিক বর্জ্যে ভরে উঠছে। এই ক্রমাগত বাড়তে থাকা প্লাস্টিক দূষণ থেকে সমাজকে মুক্ত করার জন্য এবং মহাকাশ অভিযানে দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যসঙ্কট মোকাবিলার সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে এই অভিনব আবিষ্কার। যদিও এখনও গবেষণা চলছে।
আরও পড়ুন: ৮১–তে আলাস্কা ভ্রমণ! বয়সকে তুড়ি মেরে ফিট গুরুগ্রামের ‘তরুণী’
সম্প্রতি সাদার্ন ইলিনয়েস ইউনিভার্সিটি কার্বনডেলের গবেষকরা তৈরি করেছেন এক খাদ্যযোগ্য বিস্কুট, যার মুখ্য উপাদানগুলির মধ্যে অন্যতম হল প্লাস্টিকের বোতল এবং উদ্ভিজ্জ বর্জ্য। এই বিস্কুটের নাম রাখা হয়েছে ‘মাইক্রোবাইটস।’ বিস্কুট-জাতীয় এই খাবারটি সত্যি সত্যিই খাওয়া যাবে এবং রীতিমতো পেটও ভরবে তাতে।
আরও পড়ুন: রাজ-মিমির ‘তাণ্ডব’ দেখে ‘সুপার হ্যাপি’ শুভশ্রী! টলিপাড়ায় গুঞ্জন
গবেষণায় ব্যবহৃত প্লাস্টিকের অন্যতম প্রধান ধরন হল পলিইথিলিন টেরেফথালেট বা পিইটি। কোমল পানীয় ও জলের বোতলের মতো একবার ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন পণ্য তৈরিতে এই প্লাস্টিক ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। গবেষকেরা পিইটি প্লাস্টিকের সঙ্গে ফেলে দেওয়া ভুট্টাগাছের কাণ্ড, পাতা এবং অন্যান্য জৈব পদার্থ মিশিয়ে উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপে জল ও অক্সিজেনের সাহায্যে একটি বিশেষ রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিয়ে যান। এতে শক্ত উপাদানগুলো এমন ক্ষুদ্র অংশে ভেঙে যায়, যা অণুজীব সহজে ব্যবহার করতে পারে।
আরও পড়ুন: কেন্দ্রের নয়া নিয়ম: পাড়ার ওষুধের দোকানেও এবার CC ক্যামেরা নজরদারি!
এরপর ওই ভাঙা প্লাস্টিক যৌগের মধ্যে বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়া বা ইস্ট প্রয়োগ করা হয়। গবেষকদের তৈরি এসব অণুজীব প্লাস্টিকের উপজাতকে ব্যবহার করে প্রোটিন, ফ্যাট ও প্রয়োজনীয় শর্করায় সমৃদ্ধ পুষ্টিকর জৈব পদার্থ তৈরি করে। পরে এই উপাদান পরিশোধন ও স্বাদযুক্ত করে থ্রিডি ফুড প্রিন্টারে দেওয়া হয়। প্রিন্টারটি স্তরে স্তরে পেস্ট বের করে বিস্কুটের মতো খাবারের আকৃতি তৈরি করে। এরপর তা বেক বা শক্ত করে খাবার হিসেবে প্রস্তুত করা হয়। আশা করা যায়, আগামীদিনে আরও সুস্বাদু ও সুগন্ধী করে তোলা যাবে বিস্কুটগুলিকে। ভ্যানিলা ফ্লেভারও যোগ করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন: সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বড় চ্যালেঞ্জ! ১ লক্ষ পড়ুয়াকে প্রশিক্ষণ দেবে সরকার, ঘোষণা মোদির
গবেষকদের মতে, বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ ক্ষুধার্ত এবং স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য রাখেন না। তাই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সমস্যা বর্তমানে আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক। অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানে বিশেষ করে মঙ্গলগ্রহে যাতায়াতের সময় এই পুনর্ব্যবহারযোগ্য বিস্কুট যে মহাকাশ্চারীদের জন্য ভীষণ উপযোগী হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
আরও পড়ুন: পাখির পালক থেকে মরা আরশোলা: খাদ্য সুরক্ষা দফতরের হানায় খাবারে মিলছে ‘অখাদ্য’
ভবিষ্যতে প্লাস্টিকের প্যাকেজিং, সরঞ্জামের মোড়ক বা অব্যবহৃত সামগ্রীকে খাবারে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি হলে মহাকাশে খাদ্য সরবরাহের ওপর চাপ কমতে পারে। শুধু মহাকাশ নয়, সাবমেরিন কিংবা দুর্যোগকবলিত এলাকাতেও এমন প্রযুক্তি কাজে লাগতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা। তাঁদের মতে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে খাদ্যের চাহিদা ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। বর্তমানে বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় ৭.৮ শতাংশ বা প্রায় ৬৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ অনাহারে ভুগছেন। তাই এই বিস্কুট একদিকে যেমন খাদ্য সংকট মোকাবিলায় সাহায্য করতে পারে, অন্যদিকে তেমনই প্লাস্টিক বর্জ্যও নিয়ন্ত্রণ করবে।
আরও পড়ুন: বচ্চন পরিবারে আবার ঝোড়ো হাওয়া! হৃতিকের প্রেমে মজেছেন শ্বেতা? জল্পনা বলিউডে
তবে বিজ্ঞানীদের দলটি এই প্লাস্টিক-জাত বিস্কুট এখনও নিজেরাই চেখে দেখার প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন পাননি! যদিও তাঁদের বিশ্বাস, গবেষণার পরবর্তী কোনও ধাপে এটা অবশ্যই সম্ভব হবে। তাই এখনই মানুষের খাওয়ার উপযোগী বলে দাগিয়ে দেওয়া যাচ্ছে না এই বিস্কুটকে।
তবে বর্তমানে এই প্রযুক্তিতে তৈরি বিস্কুট উৎপাদনে প্রতি কেজিতে প্রায় পঞ্চাশ ডলার খরচ হচ্ছে। ফলে ব্যাপক বাণিজ্যিক উৎপাদনের আগে খরচ কমানো ও মানবদেহের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই গবেষকদের বড় চ্যালেঞ্জ।
















