বলিউডের অন্যতম সেরা ও প্রভাবশালী ‘পাওয়ার কাপল’ শাহরুখ খান এবং গৌরী খান। দেখতে দেখতে তাঁদের বৈবাহিক জীবন তিন দশকের গণ্ডি পার করে ফেলেছে। কিন্তু আজও যখনই তাঁদের শুরুর দিনগুলোর কথা ওঠে, তখন অবধারিতভাবে সামনে আসে পাহাড়ের রানি দার্জিলিং এবং সেখানকার ঐতিহ্যবাহী হোটেল ‘দ্য এলগিন’! আজ কোটি কোটি টাকার মালিক হলেও, ক্যারিয়ারের শুরুতে কিং খানের পকেটের অবস্থা এমন ছিল না। আর সেই অভাবের দিনেই এক মিষ্টি মধুর ‘মিথ্যা’ দিয়ে শুরু হয়েছিল তাঁদের দাম্পত্য সফর।

আরও পড়ুন: মাতৃত্বের পর বডি শেমিং! ‘সৌন্দর্য তো মনে’, নিন্দুকদের কড়া জবাব ক্যাটরিনার

১৯৯১ সালের ২৫ অক্টোবর সাতপাকে বাঁধা পড়েন শাহরুখ ও গৌরী। বিয়ের আগে মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে গৌরীকে শাহরুখ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বিয়ের পর তাঁকে ভালবাসার শহর প্যারিসে নিয়ে গিয়ে আইফেল টাওয়ার দেখাবেন। কিন্তু বিয়ের পর দেখা গেল শাহরুখের পকেটে না আছে টাকা, আর না আছে বিমানের টিকিট! ঠিক সেই সময়েই পরিচালক আজিজ মির্জার ‘রাজু বান গায়া জেন্টলম্যান’ ছবির একটি গানের শুটিং ঠিক হয় দার্জিলিং-এ। সুযোগ হাতছাড়া না করে বুদ্ধিমান শাহরুখ গৌরীকে বোঝান যে তাঁরা প্যারিস যাচ্ছেন। যেহেতু গৌরী আগে কখনো বিদেশ যাননি, তাই শাহরুখ মজা করে তাঁকে ‘প্যারিস’ বলেই দার্জিলিং-এর পাহাড়ে নিয়ে আসেন। ছবিটির প্রযোজক বিবেক ভাসওয়ানি এবং পুরো শুটিং টিমের সঙ্গেই ট্রেনে চেপে নবদম্পতি এসে পৌঁছান পাহাড়ে। ঘটনাচক্রে, তাঁদের এই হানিমুনের পুরো খরচটাই বহন করেছিল ছবির প্রোডাকশন টিম!

আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবসে অভিনব চমক! ঋতুপর্ণার নতুন থ্রিলারে ক্যামেরার সামনে শুধুই নারীবাহিনী

দার্জিলিং-এ এসে তাঁরা আস্তানা গেড়েছিলেন ১৮৮৭ সালের ঐতিহ্যবাহী হেরিটেজ হোটেল The Elgin-এ। কোচবিহারের মহারাজার এই প্রাক্তন গ্রীষ্মকালীন প্রাসাদের রাজকীয় অন্দরমহল আর বার্মা টিকউডের আসবাবের মাঝেই কেটেছিল তাঁদের জীবনের অন্যতম সেরা ২০-৩০টি দিন। ছবির লেখক মনোজ লালওয়ানি পরবর্তীকালে এক সাক্ষাৎকারে স্মৃতিচারণ করে জানান, সেই সময় দার্জিলিং-এ প্রচণ্ড ঠান্ডা ছিল। অথচ নতুন বর-বউ অর্থাৎ শাহরুখ-গৌরীর ঘরে কোনও রুম হিটার ছিল না! পরে পরিচালক আজিজ মির্জা এবং মনোজবাবু নিজেদের ঘরের একমাত্র হিটারটি এই নতুন জুটিকে দিয়ে দেন। পর্দার নায়ক বাস্তবে রোম্যান্স করতে পারবেন না তাও আবার হয় নাকি! পাহাড়ি ঠাণ্ডা সঙ্গে গৌরীর উষ্ণতায় নায়ক যে গুনগুন করে উঠেছিলেন ‘সিনে মে দিল হ্যায়, দিল মে হ্যায় ধাড়কান, ধাড়কান মে হ্যায় তু হি তু’ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। 

আরও পড়ুন: গুগল ম্যাপের দেখানো পথেই বিপদ! ধস নামা রাস্তায় খাদে বাইকচালক

কয়েক বছর আগে একটি পুরস্কার মঞ্চে দাঁড়িয়ে শাহরুখ নিজেই হেসে এই গল্পটি শেয়ার করেছিলেন। সেই সফরের একটি ভিন্টেজ ছবি আজও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল, যেখানে দেখা যায় পাহাড়ের পটভূমিতে দাঁড়িয়ে আছেন তরুণ শাহরুখ, আর পাশে স্থানীয় পাহাড়ি পোশাকে পিঠে বাঁশের ঝুড়ি নিয়ে খিলখিলিয়ে হাসছেন নতুন বউ গৌরী। শাহরুখের মতে, এটি আজও তাঁর জীবনের অন্যতম প্রিয় ছবি। আজ শাহরুখ খান বিশ্বজোড়া খ্যাতির অধিকারী, মন্নতের মালিক। কিন্তু The Elgin, Darjeeling-এর প্রতিটি কোণ, কাঠের করিডোর আর ভিন্টেজ ফায়ারপ্লেসগুলো আজও যেন ফিসফিস করে শুনিয়ে যায় বলিউডের ‘বাদশা’ আর ‘বেগম’-এর সেই সরল, সাধারণ আর ভালবাসায় মোড়া দিনগুলির গল্প।