তেরো বছর আগের ঝিরমকাণ্ডে অবশেষে এল আদালতের রায়। ছত্তিশগড়ের (Chhattisgarh) রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ মাওবাদী হামলার (Maoist Attack) মামলায় ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিল জগদলপুরের বিশেষ এনআইএ আদালত (Special NIA Court, Jagdalpur)। দুই মহিলা-সহ দোষী সাব্যস্ত ১০ জনের বিরুদ্ধে হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে আদালত জানিয়েছে। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর বুধবার সাজা ঘোষণায় ফের সামনে এল ২০১৩ সালের সেই রক্তাক্ত অধ্যায়।
সেদিনের হামলায় ছত্তিশগড় কংগ্রেস কার্যত নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়েছিল। ২৫ মে বস্তারের ঝিরম উপত্যকায় কংগ্রেসের ‘পরিবর্তন যাত্রা’র কনভয়কে নিশানা করে মাওবাদীরা। হামলায় প্রাণ হারান তৎকালীন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নন্দ কুমার প্যাটেল, তাঁর ছেলে দীনেশ, মহেন্দ্র কর্মা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিদ্যাচরণ শুক্ল এবং বিধায়ক উদয় মুদলিয়ার-সহ একাধিক নেতা। নিরাপত্তাকর্মী ও দলের কর্মীরাও নিহত হন। ঘটনাটির অভিঘাত শুধু একটি রাজনৈতিক দলের উপর নয়, গোটা ছত্তিশগড়ের রাজনীতিতেই পড়েছিল।
মামলার তদন্তভার নেয় এনআইএ। দীর্ঘ তদন্তের পরে একাধিক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা এগোয়। শেষ পর্যন্ত বিচারাধীন ১০ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রমিলা মোডিয়াম, চইতু লেকাম ওরফে মুন্না, সুমিত্রা পুনেম মোডিয়াম, মুক্কা মান্ডভি, কোসা কাওয়াসি, আয়তা মারকাম, মাদকাম দেবা, জোগা মাদকাম, বানজামি সানা ওরফে চামরু এবং মহাদেব নাগ। আদালতের রায়ে হামলার নৃশংসতার জন্য তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাজা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে সাজা ঘোষণার পরও ঝিরমকাণ্ড ঘিরে সব প্রশ্নের অবসান হয়নি। তৎকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, এত বড় রাজনৈতিক কনভয়ের গতিবিধি সম্পর্কে মাওবাদীরা কী ভাবে আগাম তথ্য পেল সেই প্রশ্ন ফের তুলেছে কংগ্রেস। প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী টিএস সিং দেওয়ের বক্তব্য, এত গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা নিয়েও জবাবদিহি প্রয়োজন। ফলে আদালতের রায়ে অভিযুক্তদের শাস্তি হলেও ঝিরমকাণ্ডের রাজনৈতিক বিতর্ক এখনও পুরোপুরি থামছে না।
















