রাশিয়ার উপর চাপ বাড়াতে আরও কঠোর হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ১০০ শতাংশ শুল্ক নীতি বিল থেকে আইনে পরিণত হল মার্কিন মুলুকে। রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর বিল পাস হয়েছিল আগেই। এবার সেই বিল আইনে পরিণত হল আমেরিকায়। সই করে দিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার (স্থানীয় সময়) প্রায় ৩টের সময় ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’-কে আইনে পরিণত হয়েছে আমেরিকায়। অর্থাৎ রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার জন্য ভারত, চিনের মতো দেশের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর ক্ষেত্রে কোনও বাধা থাকল না। ফলে চাপ আরও বাড়ল ভারতের উপর।রাশিয়ার তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা নির্দিষ্ট দেশগুলির পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ট্রাম্পকে।
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আমেরিকার এই আইনের উদ্দেশ্য ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন বন্ধ করা । রাশিয়ার উপর চড়া শুল্ক এবং একাধিক বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি এই আইনে তাই রাশিয়ার সহযোগী দেশগুলিকেও নিশানা করা হয়েছে। যে দশটি দেশের নাম আছে তার মধ্যে অন্যতম ভারতও। নতুন বিল পাশ হওয়ার পরই যে আমেরিকা ভারতের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপাবে তা নয়, তবে ১০টি দেশের নাম সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে ভারত অন্যতম। এখন ট্রাম্প তাঁর ক্ষমতা প্রয়োগ করতে চাইলে ভারতে উপরেও চাপবে শুল্ক।
মার্কিনী আইন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয় যেতে সক্ষম হচ্ছে কারণ তাদের নিজস্ব জ্বালানি ও তেল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত বিপুল রাজস্ব । সেই কারণে ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন রাশিয়ার এই আয়ের রাস্তাকে পুরোপুরি বন্ধ করতে চাইছে। সেই লক্ষ্যেই ‘লিন্ডসে ও.গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া এবং ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ আইনটিতে প্রণয়ণ করা হয়েছে।
ভারতের তরফে সতর্ক করা হয়েছে, নতুন শুক্ল নীতি চাপানো হলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব পড়তে পারে। মার্কিন মুলুকে এই বিল পাশ হওয়ার পরই নয়া দিল্লি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে সবরকম প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে ।
এর আগে, গত বছর দু'দফায় ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিলেন ট্রাম্প। এবছর ফেব্রুয়ারি মাসেই সেই অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়। ভারতের উপর চাপ আরও বাড়ল। ব্রিকস শেষ হতেই নয়া চাল দিলেন ট্রাম্প।
















