মাত্র ১১ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক রেকর্ডের মঞ্চে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের যশমিতা দত্ত (Yashmita Dutta from Madhyamgram, North 24 Parganas)। এক মিনিটের মধ্যে ২০টি মিউজিক্যাল কর্ড শনাক্ত করে গিনিস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে (Guinness Book of World Records) নাম তুলেছে বারাসতের অ্যাডামাস ওয়ার্ল্ড স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির এই পড়ুয়া। ছোট বয়সেই সুরের এত সূক্ষ্ম পার্থক্য ধরতে পারার দক্ষতায় ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে যশমিতা। 

সুরের সঙ্গে তার সম্পর্ক অবশ্য ছোটবেলা থেকে। সাড়ে চার বছর বয়সে মায়ের কাছে গান শেখার শুরু। তার পরেই কিবোর্ডের তালিম। হারমোনিয়াম (Harmonium), গিটারের পাশাপাশি হারমোনিকা (Harmonica), মেলোডিকা এবং ক্যাসিও বাজাতেও দক্ষ সে। কোনও গান বা সুর শুনে তার নোট ও কর্ড দ্রুত শনাক্ত করতে পারে যশমিতা। ঘরে সাজানো একাধিক ট্রফি, মেডেল ও পুরস্কার তার সেই অনুশীলনেরই সাক্ষ্য। বিভিন্ন রিয়্যালিটি শোয়ে (Reality show) অংশ নেওয়ার পাশাপাশি অল ইন্ডিয়া রেডিয়োয় (All India Radio) শিশু শিল্পী হিসেবেও গান গেয়েছে সে।

আরও পড়ুন: ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর রাজু এবার প্রেমের গল্পে, দার্জিলিঙে শুরু শুটিং

আন্তর্জাতিক রেকর্ডের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল জানুয়ারি থেকে। ৪ জানুয়ারি নিজের দক্ষতার পরীক্ষা জমা দেয় যশমিতা। প্রায় ছ’মাসের অপেক্ষার পর জুলাইয়ে আসে সেই খুশির খবর। এর আগে ২০২৫ সালেও রেকর্ড গড়েছিল সে। দু’মিনিট দু’সেকেন্ডে ৩৯টি মিউজিক্যাল নোট এবং ২০টি কর্ড শনাক্ত করে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে (India Book of Records) নাম তুলেছিল এই খুদে শিল্পী। এবার সেই সাফল্যের মুকুটে যোগ হল গিনিসের স্বীকৃতি। 

আইটি পেশায় যুক্ত বাবা একনিষ্ঠ দত্ত এবং গৃহবধূ মা কোয়েল দত্তের উৎসাহ ও সহযোগিতা এবং নিজের কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যাবসায় তাঁর সাফল্যের অন্যতম কারণ। তবে রেকর্ডে নাম তোলাই তার শেষ লক্ষ্য নয়। ভবিষ্যতে প্লেব্যাক সিঙ্গার হতে চায় সে। আর সেই স্বপ্নের তালিকায় রয়েছে আরও বড় একটি নাম। সুরকার এ আর রহমানের সঙ্গে কাজ করা। যশমিতার কথায়, সুরের এই যাত্রা এখনও অনেকটা বাকি।