ফের শুরু শুল্ক যুদ্ধ। রাশিয়া থেকে তেল-গ্যাস কেনা দেশগুলির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের পথে আরও এক ধাপ এগোল আমেরিকা (America)। রাশিয়ার উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে আনা হয়েছে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ (Lindsey O. Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026)  বিলটি।  আর এই বিলটির পক্ষে মার্কিন হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ২১৪-২১১ ভোটে পাস হয়েছে।

সূত্রের খবর, বিলটি আইনে পরিণত হলে রাশিয়ার জ্বালানি কিনছে এমন দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পেতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। সেই সম্ভাব্য তালিকায় ভারতের (India) নামও রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে ভারতের পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়নি। হাউসে এখনও বিলটির চূড়ান্ত ভোট বাকি। 

আরও পড়ুন: আদালতে শুনানির আগের দিনই জমি ফেরত, বন্ধুর অভিযোগে বড় পদক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর


রাশিয়া-ইউক্রেন ( Russia-Ukraine) যুদ্ধের পর থেকেই মস্কোর উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন আইনপ্রণেতাদের যুক্তি, রাশিয়ার (Russia) জ্বালানি বিক্রি থেকে পাওয়া আয় যুদ্ধের অর্থ জোগাতে সাহায্য করছে। তাই  রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের সবচেয়ে বড় পাঁচ আমদানিকারক দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ‘সেকেন্ডারি ট্যারিফ’-এর ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছিল। হাউসের আলোচনায় অবশ্য ভারতের নাম সরাসরি সামনে এসেছে। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান স্টেনি হোয়ারের প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ভারত, চিন, তুরস্ক, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, স্লোভাক প্রজাতন্ত্র, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান এবং কিরগিজ প্রজাতন্ত্রকে সম্ভাব্য ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।

 

অন্যদিকে, বিলের শুল্ক সংক্রান্ত ক্ষমতা নিয়েও মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি মিক্স বিলের ১১৩ নম্বর ধারা বাদ দেওয়ার সংশোধনী এনেছেন। ওই ধারাতেই রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলির উপর ‘সেকেন্ডারি ট্যারিফ’ চাপানোর জন্য প্রেসিডেন্টকে বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। ফলে হাউসে কোন সংশোধনী গৃহীত হলে সেটিও ভারতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারতের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রাশিয়া দেশের অন্যতম প্রধান অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী।

রুশ তেল কেনার কারণেই যদি ভবিষ্যতে ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত মার্কিন শুল্ক চাপানো হয়, তা হলে আমেরিকার বাজারে ভারতীয় রফতানির খরচ বাড়তে পারে। একইসঙ্গে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কেও তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আপাতত বিষয়টি সম্ভাব্য শুল্কের হুমকি, কার্যকর ১০০ শতাংশ শুল্ক নয়। হাউসের চূড়ান্ত ভোট, প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলির ভাগ্য এবং শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের পরই স্পষ্ট হবে ভারতের উপর এই ব্যবস্থা বাস্তবে কার্যকর হবে কি না।