ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের নতুন নীতি নিয়ে এ বার শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হলেন এক আইনজীবী। ইউপিআইয়ের মাধ্যমে ব্যবসায়ী বা মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টে ২ হাজার টাকার বেশি লেনদেনে নির্দিষ্ট হারে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) চাপানোর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করলেন আইনজীবী অঞ্জন দত্ত। তাঁর অভিযোগ, কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্য বা যুক্তি ছাড়াই এই কাঠামো তৈরি করা হয়েছে এবং তা সংবিধানের একাধিক মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।
আইনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘বার অ্যান্ড বেঞ্চ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলাকারীর প্রধান আপত্তি নতুন এমডিআর কাঠামোর নীতিগত ভিত্তি নিয়ে। তাঁর দাবি, ২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনকে এই অতিরিক্ত খরচের বাইরে রাখা এবং মাসে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা গ্রহণের ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত কেন্দ্র নিয়েছে, তার সমর্থনে কোনও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য প্রকাশ্যে রাখা হয়নি। সম্পূর্ণ খামখেয়ালি ভাবে এই আর্থিক সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে পিটিশনে অভিযোগ করা হয়েছে।
আবেদনে আরও একটি অসঙ্গতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। মামলাকারীর বক্তব্য, ২ হাজার টাকার লেনদেনে কোনও এমডিআর দিতে না হলেও লেনদেনের অঙ্ক মাত্র এক টাকা বেড়ে ২ হাজার ১ টাকা হলেই অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপছে। এর ফলে মাত্র এক টাকার পার্থক্যের জন্য দু’জন ব্যবসায়ীর মধ্যে স্পষ্ট বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি, নতুন নিয়মে এমডিআরের সর্বোচ্চ সীমা বা ক্যাপ নির্দিষ্ট করে দেওয়ার ফলে বড় অঙ্কের ব্যবসায়ীরা কার্যত বেশি সুবিধা পাচ্ছেন। কারণ, একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের পর লেনদেনের পরিমাণ যত বড়ই হোক না কেন, এমডিআরের পরিমাণ আর বাড়ছে না।
মামলাকারীর দাবি, কেন্দ্রের এই বৈষম্যমূলক নীতি ভারতীয় সংবিধানের সমতার অধিকার (১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ) এবং স্বাধীন ভাবে ব্যবসা বা পেশা পরিচালনার অধিকার (১৯ নম্বর অনুচ্ছেদের ১(জি) উপধারা)-কে সরাসরি লঙ্ঘন করছে। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, দেশের কোটি কোটি নাগরিক ও ব্যবসায়ীর আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত এত বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে কার্যকর করা যায় না। এ বিষয়ে স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন ছিল বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। শীর্ষ আদালতে এই মামলার শুনানির দিকেই এখন তাকিয়ে দেশের বাণিজ্যিক ও উপভোক্তা মহল।
















