আধুনিক দ্রুতগতির জীবনে ‘স্ট্রেস’ বা মানসিক টানাপোড়েন যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। অফিস-কাছারি, পরিবার কিংবা কেরিয়ারের ইঁদুরদৌড়ে শামিল হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত বাড়ছে উদ্বেগ। আর এই মানসিক ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে মানুষ কত কিছুই না চেষ্টা করছেন! ঠিক এই আবহেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশ্বজুড়ে শোরগোল ফেলেছে এক নতুন ট্রেন্ড— ‘কর্টিসল ককটেল’ (Cortisol Cocktail)। দাবি করা হচ্ছে, এই বিশেষ তরলে চুমুক দিলেই নাকি কর্পূরের মতো উবে যাবে মনের সব দুশ্চিন্তা, শরীর ফিরে পাবে সতেজতা। 

আরও পড়ুন: রুদ্রনীলের চক্রান্তের বেলুন ফাঁস! স্বরূপের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির ‘মিথ্যে’ অভিযোগ

কী এই ‘কর্টিসল ককটেল’?

এটি এক ধরনের অ্যান্টি-স্ট্রেস পানীয়। এই ধরনের পানীয় অ্যাংজ়াইটি কমাতে এবং মানসিক চাপ থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে। এর সঙ্গে অ্যালকোহলের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং নানারকম পুষ্টিগুণ সম্পন্ন উপাদান দিয়ে এটি তৈরি করা হয়। শুধু সকাল নয়, যখনই স্ট্রেস ফিল করবেন তখনই এটি পান করতে পারেন। বলা হচ্ছে, সকালে পান করলে যেমন এনার্জি পাওয়া যাবে, আবার দুপুরে পান করলে ঝিমুনি ভাব আসবে না।

কীভাবে তৈরি করবেন?

২০০ মিলিমিটার ডাবের জল বা নারকেলের জলের সঙ্গে ১০০ মিলিমিটার কমলালেবুর রস, এক চিমটে বিটনুন বা সি সল্ট, ১ চা চামচ ম্যাগনেসিয়াম পাউডার, পরিমাণমতো স্পার্কলিং ওয়াটার। সমস্ত উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে নিলেই প্রস্তুত হয়ে যাবে ম্যাজিক পানীয় ‘কর্টিসল ককটেল।’

আরও পড়ুন: কার প্রতিভাকে ভয় ছিল মহানায়কের? ‘চির-তরুণ’ বই প্রকাশে অকপট ঝিমলি

পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, কোনও আরামদায়ক পরিবেশে বসে এই ধরনের সুস্বাদু পানীয় গ্রহণ করার সময় সাময়িকভাবে আমাদের মস্তিষ্ক রিলাক্স মোডে চলে যায়। একে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘প্লেসবো এফেক্ট’ (Placebo Effect)। অর্থাৎ, পানীয়টি কাজ করছে— এই বিশ্বাস থেকেই মন কিছুটা হালকা বোধ করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পানীয়টিতে থাকা উপাদানগুলি শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয় এবং এটি শরীরে পুষ্টি ও ডিহাইড্রেশন (Hydration) দূর করতে দারুণ সাহায্য করে। ম্যাগনেসিয়াম পেশির ক্লান্তি দূর করতে ও ভালো ঘুমে সাহায্য করে। ডাবের জল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখে। 

আরও পড়ুন: কেনাকাটার সঙ্গে থাকছে উপহার জেতার সুযোগ, ফ্যাশন শো-য়ে পুজো অফারের সূচনা অ্যাক্রোপলিস মলে

তবে দিনের শেষে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করলে শরীরে ‘ফিল গুড’ হরমোন ক্ষরিত হয়। পাশাপাশি প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টার ভালো ঘুম কর্টিসল হরমোন স্বাভাবিক রাখতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নেয়। তাই সুষম খাদ্যের পাশাপাশি দরকার পর্যাপ্ত ঘুম যা শরীরকে তরতাজা রাখতে ভীষণ জরুরি।