সীমান্তপারের অস্ত্র-মাদক পাচার থেকে দেশে নাশকতার ছক। অভিযোগের দীর্ঘ তালিকা থাকা ‘শেহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক’-এর (Shehzad Bhatti Network) বিরুদ্ধে এ বার সরাসরি ইউএপিএ-র (UAPA) কোপ। বুধবার নেটওয়ার্কটিকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Union Home Minister Amit Shah) জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ নীতির ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অভিযোগ, কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে সক্রিয় এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে সীমান্তপারের অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদক পাচারের যোগ রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় যুবক এবং ছোটখাটো অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে টেনে আনার চেষ্টাও চালানো হত বলে দাবি কেন্দ্রের। শুধু তাই নয়, দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও সামাজিক সম্প্রীতিকে আঘাত করার উদ্দেশ্যে ডিজিটাল মাধ্যমে ঘৃণা ও উসকানিমূলক প্রচার চালানোর অভিযোগও রয়েছে।

এই নেটওয়ার্কের তদন্তে পশ্চিমবঙ্গের নামও উঠে এসেছে। সম্প্রতি রাজ্য পুলিশের এসটিএফ বর্ধমান থেকে হামিম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Chief Minister Suvendu Adhikari) উপর হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগের তদন্তে হামিমের সঙ্গে পাকিস্তানি গ্যাংস্টার শেহজাদ ভাট্টি এবং তার সহযোগী আজমল গুজ্জরের যোগাযোগের তথ্য সামনে আসে বলে তদন্তকারীদের দাবি। স্বাধীনতা দিবসের আগে ভাট্টি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে একাধিক রাজ্যে সমন্বিত অভিযানও চালানো হয়েছিল।

সেই অভিযানে IED, পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির চিহ্নযুক্ত গ্রেনেড, পিস্তল ও গুলি উদ্ধারের কথা জানিয়েছে কেন্দ্র। নজরদারির কাজে ব্যবহৃত CCTV সরঞ্জাম উদ্ধারের কথাও বলা হয়েছে। একাধিক রাজ্যে ধরপাকড় ও তদন্তের পর এ বার ইউএপিএ-র আওতায় নেটওয়ার্কটিকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা আরও কড়া করল কেন্দ্র।