এশিয়ান গেমসের (Asian Games) আসর বসতে এখনও দিন কয়েক বাকি। আয়োজক জাপানের (Japan) ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একদিকে থাকার ঘর পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে ভারত-সহ একাধিক দেশের অ্যাথলিটদের। অন্যদিকে, যে অস্থায়ী ঘর মিলছে, তার আকার ও পরিকাঠামো নিয়েও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কোথাও ছ’ফুটের বেশি উচ্চতার খেলোয়াড়দের ছোট বিছানায় গুটিয়ে শুতে হচ্ছে, কোথাও আবার বৃষ্টির জলে ঘরের মেঝে ভিজে যাচ্ছে। ফলে প্রতিযোগিতা শুরুর আগেই চাপে আয়োজকরা।
আরও পড়ুন: ‘দাদা’র শ্যুটিংয়ের জেরে ইংল্যান্ডের পিচ নষ্ট! কড়া শাস্তি জনপ্রিয় কাউন্টি ক্লাবের
ভারতীয় দলও বাদ যায়নি এই সমস্যার তালিকা থেকে। ব্যাডমিন্টন, টেবল টেনিস, রোয়িং, শুটিং এবং অ্যাথলেটিক্সের দল ইতিমধ্যেই আইচি-নাগোয়ায় পৌঁছেছে। তাঁদের মধ্যে আগে পৌঁছনো দলগুলিকেই সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার পৌঁছনো ভারতীয় শুটিং দলের সদস্যদের নির্ধারিত সময়ে ঘর না মেলায় গেমস সেন্টারের লবিতে রাত কাটাতে হয়। বুধবার পৌঁছনো এক ভারতীয় কোচের দাবি, দুপুর দেড়টায় সেখানে পৌঁছেও রাত দশটার আগে ঘর মেলেনি। পরে গেমস সেন্টার থেকে দূরের একটি হোটেলে তাঁদের পাঠানো হয়। সাপোর্ট স্টাফদের ক্ষেত্রেও অপেক্ষার সময় আরও বেশি ছিল বলে অভিযোগ।
আবাসন সমস্যার জেরে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশের দলকে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে। বাড়তি অতিথিদের সামলাতে নাগোয়া বন্দরে থাকা একটি ইতালীয় ক্রুজ জাহাজে প্রায় পাঁচ হাজার জনের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাকিদের রাখা হয়েছে বিভিন্ন হোটেলে। আয়োজকদের পরিকল্পনায় শুরুতে প্রায় ১৫ হাজার অতিথির থাকার কথা থাকলেও টেকবল ও প্যাডেল গেমস যুক্ত হওয়ার পর সেই সংখ্যা ১৭ হাজার ছাড়িয়ে যায়। আয়োজক কমিটির দাবি, এই অতিরিক্ত চাপ সামলানোর মতো পর্যাপ্ত বাজেট এবং কর্মী তাঁদের হাতে ছিল না।
এরই মধ্যে আবাসনের মান নিয়েও প্রকাশ্যে এসেছে একাধিক অভিযোগ। প্রায় দু’হাজার অ্যাথলিটকে রাখার জন্য তৈরি অস্থায়ী কাঠের ঘরগুলির আয়তন নিয়ে আপত্তি তুলেছে দক্ষিণ কোরিয়া। বিশেষ করে বেশি উচ্চতার খেলোয়াড়দের ছোট বিছানায় ঘুমাতে সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ। তার উপর নাগোয়ায় প্রবল বৃষ্টির পর কয়েকটি ঘরের ছাদ চুঁইয়ে জল পড়ার ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। ঘরের মেঝেতে জল জমে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার বাস্কেটবল মহলের এক কর্তা এই ব্যবস্থাপনাকে ‘নিকৃষ্টতম’ বলে মন্তব্য করেছেন।
এদিকে, প্রতিযোগিতার আগে অনুশীলনের জায়গা নিয়েও ভারতীয় দলের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যদিও অস্থায়ী ঘরের সঙ্গে খেলোয়াড়দের মানিয়ে নিতে ভারতে একই মাপের ঘর তৈরি করে প্রস্তুতি নেওয়ানো হয়েছিল। আয়োজক কমিটির তরফে অ্যাথলিটদের অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বাস্কেটবল ও ফুটবলের কয়েকটি ম্যাচ শুরু হয়ে গেলেও শনিবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে আবাসন সংক্রান্ত সমস্যাগুলি মেটানোই এখন আয়োজকদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
















