বয়স যে কেবলই একটা সংখ্যা মাত্র, তা আবারও প্রমাণ করলেন গুরুগ্রামের ৮১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা। এই বয়সে যখন অনেকেই চার দেওয়ালের মধ্যে ক্লান্তি আর অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করেন, তখন তিনি অনায়াসে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বরফাবৃত আলাস্কায়। সমান দক্ষতায় সামলাচ্ছেন নিজের ব্যবসাও। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর এই অনুপ্রেরণামূলক জীবনযাত্রা এবং ফিটনেসের রহস্য প্রকাশ পেতেই তা নেটিজেনদের কুর্নিশ কুড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: রাজ-মিমির ‘তাণ্ডব’ দেখে ‘সুপার হ্যাপি’ শুভশ্রী! টলিপাড়ায় গুঞ্জন

সম্প্রতি এই বৃদ্ধা আলাস্কা ভ্রমণে গিয়েছিলেন। সেখানকার হাড় কাঁপানো ঠান্ডা আর দুর্গম পরিস্থিতির পরোয়া না করে তিনি যেভাবে ঘুরে বেরিয়েছেন, তা যেকোনও তরুণকেও টেক্কা দেবে। শুধু ভ্রমণই নয়, ফিরে এসে তিনি প্রতিদিনের মতো নিজের ব্যবসার কাজেও যোগ দিয়েছেন। ঘরসংসার, ব্যবসা আর নিজের ভালোলাগাকে যেভাবে তিনি ভারসাম্য বজায় রেখে চলছেন, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য।

আরও পড়ুন: বচ্চন পরিবারে আবার ঝোড়ো হাওয়া! হৃতিকের প্রেমে মজেছেন শ্বেতা? জল্পনা বলিউডে

নাতনি ক্যামেরা ধরতেই হাসিমুখে জীবনের জয়গান শোনালেন বৃদ্ধা। আলাস্কা মানেই হিমশীতল। তবে উত্তর আমেরিকার ছবিটা একটু অন্যরকম। তবুও এমন একটি জায়গায় ভ্রমণের জন্য যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস এবং সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়াটাও জরুরি। যা এই বৃদ্ধার মধ্যে ভরপুর রয়েছে। 

আরও পড়ুন: জন্মদিনে শুভেচ্ছায় ভাসলেন মোদি: রাষ্ট্রপতির প্রশংসা থেকে শাহের পুজো, নজর কাড়ল শুভেন্দুর কোলাজ

বয়সকালে কীভাবে নিজেকে এতটা সতেজ এবং কর্মক্ষম রেখেছেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি কয়েকটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকরী অভ্যাসের কথা জানিয়েছেন। তিনি প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটেন। শরীরকে সচল রাখতে অলসতাকে একদম প্রশ্রয় দেন না। বাইরের মশলাদার খাবার এড়িয়ে সম্পূর্ণ পুষ্টিকর এবং হালকা ঘরোয়া খাবারই তাঁর পছন্দের। পুষ্টিবিদ গরিমা গয়ালের কথায়, সবচেয়ে বড়ো কথা মানসিক ভাবে নিজেকে ব্যস্ত রাখা। এছাড়াও নিয়ম করে শরীরচর্চা, হাঁটলে, কাজ করলে পেশি সবল থাকে, আত্মবিশ্বাসও বজায় থাকে, যা বয়সকালে খুব জরুরি। 

আরও পড়ুন: কুণালের উদ্যোগে সরকারি সাহায্য, নবান্নে গোপালের হাতে চেক

তাঁর মতে, ফিট থাকার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি হল মনের আনন্দ। নেতিবাচক চিন্তা থেকে দূরে থেকে সবসময় নিজেকে কোনও না কোনও ভালো কাজে ব্যস্ত রাখেন তিনি। এমনকি ব্যবসাকে তিনি শুধু উপার্জনের মাধ্যম মনে করেন না, এটি তাঁর বেঁচে থাকার এবং সক্রিয় থাকার রসদ। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই গল্পটি শেয়ার হওয়ার পর থেকেই প্রশংসার ঝড় উঠেছে। বার্ধক্যকে জয় করে কীভাবে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ করা যায়, গুরুগ্রামের এই ঠাকুমা আজ বহু মানুষের কাছে তার এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা।