মায়ের আইফোনটা (iPhone) সঙ্গে নিয়েই বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল ১৩ বছরের ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি ইশায়াত। বাংলাদেশের (Bangladesh) ঘটনা এটি। গোটা দিন ধরে খোঁজাখুঁজির পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (Comilla University) কাছে লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে উদ্ধার হল সপ্তম শ্রেণির ওই পড়ুয়ার দেহ। তার সঙ্গে থাকা আইফোনটিরও কোনও সন্ধান মেলেনি। ফলে প্রাথমিক ভাবে পুলিশের সন্দেহ, ফোনের লোভেই খুন করা হয়ে থাকতে পারে ওই নাবালককে।
আরও পড়ুন: উপনির্বাচনের মুখে হুমায়ুনকে থানায় তলব, উস্কানিমূলক বক্তব্যের মামলায় নোটিশ
ইশায়াত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকত কিশোর। পরিবার সূত্রে খবর, শুক্রবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে যাওয়ার কথা বলে মায়ের আইফোনটা নিয়ে বাড়ি থেকে বেরোয় ইশায়াত। সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও ছেলে বাড়ি না ফেরায় শুরু হয় খোঁজ। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গন্ধমতী এলাকায় ফোনটির অবস্থান শনাক্ত করা যাচ্ছিল। এরপরই ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়। উদ্বিগ্ন পরিবার পুলিশের কাছে নিখোঁজ ডায়েরি করে। শুরু হয় তল্লাশি।
এর মধ্যেই শনিবার সকালে আসে চাঞ্চল্যকর খবর। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছেই লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গলে বাঁশ কাটতে গিয়ে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা মাটিতে একটি কিশোরের দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পৌঁছয় পুলিশের কাছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দুপুর ১টা নাগাদ দেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিচয় নিশ্চিত হলে জানা যায়, মৃত কিশোরটি নিখোঁজ ইশায়াতই।
আরও পড়ুন: কথা বলার ক্ষমতা কমেছে নিকিতার, সিটঙের ঘটনায় গ্রেফতার হোমস্টে মালিক-সহ ৪
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইশায়াতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীরা দু’টি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। ইশায়াতের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত কারা ছিল এবং তার মায়ের আইফোনটি কোথায় গেল। ফোনটির সন্ধানেও তল্লাশি শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ফোনের জন্যই খুনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। গোটা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
















