দার্জিলিঙে (Darjeeling) পাহাড়ি হাওয়ায় এখন ভেসে আসছে ‘অ্যাকশন’ আর ‘কাট’-এর শব্দ। কুয়াশায় মোড়া রাস্তা, পুরনো ঔপনিবেশিক স্থাপত্য আর চা-বাগানের সবুজের মাঝে চলছে নতুন বাংলা ছবি ‘ভালবাসার মরশুম’-এর (Bhalobashar Morshum) শুটিং। আর সেই শুটিং ঘিরে পাহাড়ের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছেন বলিউডের পরিচিত অভিনেতা শরমন জোশী (Sharman Joshi) । ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর রাজু রাস্তোগী এবার একেবারে অন্য চরিত্রে, বাংলা ছবির পর্দায় প্রেমের গল্প নিয়ে হাজির হতে চলেছেন।

আরও পড়ুন: মাতৃত্বের পর বডি শেমিং! ‘সৌন্দর্য তো মনে’, নিন্দুকদের কড়া জবাব ক্যাটরিনার

এম এন রাজ (MN Raj ) পরিচালিত এই ছবিই শরমন জোশীর প্রথম বাংলা ছবি (Bengali Film)। দার্জিলিংয়ের একাধিক মনোরম জায়গায় গত কয়েকদিন ধরে চলছে ছবির গুরুত্বপূর্ণ অংশের শুটিং। মল রোড, স্কুল চত্বর, ব্লুমফিল্ড চা-বাগান-সহ পাহাড়ের নানা প্রান্তে ক্যামেরাবন্দি হচ্ছে ছবির দৃশ্য। কখনও পাহাড়ি পথ, কখনও পুরনো শহরের স্থাপত্য, আবার কখনও কুয়াশার চাদরে ঢাকা পরিবেশ সব মিলিয়ে ছবির দৃশ্যপটে দার্জিলিং যেন নিজেই হয়ে উঠেছে গল্পের একটি চরিত্র।ছবিতে শরমনের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন অভিনেত্রী সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায় ( Susmita Chatterjee)। সেই সঙ্গে দেখা যাবে বাংলাদেশি অভিনেত্রী শিবানী সঙ্গীতাকেও। 

শরমনের সঙ্গে ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর স্মৃতিও যেন ফিরে এসেছে পাহাড়ে। দীর্ঘদিন পর দার্জিলিংয়ে ফিরে এসে অভিনেতা জানিয়েছেন, প্রায় ১৫ বছর পর তাঁর এই শহরে আসা। পুরনো অনেক স্মৃতি মনে না থাকলেও পাহাড়ের আবহাওয়া তাঁকে মুগ্ধ করেছে। বাংলা ভাষা তাঁর কাছে এখনও খুব পরিচিত নয়, তবে সহ-অভিনেত্রী সুস্মিতা তাঁকে সংলাপ বুঝতে সাহায্য করছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। পরিচালকের উৎসাহ ও পুরো দলের আন্তরিকতাও তাঁর ভাল লেগেছে।

সুস্মিতার কাছেও এই শুটিং আলাদা অভিজ্ঞতা। দার্জিলিংয়ে বহুবার গেলেও সেখানে প্রথমবার ছবির শুটিং করছেন তিনি। শরমন সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য, অভিনেতা অত্যন্ত আন্তরিক এবং ভদ্র। ফলে শুটিংয়ের পরিবেশও বেশ স্বচ্ছন্দ।

দার্জিলিংয়ের পর ছবির শুটিং হবে মুর্শিদাবাদ ও কলকাতার বিভিন্ন জায়গায়। অর্থাৎ গল্পের পরিসর শুধু পাহাড়ে আটকে থাকছে না। পাহাড়ের কুয়াশা, মুর্শিদাবাদের পুরনো আবহ এবং কলকাতার শহুরে পরিসর—তিন ভিন্ন পরিবেশের মধ্যে দিয়ে এগোবে গল্প।

তবে দার্জিলিংকে বেছে নেওয়ার পিছনে শুধু সৌন্দর্য নয়, সিনেমার দীর্ঘ ইতিহাসও রয়েছে। সত্যজিৎ রায়ের ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’ থেকে শুরু করে হিন্দি ছবির ‘আরাধনা’, ‘রাজু বন গয়া জেন্টলম্যান’, ‘বরফি!’—বহু ছবির গল্প ও দৃশ্যায়নে দার্জিলিং গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পাহাড়ি রেল, কুয়াশা, আঁকাবাঁকা রাস্তা এবং পুরনো স্থাপত্য বারবার ভারতীয় সিনেমার দৃশ্যভাষাকে সমৃদ্ধ করেছে। তবে ‘ভালবাসার মরশুম’-এর ক্ষেত্রেও পাহাড়কে শুধু পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। প্রেম, বিচ্ছেদ, পুরনো সম্পর্ক ও নতুন অনুভূতির গল্পের সঙ্গে দার্জিলিঙের আবহকে মিলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। 

মেহর এন্টারটেনমেন্ট ভেঞ্চার্স, হিমানি ফিল্মস এবং সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থার যৌথ উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে ছবিটি। পাহাড়ের শুটিং শেষ করে এবার গল্প এগোবে অন্য শহরের দিকে। কিন্তু তার আগেই ‘ভালবাসার মরশুম’-এর শুটিং তৈরি করেছে আলাদা কৌতূহল। বলিউডের পরিচিত মুখ শরমন জোশীকে এবার বাংলার প্রেমের গল্পে ঠিক কোন রূপে দেখা যাবে, সেই উত্তর মিলবে ছবি মুক্তির পরেই।